প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৭:৪৩ পিএম
ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন
সিগারেট খাতে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষা ও বাজারে সুষম বণ্টন ব্যবস্থা আনতে প্রতিযোগিতা আইন-২০১২ বাস্তবায়নসহ দেশীয় সিগারেট কোম্পানিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশন (এনসিএমএ)।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে একটি হোটেলে এনসিএসএ-এর সাধারণ সম্পাদক নাজমুন নাহার লাকি এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজস্বের সিংহভাগ আসে মূসক খাত থেকে। আর এই খাতে আহরিত মোট রাজস্বের এক তৃতীয়াংশ আসছে দেশের সিগারেট খাত হতে। দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে সিগারেট খাতে প্রণোদনা ও স্বার্থ সংরক্ষণের নীতি সহায়তা চেয়ে আসলেও বিগত সরকারের একপেশে কর-নীতির কারণে আমরা বারংবার বৈষম্যের স্বীকার হয়ে আসছি।
চলমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অন্তবর্তী অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে করনীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্ররোচনায় দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানীর উৎপাদিত নিম্ন স্তরের দেশীয় সিগারেটে বৈষম্যমূলক ও অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে জানাচ্ছে ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার অ্যাসোসিয়েশন (এনসিএমএ)।
দেশের সিগারেটের বাজার প্রায় ৫০হজার কোটি টাকার অধিক। এ খাতে সরকারের বিগত অর্থ বছরে (২০২৩- ২৪) রাজস্ব আহরিত হয় প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এ খাতের সিংহভাগ তথা ৮৫ শতাংশ ব্যবসা অধিগ্রহণ করে বিএটিবি (ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ) করে ব্যবসায়িক লাভ হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রায় বাহিরে নিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ বছর আগে বিএটিবি যেখানে মাত্র ২০০ কোটি টাকা মুনফা অর্জন করত এখন তা প্রায় ২০০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, কোম্পানিটি প্রায় ৮৫ শতাংশ বিদেশি মালিকানাধীন শেয়ারের লভ্যাংশ হিসেবে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা ডলারে বিনিময়ের মাধ্যমে দেশ হতে নিয়ে গেছে, অন্যদিকে আরেক বহুজাতিক কোম্পানি জাপান টোব্যাকো জাপান সরকারের মাধ্যমে নানাবিধ সুযোগ- সুবিধা পেয়ে আসছে। কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানিগুলো সিগারেট খাতে অর্জিত লভ্যাংশ দেশের অন্য কোনো খাতে বিনিয়োগ করেন না । অন্যদিকে দেশীয় কোম্পানির লাভ দেশেই থেকে যায় এবং অন্যান্য খাতে রাজস্ব সঞ্চারী বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে, আপনারা জেনে থাকবেন দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সমূহের অনেকেই এই খাতের উদ্যোক্তা ছিলেন। কিন্তু বিগত ১০ বছরে দেশীয় কোম্পানি গুলো তাদের একচেটিয়া আধিপত্যে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়ে ব্যবসা বন্ধের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে।
সংগঠনের তিন দফাগুলো হলো—
১. নিম্নস্তরে দেশীয় কোম্পানির জন্য ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ঘোষিত মূল বাজেট অনুযায়ী ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বলবৎ রাখতে হবে। এবং অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যাদেশ অনুযায়ী বহুজাতিক কোম্পানির জন্য ঘোষিত ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আহরণ কঠিনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট নীতি কৌশল অনুযায়ী বাজারের ভারসাম্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিম্ন স্ল্যাব শুধুমাত্র দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানির জন্য সংরক্ষিত রেখে কোম্পানিগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সুযোগ করে দিতে হবে।
৩. সিগারেট খাতে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষা ও বাজারে সুষম বন্টন ব্যবস্থা আনার জন্য প্রতিযোগিতা আইন-২০১২ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।