× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রোজার আগে আবার তেলের বাজার গরম করার পাঁয়তারা

ফারুক আহমাদ আরিফ, ঢাকা ও হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০১:০৯ এএম

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১০:৫২ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। চট্টগ্রামের ঈদগাঁ বরফকল এলাকার সতেজ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সয়াবিন তেল কিনতে যান একজন ক্রেতা। দুই লিটারের এক বোতল তেল চাইলে তাকে বলা হয়, দুই লিটারের বোতল নেই। কেন নেই জানতে চাইলে দোকানদার মোহাম্মদ ইস্রাফিল জানান, বাজারে এখন সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। অর্ডার দিয়েও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ১০ কার্টন চাইলে এক কার্টন দিচ্ছে ডিলাররা। আবার কিছু কিছু কোম্পানি এক কার্টনও দিচ্ছে না।

একই অবস্থা চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন মুদি দোকানে। নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার, কাজির দেউড়ি বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে সয়াবিন তেলের সরবরাহ অনেক কম। কাজির দেউড়ি বাজারের সাদিয়া ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক মো. সামছুল আলম বলেন, অর্ডার দিয়েও সয়াবিন তেলের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি কোম্পানি চাহিদার ১০ থেকে ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করলেও সয়াবিন তেলের সঙ্গে অন্য পণ্য কিনতে বাধ্য করছে।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ক্যাব) বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রমজানকে টার্গেট করে অসাধু ব্যবসায়ী, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও মিল মালিকদের সিন্ডিকেট বাজার থেকে ভোজ্য তেল উধাও করছে। সরবরাহ না করে লাইটার জাহাজসহ ডিপোতে তেল মজুদ করে রেখেছেন। যে কারণে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলছে না। 

বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহও কমে গেছে। ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সয়াবিন তেলের সরবরাহ ৬০ শতাংশ কমেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, শুধু বোতলজাত সয়াবিন তেল নয়, ড্রামভর্তি সয়াবিন তেলের সরবরাহও আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক কম। খাতুনগঞ্জে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সয়াবিন তেলের সরবরাহ ৬০ শতাংশ কমেছে বলে তিনি জানান। সয়াবিন তেলের ডিও (ডিমান্ড অর্ডার) কিনে সরবরাহ পেতে এক মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। 

খাতুনগঞ্জে ঘুরে দেখা যায়, যারা সয়াবিন তেলের ডিও কিনেছেন, তারা অন্তত ২৫ থেকে ৩০ দিন পর সরবরাহ পাচ্ছেন। তবে বাজারে পাম অয়েল তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। খাতুনগঞ্জে এখন প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৮৫০ টাকায়। অন্যদিকে প্রতি মণ সয়াবিন তেলের ডিও বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৫০০ টাকায়। 

সরবরাহ কমায় একাধিক দোকান ঘুরেও চাহিদামতো তেল কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। যে কারণে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। কিছুদিন আগেও বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় পাওয়া যেত। একই তেল কিনতে এখন বোতলপ্রতি বাড়তি পরিশোধ করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। 

রাজধানীর বাজারচিত্র

গত নভেম্বরের মতো আবারও ভোজ্য তেলের সংকট দেখা দিয়েছে রাজধানীর বাজারগুলোতে। চট্টগ্রামের মতো রাজধানীর বাজারগুলোতে আবারও ভোজ্য তেলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। টি কে গ্রুপের পুষ্টি ও সিটি গ্রুপের তীর ব্র্যান্ডের তেলের সরবরাহ কিছুটা থাকলেও বাকি কোনো প্রতিষ্ঠান তেল সরবরাহ করছে না। বিক্রেতারা বলছেন, বসুন্ধরা গ্রুপের তেল বাজারে আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তেলের সরবরাহে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে। এটি মাস থেকে শুরু হয়ে গত ১৫ দিনে বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সিটি গ্রুপ কিছু তেল দিলেও সান লবণ, আটা ও সুজি কেনার শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। শুধু শর্ত নয়, বরং তেলের অর্ডার নিয়ে লবণ, আটা বা সুজিসহ তিনটি পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। মহাখালী কাঁচাবাজারের ভাই ভাই জেনারেল স্টোরের কর্ণধার মো. গিয়াস উদ্দিন গতকাল রবিবার বলেন, তেলের দাম বাড়েনি তবে তেল মিলছে না। আগের মতোই ১ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৭৫ টাকা, ২ লিটার ৩৫০ ও ৫ লিটার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

কুড়িল বিশ্বরোডের মুক্তিযোদ্ধা কেবি বাজারের বিক্রেতা মো. রাসেল বলেন, বোতলজাত তেল পাওয়াই যাচ্ছে না। এ অবস্থায় খোলা সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা লিটারে ও পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়। একই বাজারের আজিম উদ্দিন বলেন, আমরা তেল পাচ্ছি না। ১৫ দিন ধরে এই অবস্থা বিরাজ করছে। ফ্যামেলি নামে বোতলজাত পাম ১৭৩ টাকা লিটারে বিক্রি করছে সিটি গ্রুপ। তারা আটা, সুজি ও লবণ কেনার শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। এই কোম্পানি থেকে দুই কেজি আটা ৯০-৯৫ টাকায় কিনতে হয়। সুজি কিনতে হয় ৩৮ টাকায়। 

৭ মাসে আমদানি ২২ লাখ ২৯ হাজার টন

বাজারে তেলের সংকট থাকলেও আমদানির তথ্যে পাওয়া যায় ভিন্নচিত্র। দেখা গেছে, আমদানিতে কোনো ঘাটতি নেই। চলতি অর্থবছরের গত সাত মাসে চাহিদার চেয়ে বেশি সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোজ্য তেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে গত সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) আমদানি হয়েছে ২২ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন। অন্যদিকে পাম তেল আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন। 

আমদানি বেশি হওয়ার পরও বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট হওয়ায় বিষয়টিকে ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অতিরিক্ত আমদানির পরও সরবরাহ কম হওয়ার মানে হচ্ছে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ করছেন না। করলে তেলের সংকট হওয়ার কথা নয়। রমজান সামনে রেখে ভোজ্য তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করতেই অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজি শুরু করেছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরবরাহ সংকটের সঙ্গে আগে আমদানির সম্পর্ক ছিল। এখন আমদানি বেশি হলেও ব্যবসায়ীরা যে চাইলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করতে পারেন, সেটাই এখন তারা করে দেখাল। অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তেল বিপণনকারী ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের মালিকরা জানিয়েছেন, শিপমেন্ট জটিলতাসহ নানা কারণে ভোজ্য তেল আমদানিতে এখন সময় বেশি লাগছে। যে কারণে বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম। এ ছাড়া টিসিবির তেল সরবরাহ করার কারণেও খোলাবাজারে সরবরাহ কিছুটা কমছে বলে তারা জানান। 

ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের মালিকরা আরও জানান, সরকার তেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করছে। ওই তেলগুলোও বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পরিশোধন করে সরবরাহ করছে। রমজান ঘিরে টিসিবির জন্য তেল সরবরাহ করতে গিয়ে হয়তো মিল মালিকরা খোলাবাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিসিবির যুগ্ম পরিচালক ও মুখপাত্র মো. হুমায়ুন কবির বলেন, টিসিবি গত তিন বছর ধরে স্থানীয় বাজার থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে সয়াবিন তেল সংগ্রহ করছে। ইতঃপূর্বে এক কোটি পরিবারের জন্য তেল সংগ্রহ করা হতো। এ বছর মোট ৬৩ লাখ স্মার্ট কার্ডধারী ও ট্রাক সেলে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য তেল সংগ্রহ করছে। এতে ১ লাখ ৮০ হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করা হবে। আর আমরা যেহেতু টেন্ডারের মাধ্যমে তেল সংগ্রহ করছি সেখানে কোম্পানি কোথা থেকে তেল দেবে সেটি দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। টিসিবিকে তেল দেওয়ার কারণে বাজারে সংকট সৃষ্টি হওয়ার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা আমরা অনেক আগেই টেন্ডার ছেড়েছি। যাদের সঙ্গে শর্তে মিলেছে তারাই তেল দিচ্ছে। 

এদিকে দেশে ভোজ্য তেলের ঘাটতি নেই বলে গতকাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোজ্য তেলের ঘাটতি নেই, বরং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। গত দুই মাসে ভোজ্য তেলের আমদানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে এই অজুহাতে গত ৯ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পাম ও সয়াবিন বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি আট টাকা বাড়িয়ে ১৬৭ থেকে ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৪৯ টাকা থেকে ১৫৭ টাকা করে। এ ছাড়া বোতলজাত পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৮১৮ থেকে বাড়িয়ে ৮৬০ টাকা করা হয়। সম্প্রতি আবারও লিটারপ্রতি ১৫ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিগুলো। এ ব্যাপারে গত ২৩ জানুয়ারি এই খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বৈঠক হয়।

ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে। সেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অধিক দামে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেল বিক্রয়, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সঙ্গে চিনি, আটা, ময়দা, চা পাতা, পোলাওয়ের চাল ইত্যাদি কিনতে করতে বাধ্য করার প্রমাণ পায় তারা। এসব অপরাধে জড়িত থাকায় জিনজিরা বাজারের নিজাম অ্যান্ড ব্রাদার্সকে ২০ হাজার টাকা, রহমান জেনারেল স্টোরকে ১০ হাজার টাকা, জাকির জেনারেল স্টোরকে ১০ হাজার টাকা, মদিনা জেনারেল স্টোরকে ১০ হাজার টাকা এবং নয়াবাজারের মা জেনারেল স্টোরকে ৫ হাজার টাকা ও মেসার্স মনোয়ার স্টোরকে ৫ হাজার টাকাসহ ৬ প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করে আদায় করা হয়েছে।

রাইস ব্র্যান অয়েল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ

স্থানীয় বাজারে ভোজ্য তেলের দর স্থিতিশীল রাখতে ও সরবরাহ সংকট কাটাতে রাইস ব্র্যান অয়েল রপ্তানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত এই তেল দেশের ভোজ্য তেলের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ২৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ মেটাতে সক্ষম। দেশে উৎপাদিত রাইস ব্র্যান অয়েল স্থানীয় বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ভোজ্য তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে সব ধরনের রাইস ব্র্যান অয়েল রপ্তানিতে এনবিআর ২৫ শতাংশ হারে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করেছে বলে জানানো হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা