ফারুক আহমাদ আরিফ ও রেদওয়ানুল হক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ০৯:১৫ এএম
প্রবা গ্রাফিক্স
নতুন করে শতাধিক পণ্যের ওপর ভ্যাট আরোপ ও ডলারের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে আসন্ন রমজানের বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেনÑ সরকার হঠাৎ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও সেবাপণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর কারণে এসব পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। তা ছাড়া ডলারের দরও স্থিতিশীল নয়। এমন পরিস্থিতিতে এবার রমজান মাসের জন্য অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত পণ্যের বাজারকে তাতিয়ে রাখবে বলে আশঙ্কা তাদের।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ৯ জানুয়ারি মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং দি এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে। এতে এই অধ্যাদেশের পরিবর্তনগুলো সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়ে যায়। এর আগে ১ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর জন্য এনবিআরের প্রস্তাব পাস করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়ার পর তা অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়। জাতীয় সংসদ না থাকায় অধ্যাদেশ দিয়েই শুল্ক-কর বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৬ নভেম্বর রমজান উপলক্ষে ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল, গম, ডাল, পেঁয়াজ, ভোজ্য তেল, চিনি, ডিম, ছোলা, মটর, মসলা, খেজুরসহ ১১টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিয়েছিল সরকার।
বাজারের অবস্থা ও ব্যবসায়ীদের ভাবনা
রমজান ও ঈদুল ফিতরের জন্য যেসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মসলাজাতীয় পণ্য। এর মধ্যে এলাচের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। সেগুনবাগিচার মামা-ভাগিনা জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘এক মাসের ব্যবধানে এলাচের দাম কেজিতে ৫০০ টাকা বেড়ে ৫৫০০-৬০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ৫০ টাকা বেড়ে লবঙ্গ ২০০০ টাকা, জিরার কেজি ৭০০-৮০০ টাকা, কাজুবাদাম ১৮০০-২০০০ টাকা ও কিশমিশ ৭০০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গত নভেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বরে ৪৪০ দশমিক ১৪ টন মসলা কম আমদানি হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে মসলার আমদানি বেড়েছে। এ সময় আমদানি হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭১৬ দশমিক ৬ টন মসলা। ২০২৩ সালে আমদানি ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৩ দশমিক ৪১ টন, ২০২২ সালে ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৩২৪ দশমিক ৯৩ টন।
বর্তমানে মসলা আমদানির অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘সরকার হুট করে শতাধিক পণ্যে ভ্যাট আরোপ করেছে। এই ভ্যাটের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন এক কেজি এলাচে ভ্যাট দিতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, কিশমিশে ৩৫০ টাকা, কাজুবাদামে ৬০০ টাকা।’
খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সম্প্রতি বলেছেন যেÑ ভ্যাট আরোপ করায় জনগণের তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘টাকা কোথা থেকে আসবে? ব্যবসায়ীদের তো সাধারণ ক্রেতার কাছ থেকেই টাকা তুলতে হবে। উপদেষ্টারা এমনসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আর কথা বলছেন যা বাজারকে আরও অস্থির করছে।’
এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, ‘বাজারে কে কোন মাল আনছে তার তো হিসাব নেই। তাহলে বাজার কীভাবে স্থিতিশীল রাখবে? তা ছাড়া ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এখন এক ডলার কিনতে ব্যয় করতে হচ্ছে ১২৫-১২৭ টাকা। কোনো কন্ট্রোল নেই, যে যেভাবে পারছে ডলারের রেট দিচ্ছে।’
রমজানে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর মধ্যে ডাল, ছোলা মটর অন্যতম। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) হিসাবে সারা বছরে ছোলার চাহিদা ৮০ হাজার টন ও রমজানে ৬৪ হাজার টন। মসুর ডাল বছরে ৪ লাখ টন আর রমজান মাসে ৮০ হাজার টন। বর্তমানে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়, পাকিস্তানি কাবলি ছোলা ৩০০ টাকা, খেসারি ১৩০ টাকা, অ্যাংকর ৮০ টাকা, মটর ৮০, বুটের ডাল ১৪০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০-১১৫ ও চিকন ১৩০-১৪০ টাকা। মাষকলাই ২০ টাকা বেড়ে ২২০ ও মুগডাল ১৭০ টাকা। কোনো কোনো বাজারে খেসারি ১৩০ থেকে বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গত নভেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বরে ১ হাজার ৬৪৫ দশমিক ২৮ টন বেশি ডাল আমদানি হয়েছে। তা ছাড়া চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৭৮ দশমিক ২৩ টন। ২০২৩ সালে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১৫০ দশমিক ৭৮ টন। ২০২২ সালে ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৯০ দশমিক ৯৬ এবং ২০২১ সালে ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৪৬২ দশমিক ৯৫ টন। অর্থাৎ চার বছরের একই সময়ে গত বছরের চেয়ে মাত্র ৭ হাজার ২২৭ দশমিক ৪৫ টন বেশি। তা ছাড়া ‘২১ ও ‘২২ সালের চেয়ে কম আমদানি হয়েছে।
বর্তমানে বাজারে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এ ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের ফেনী জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা আব্দুল হাই বলেন, ‘এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি ছোলায় দাম বেড়েছে ১০ টাকা। নভেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বরে ছোলার আমদানি বেড়েছে ১ হাজার ২১৯ দশমিক ৯১ টন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে ছোলা আমদানি হয়েছে ৩৯ হাজার ৬৩৩ দশমিক ১২ টন। ২০২৩ সালে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২৪ হাজার ৯২১ দশমিক ৭১ টন, ২০২২ সালে ছিল ৫৩ হাজার ৪৭৬ দশমিক ২৭ টন।
গত নভেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বরে মটর বা ডাবলি আমদানি কমেছে ৭ হাজার ৭৬০ দশমিক ৯৭ টন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে মটর আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ২০৮ টন। ২০২৩ সালে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৮২ দশমিক ৫২ টন। ২০২২ সালে ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার ৪০৬ দশমিক ৮৬ টন। এ বছর এখন পর্যন্ত মটর আমদানি গত অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় কম হয়েছে ৪৪ হাজার ৫৭৪ দশমিক ৫২ টন।
বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডাল আমদানি স্বাভাবিক আছে। তবে ডলারের রেটের কারণে আমরা বিপদে পড়েছি। প্রতিটি ডলার কিনতে হচ্ছে ১২৫ থেকে সাড়ে ১২৬ টাকায়।’ তিনি জানান, প্রতি কেজি ছোলা বর্তমানে পাইকারিভাবে ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অ্যাংকর ডাল ৬৪ টাকা, মটর বা ডাবলি ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফল আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফআইএ) সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখন এলসি করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, তবে ডলারের দাম বেশি। ডলারের এই ঊর্ধ্বগতি চিন্তার কারণ। যে যেভাবে পারছে বিক্রি করছে। এতে রমজানের পণ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
সংকট ভোজ্য তেলের
বাজারে চাহিদামতো ভোজ্য তেল পাচ্ছেন না বিক্রেতারা। তারা অভিযোগ করেছেন, সম্প্রতি তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়ানোর পর কয়েক দিন চাহিদামতো তেল পাওয়া গেলেও আবারও সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। কোম্পানিগুলো চাহিদামাফিক তেল দিচ্ছে না। কেউ দিলেও শর্ত জুড়ে দিয়ে তেলের সঙ্গে ওই কোম্পানির অন্যান্য পণ্য কিনতে বাধ্য করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আসন্ন রমজানের ভোজ্য তেল নিয়ে বাজার অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
বিটিটিসির হিসাবে বছরে ভোজ্য তেলের প্রয়োজন ২১ লাখ টন। রমজানে সেটা হয় ৪ লাখ টন। বর্তমানে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৭৫ টাকা, দুই লিটার ৩৫০ টাকা ও ৫ লিটার ৮৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার সরিষার তেল ৩০০-৩২০ টাকা, দুই লিটার ৫৮০ টাকা। নভেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বরে ভোজ্য তেল আমদানি বেশি হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২২৩ দশমিক ৯৯ টন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে তেল আমদানি হয়েছে ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৫ দশমিক ৭৬ টন। ২০২৩ সালে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৫ দশমিক ৮ টন, ২০২২ সালে ছিল ১৬ লাখ ৪২ হাজার ২৪৬ দশমিক ১২ টন।
চিনির দাম এখনও নিয়ন্ত্রণে
চিনির দাম বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে রমজানের সময় পরিস্থিতি কী দাঁড়াবেÑ তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সাধারণত রোজায় চিনির চাহিদা বেড়ে যায়। শরবত, মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরিতে প্রচুর চিনির দরকার পড়ে। বিটিটিসির হিসাবে বছরে চিনির চাহিদা রয়েছে ১৮ লাখ টন ও রমজানে ৩ লাখ টন। বর্তমানে বাজারগুলোতে প্যাকেট ও খোলা চিনি ১২৫ টাকা কেজি, খেজুরের গুড় ২৪০-২৫০ টাকা ও আখের গুড় ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি প্যাকেট ও খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়।
চিনি আমদানি নভেম্বরের চেয়ে ডিসেম্বরে কমেছে ৩ হাজার ৯৯১ দশমিক ৫৯ টন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে চিনি আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ৬১ হাজার ৯১৫ দশমিক ১৫ টন। ২০২৩ সালে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৮৮২ দশমিক ৭৩ টন, ২০২২ সালে ছিল ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮৬ দশমিক ৩ টন।
ডলার নিয়ে শঙ্কা
ব্যবসায়ীরা ডলারের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার প্রতিফলন পাওয়া গেছে গত ৯ জানুয়ারি ট্যারিফ কমিশনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া প্রতিবেদনেও। সেখানে আরও বলা হয়েছে, আমদানি ব্যয় নির্বাহের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার মান ধরে রাখা দরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।
ছোলা, মসুর ও মটর ডালজাতীয় পণ্য আমদানি ও প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করে থাকে টি কে গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শফিউল আতহার তাসলিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম বাড়তি থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি হবে। ভোজ্য তেল, মসুর, মটর ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট হবে না। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ হতে পারে ডলারের দাম। ডলারের দাম বেড়ে গেলে আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এতে শুল্ক-করের পরিমাণও বেড়ে যায়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ১৬ জানুয়ারি ডলার রেট দেওয়া হয়েছে ১২২ টাকা। তবে এলসি খোলার ক্ষেত্রে এই সরকারি রেট বেশিরভাগ সময়ই কাজে আসে না বলে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। গত শুক্রবার বসুন্ধরা এলাকার বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে দেখা গেছে, ১২৫ টাকা ৭০ পয়সার নিচে কোথাও ডলার মিলছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক যা বলছে
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ডলারের রেট ১২১ থেকে ২২ টাকার মধ্যে মিডরেট ওঠানামা করছে। তাতে সর্বোচ্চ দর ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত উঠতে পারে। কোনো অবস্থাতেই আমদানিকারকদের কাছ থেকে ১২৭ টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, যদি কেউ অতিরিক্ত দাম নেয়, সেক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক দরের বিপরীতে গোপনীয় দর অনুসরণ করা হয়ে থাকতে পারে। ইতঃপূর্বে একাধিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা গ্রাহকের কাছে যে দরে ডলার বিক্রি করেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তারচেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে রিপোর্ট করেছে। এ ধরনের ঘটনায় কোনো কোনো ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানকে বরখাস্তের ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শোকজ করারও নজির রয়েছে। কারসাজির মাধ্যমে ডলার থেকে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত উৎপাদননির্ভর খাতে বিনিয়োগ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ডলারের দর বাজারভিত্তিক করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দৈনিক ভিত্তিতে বাজারের দর পর্যালোচনা করে মিডরেট ঘোষণা করা হচ্ছে। কোনো ব্যাংক এক দিনে একাধিক দরে ডলার কেনাবেচা করতে পারছে না। এরপরও যদি কেউ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায়, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’