প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:০২ পিএম
ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তৌহিদুল আলম খান তার মেয়াদের শেষ সময়ে পদত্যাগ করেছেন। গত ২৪ জানুয়ারি তার মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করে ব্যাংক ছাড়েন। তার এই পদত্যাগকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংকটির একজন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকও পদত্যাগ করেছেন। ব্যাংকটি দীর্ঘদিন বহুল আলোচিত শিকদার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে বিএনপি পন্থী ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু ব্যাংকটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু গণমাধ্যমকে জানান, ‘খেলাপিঋণ আদায় জোরদারের মাধ্যমে আমরা ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। এর মধ্যে ব্যাংকের এমডি গত মাসে পদত্যাগ করেন। এতে আমি বিস্মিত। শেষ সময়ে কেন পদত্যাগ করেছেন, তা জানি না।’
তবে তৌহিদুল আলম খান জানিয়েছেন, তার পদত্যাগের পেছনে কোন বিশেষ কারণ নেই। এক ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং বোর্ড তা গ্রহণ করেছে।
জানা গেছে, এমডি পদত্যাগের কয়েকদিন আগে ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মতিন পদত্যাগ করেন। তিনিও ব্যক্তিগত প্রয়োজন দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন।
ন্যাশনাল ব্যাংক এক সময় বেসরকারি খাতের অন্যতম সেরা ব্যাংক ছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় জয়নুল হক শিকদার পরিবার। নিয়ম বর্হিভূতভাবে তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ব্যাংকটির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বেনামি ঋণ, কমিশন নিয়ে ঋণ, নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে অভিযোগের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হলে বিগত সরকারের শেষ সময়ে এনবিএলের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয় এস আলম গ্রুপের হাতে। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর যে ১১টি ব্যাংকের পর্ষদে পরিবর্তন এসেছে তার একটি ন্যাশনাল ব্যাংক। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৫৬ শতাংশ বা ২৩ হাজার ৭২২ কোটি টাকা খেলাপি।