প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:২১ এএম
গ্রাফিক্স : প্রবা
ভিয়েতনাম থেকে এক লাখ টন চাল এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ৭৩৯ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই চাল ও সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ভিয়েতনাম থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পর্যায়ে এক লাখ টন আতপ চাল আমদানির প্রস্তাব নিয়ে আসে খাদ্য মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে ৫৭৮ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই চাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ৯ লাখ টন চাল আমদানির জন্য ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়। এরই আলোকে দেশের সরকারি খাদ্য মজুদ বৃদ্ধি করে সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখার স্বার্থে এক লাখ টন আতপ চাল জিটুজি পদ্ধতিতে ভিয়েতনাম থেকে আমদানির জন্য সিদ্ধান্ত হয়।
ভিয়েতনামের সাউদার্ন ফুড করপোরেশন চাল সরবরাহের আগ্রহ ব্যক্ত করে চিঠি পাঠায়। পরে দুই দেশের মধ্যে ভার্চুয়াল সভায় নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে প্রতি টনের দাম ৪৭৪ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবটিও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
জানা গেছে, মরক্কো থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে টিএসপি সার আমদানি করে বিএডিসি। এরই মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তগুলো অভিন্ন রেখে ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখে পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়।
সার আমদানি চুক্তিতে উল্লেখ করা মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে মরক্কো থেকে ৩০ হাজার টন টিএসপি আমদানিতে ব্যয় হবে ১ কোটি ৩২ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর সমপরিমাণ ১৬১ কোটি ৪ লাখ টাকা। প্রতি টন টিএসপি সারের মূল্য ধরা হয়েছে ৪৪০ ডলার।
টিসিবির জন্য চিনি-মসুর ডাল কেনার অনুমোদন
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ টন চিনি ও মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১১৫ টাকা ৪২ পয়সা কেজি দরে চিনি ও ৯৮ টাকা ৪৫ পয়সা কেজি দরে মসুর ডাল। গতকাল সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির একই বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন চিনি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ১১৫ কোটি ৪২ লাখ টাকায় এই চিনি কেনা হবে।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চিনি ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪৪ হাজার টন। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি হয়েছে ৩৫ হাজার টন। নতুন করে এখন আরও ১০ হাজার টন চিনি কেনার অনুমোদন দিলে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
এদিকে বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শেখ অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মসুর ডাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮৮ হাজার টন। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৯৫০ টন। এখন আরও ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিল উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।
ভারত থেকে কেনা হবে ১১৩৭ কোটি টাকার ডিজেল
ভারত থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ১৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির একই বৈঠকে এই ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জনা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ২০২৫ সালের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ে চুক্তির আওতায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে নেগোসিয়েশনের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ করে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল কেনার সিদ্ধান্ত নেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
এই ডিজেল আমদানির ব্যয় ধরা হয় ৯ কোটি ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬৪ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ হাজার ১৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ ডলার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হলে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি তা অনুমোদন দিয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় ২০১৬ থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। পাইপলাইন নির্মাণের আগে এনআরএল থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে পরে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ থেকে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে।