প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৪৭ পিএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ২১:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংকিং খাত প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার খেলাপি নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। যা মোট ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশ। মাত্রারিক্ত খেলাপির কারণে সঞ্চিতি সংরক্ষণের (প্রভিশন) পরিমাণ বেড়েছে। যা অনেক ব্যাংকের পক্ষ থেকে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যা নিয়ে খোদ আপত্তি তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সংস্থাটির প্রস্তাবিত আর্থিক খাতের সংস্কারের মধ্যে খেলাপি এবং প্রভিশনিং
নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইএমএফের
মধ্যে ইতোমধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে ঋণ
শ্রেণীকরণ এবং প্রভিশনিং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বিশদ সময়-কাঠামেো ঘোষণা করেছে।
যা ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং স্টান্ডার্ড-৯ (আইএফআরআই-৯) এর কাঠামো অনুযায়ী
২০২৮ সাল থেকে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) প্রজ্ঞাপন জারি
করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নির্দেশনায় বলা হয়, আইএফআরআই-৯ এর আওতায় গ্রাহকের এক্সপেকটেডম ক্রেডিট
লস (ইসিএল) পদ্ধতিতে প্রভিশন সংরক্ষণ করা হবে। আর ইসিএল মূল্যায়ণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের
গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা
বিবেচনা করা হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাকের নতুন রোডম্যাপে আর্থিক এবং সামস্টিক অর্থনীতির
সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়াবলি গুরুত্বারোপের কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ঋণ খেলাপির বিদ্যমান
শ্রেণীকরণ সাব-স্টান্ডার্ড (এসএস), ডাউটফুল (ডিএফ) এবং ব্যাড এন্ড লস (বিএল) হিসাব
থাকবে না। নতুন পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণীকরণের ধরণ হবে ফেজ-১, পেজ-২ এবং ফেজ-৩।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন
রোপম্যাপ বাস্তবায়নে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা সিইও এর নেতৃত্বে শক্তিশালি
কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যাবীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে
এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বেধে দেওয়া সময় অনুযায়ী প্রতিবেদন দাখিল করবে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর
বাস্তবায়ন কমিটিতে ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম), ফাইনান্সিয়াল একাউন্টস (এফএ),
তথ্য প্রযুক্ত (আইটি), চিফ রিস্ক অফিসার (সিআরও), চিফ ফাইনান্সিয়াল অফিসারসহ (সিএফও)
সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সূচারুরূপে প্রতিবেদন তৈরি করে ব্যাংকের পরিচালনা
পর্ষদকে (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) অবহিত করবে। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনে দেশের
বাহির থেকে কারিগরি ও দক্ষতা সংক্রান্ত সহায়তা নিতে পারবে ব্যাংক।