অর্থনীতি ২০২৪
রেদওয়ানুল হক
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৫৭ এএম
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:৫৮ এএম
আর্থিক খাতে নজিরবিহীন অঘটনে শেষ হয়েছে ২০২৪ সাল। পর্বতসমান খেলাপি ঋণের ভারে ন্যুব্জ ব্যাংকে টাকার জন্য গ্রাহকের তালা দেওয়ার মতো ঘটনার পাশাপাশি নজির তৈরি করে ডলারের রেকর্ড দর। দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো গভর্নরের পলায়নের পর নতুন গভর্নরের নেতৃত্বে শুরু হয় সংস্কার। দখলদারত্ব আর লুটপাটের অবসান হলেও পুনর্গঠন আর আস্থা ফেরতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে আর্থিক খাত।
দীর্ঘ সময় ধরে সুশাসনের অভাবে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। ডলারের হাহাকার এবং তারল্য সংকটে টালমাটাল অবস্থা তৈরি হয়। ব্যাংকগুলোর নাজুক পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যায় নতুন ঋণ অনুমোদন। কার্পেটের নিচ থেকে বেরিয়ে আসে পর্বতসমান খেলাপি ঋণ।
তবে সংকটের মাঝে আশার বাণীও রয়েছে। লুটেরাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের আশ্বাস দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ছে, সঙ্গে রিজার্ভের অবস্থাও উন্নতি হচ্ছে।
২০২৪ সালের ব্যাংক খাতের আলোচিত ঘটনাবলি
তারল্য ঘাটতি : দেশের ৯টি ব্যাংক গ্রাহকদের চাহিদামতো টাকা দিতে পারছে না৷ কোনো কোনো ব্যাংক গ্রাহকদের সারাদিন বসিয়ে রেখে টাকা না দিয়ে পরের দিন যেতে বলেছে৷ এসব চলতি হিসাবের ঘাটতি ১৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে৷ এস আলমমুক্ত করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের। এ ব্যাংকটির ঘাটতির পরিমাণ সাত হাজার ২৬৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিন হাজার ৩৯৪ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের৷
টাকা ছাপিয়ে ঋণ : টাকা ছাপিয়ে সরকারঘনিষ্ঠদের ব্যাংক লুটের সুযোগ করে দেন সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে এখনও টাকা ছাপাতে হচ্ছে। যদিও আগের সরকারের মতো টাকা ছাপিয়ে সরকারকে বা কোনো ব্যাংককে অর্থ দেওয়া হবে নাÑ এমন মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তবে এমন মন্তব্যের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। টাকা ছাপিয়ে ছয়টি দুর্বল ব্যাংককে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন খোদ গভর্নর নিজেই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, একদিকে যেমন টাকা ছাপানো হচ্ছে, তেমনি সেই টাকা বাজার থেকে তুলেও নেওয়া হবে বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে।
গভর্নরকে বয়কট আর্থিক খাতের বিরল ঘটনা : বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ প্রকাশে বাধার প্রতিবাদে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের বক্তব্য বয়কট করেছেন সাংবাদিকরা, যা দেশের আর্থিক খাতের জন্য এক বিরল ঘটনা। রীতি অনুযায়ী বাজেট ঘোষণার পরের দিন সংবাদ সম্মেলন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে ১০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তার বয়কটের ঘোষণা বেশ আলোড়ন তৈরি করে, অস্বস্তিতে পড়েন তৎকালীন গভর্নর। এমনকি সরকার পতনের পর দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো গভর্নর পলায়ন করেন।
আলোচনায় এনআরবিসির গুরুতর অনিয়ম : অনিয়ম জালিয়াতির মাধ্যমে একের পর এক অপরাধ করে তা লুকিয়ে রেখেছে এনআরবিসি ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। অনিয়ম আড়াল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্ত করা হয়। অবশেষে দুর্নীতিবাজ চক্রটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গোপন প্রতিবেদনে এসব তুলে ধরা হয়।
ব্যাংকটির আলোচিত চেয়ারম্যান পারভেজ তমালের ইশারায় বিগত সরকারের প্রভাবশালীদের বলয়ে শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং তার অনুসারী কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীর সমন্বয়ে বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে কর্মকর্তা ও অংশীজনদের জিম্মি করে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ ওঠে। সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের ভগ্নিপতি সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে কোনো প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে অনিয়মের বৈধতা দেওয়া হয়, যা দেশের গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে।
নতুন করে আলোচনা বেসিকের বাচ্চু : বেসিক ব্যাংক থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লুটের পর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ৫৮ মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত করার আট মাস পরও এই আলোচিত আসামিকে গ্রেপ্তারের সাহস পায়নি খোদ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অথচ তিনি দেশেই ঘাপটি মেরে বসে থাকেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিতে রাখা জনগণের কষ্টার্জিত আমানতের টাকা আত্মসাতের নীলনকশা প্রস্তুতকারী বাচ্চুকে গ্রেপ্তার না করায় নানা সমালোচনা হয়। অবশেষে সেপ্টেম্বরে দুদকের করা মামলায় বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু ও তার পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। নতুন করে আর্থিক খাতে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত, পরে সরে আসা : ব্যাংক খাতে গতি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ বাংক। চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংক একীভূতকরণ সংক্রান্ত নীতমালা জারি করা হয়। এরই অংশ হিসেবে আটটি ব্যাংকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইও হয়। তবে সিদ্ধান্তহীনতায় খোদ দুর্বল ও সবল প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা। নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর একীভূত করার প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়ে যায়।
লাইসেন্স দিয়েও বন্ধ হয় ডিজিটাল ব্যাংক : দেশে প্রথমবারের মতো গত বছরে প্রাথমিকভাবে দুটি ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এ দুটি হলোÑ নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি। আর ডিজিটাল ব্যাংকের উইন্ডোর জন্য গাইডলাইন তৈরির পর ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশ, ব্যাংক এশিয়ার ডিজিট অল ও ডিজি১০ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক উইন্ডো খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। ডিজি১০ ব্যাংকটি ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংক। তবে নতুন গভর্নর ডিজিটাল ব্যাংকের কার্যক্রমও স্থগিত করেন।
ভয়াবহ পতনে তলানিতে রিজার্ভ : ভয়াবহ পতনের কারণে দেশের রিজার্ভ তলানিতে নামে। তিন মাসের আমদানি খরচ মেটানোর সক্ষমতা হারায় নিট রিজার্ভ। তবে গণমাধ্যমের কাছে বারবার অস্বীকার করলেও অবশেষে গত জুলাইয়ের শুরুতেই নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভের হিসাব স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময়ে নিট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গোপন করে আসছিল তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।
বর্তমানে মোট রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আইএমএফ স্বীকৃত বিপিএম-৬ হিসাবে এটি ২০ বিলিয়ন ডলার। আর দেশের ব্যয়যোগ রিজার্ভ ১৫ বিলিয়নের ঘরে। তবে নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগের গভর্নর প্রতি মাসে ১ বিলিয়ন করে বিক্রি করতেন। এতে রিজার্ভের পতন বন্ধ হয়। এখন সামান্য হলেও বাড়তে শুরু করেছে রিজার্ভ।
রিজার্ভ চুরি : দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করে ভারতের একটি গণমাধ্যম। গত ১৪ মে নর্থইস্ট নিউজ নামের সংবাদ মাধ্যমটির দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ হ্যাক করে নিয়ে গেছে ভারতীয় হ্যাকাররা। এ খবর সত্য নয় বলেই দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ খবর আলোচনার ঝড় তোলে গোটা দেশে। আগের চুরি হওয়া রিজার্ভ ফেরত নিয়ে নতুন প্রশ্ন ডালপালা মেলে।
বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পলায়ন : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পালিয়ে যান গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এরপর গত ৯ আগস্ট দুপুরে অনলাইনে পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ১২তম গভর্নর। এর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দুই ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান ও পলিসি উপদেষ্টা।
আলোচনায় ন্যাশনাল ও ইসলামী ব্যাংক : ঋণ জালিয়াতি ও নানা অনিয়মে ধুঁকতে থাকা প্রথম প্রজন্মের ন্যাশনাল ব্যাংক আলোচনায় তুঙ্গে থাকে। সিকদার গ্রুপমুক্ত হয়ে ব্যাংকটির দখল চলে যায় এস আলম গ্রুপের হাতে, বোর্ড গঠন করে পছন্দমতো। এরই মাঝে গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এস আলম গ্রুপ চলে যেতে বাধ্য হয়। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন এফবিসিসিঅঅইএর সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। একইভাবে এস আলম দখলমুক্ত করা হয় বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক থেকে। তবে বিএনপির এক নেতা প্রকাশ্যে গুলি করে এস আলমের দখলে রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। দায়িত্ব ফিরে পান সাবেক কর্মকর্তারা। ধুঁকতে থাকা ব্যাংকটির নতুন বোর্ড আবারও চাঙ্গা করে তুলেছে এ ব্যাংকটিকে।
চরম অস্থির ডলার বাজারে রেকর্ড দর ১২৩ টাকা : বছরজুড়ে ডলার বাজারে অস্থিরতা বিরাজমান ছিল। কয়েক মাস স্থিতিশীলতা বিরাজ করার পর বছরের শেষ দিকে ফের উত্তপ্ত হয় ডলার বাজার। নতুন বিনিময় পদ্ধতি ক্রলিং পেগ চালু হয়। এর মাধ্যমে ডলারের দাম এক লাফে রেকর্ড ৭ টাকা বেড়ে ১১৭ টাকা হয়। বর্তমানে এ পদ্ধতি অকার্যকর হয়ে ডলারে আনুষ্ঠানিক দর ১২৩ টাকায় উন্নীত হয়। যা ১২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নীতি সুদহার বৃদ্ধিতে রেকর্ড : দফায় দফায় নীতি সুদহার বেড়ে ১১০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ফলে ঋণে সুদ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৫ টাকায়। এতে বেসরকারি ঋণে রেকর্ড পতন ঘটে। যা গত অক্টোবরে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমে আসে। এতে থমকে দাঁড়ায় প্রবৃদ্ধির চাকা। ব্যাহত হয় কর্মসংস্থান।
পর্বতসমান খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ : ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে যে অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে, তা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। ফলে ব্যাংক থেকে বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশই বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া এতদিন খেলাপি ঋণের তথ্য আড়াল করে রাখা হতো। তাই কম দেখা যেত। এখন সঠিক তথ্য প্রকাশের পর দেশের ব্যাংকগুলোতে গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। তিন মাসেই ব্যাংক-ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭৩ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির রেকর্ডও তৈরি হয় এর মাধ্যমে।
প্রবাসী আয়ের জোয়ার-ভাটা : অর্থপাচারের প্রভাবে হুন্ডির দাপট দেখা দেয়। ফলে রেমিট্যান্সে পতন ঘটে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৫ মাস ধরে রেমিট্যান্স জোয়ার বইছে। প্রতি মাসেই ২ বিলিয়নের বেশি রেমিট্যান্স আসছে। বছরভিত্তিক হিসাবেও এ বছর রেকর্ড হতে যাচ্ছে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিদেশি ঋণের বোঝা ১০০ বিলিয়ন অতিক্রম : মেগা প্রজেক্ট আর লুটপাটের তোড়ে বিপুল বিদেশি ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে এটি ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। সবশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০৩ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে দেশের আর্থিক খাতের যে ভঙ্গুর দশা তা সামাল দিতে সরকারকে আরও ঋণ নিতে হচ্ছে। তাই ক্রমেই বাড়ছে বৈদেশিক ঋণ।
নতুন গভর্নরের হাত ধরে সংস্কার যাত্রা, টাস্কফোর্স গঠন : দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংক খাতে লুটপাট আর দখলদারত্ব চলতে থাকে। তবে নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর দখল হওয়া ১১টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দখলমুক্ত করা হয়। এখন চলছে সংস্কার। বহুল কাঙ্ক্ষিত ব্যাংক কমিশন গঠন না হলেও কার্যক্রম শুরু করেছে একটি টাক্সফোর্স। যা ব্যাংক কমিশনের চেয়েও অগ্রগামী হয়ে কাজ করবে। কমিশন শুধু রিপোর্ট প্রকাশ করে। বিপরীতে নিরীক্ষা শেষে পুনর্গঠনে হাত দেবে টাস্কফোর্স। দীর্ঘ দিনের হতাশা আর আস্থাহীনতা দূর করে ব্যাংক খাতে গ্রাহকের আস্থা ও আমানতের নিরাপত্তা বিধানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।