× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কর্মীদের ক্ষোভের মুখে অফিসে যাচ্ছেন না ইসলামী ব্যাংকের এমডি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:৫৩ পিএম

কর্মীদের ক্ষোভের মুখে অফিসে যাচ্ছেন না ইসলামী ব্যাংকের এমডি

নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে কর্মস্থলে যেতে পারছেন না ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ মনিরুল মওলা। ব্যাংক লুটেরা এস আলামের ঘণিষ্ট সহচর হিসেবে পরিচিত এ কর্মকর্তা এখন পদত্যাগের বিকল্প দেখছেন না। তবে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আগামী বৃহস্পতিবার ব্যাংকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীদের। তবে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এস আলমের এ চিহ্নিত দোসরকে আর এক মুহুর্তও সহ্য করতে রাজি নন তারা। 

জানা গেছে, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার পর মনিরুল মওলার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হেনস্তা হওয়ার আশঙ্কায় তিন দিন ধরে অফিস করছেন না তিনি। সবশেষ গত ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার অফিস করেছিলেন। এরপর গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তিনি অফিসে আসেননি। এমনকি তিনি যাতে আর অফিসে না আসতে পারেন সেজন্য ব্যাংকটির চেয়ারম্যান উবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। আর চেয়ারম্যানও তাদেরকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে আগামী ২৯ ডিসেম্বর এমডির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

ইসলামী ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকে মনিরুল মওলার পক্ষেও কিছু কর্মকর্তা আছেন। এসব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তিনি বাসা থেকে সব খবর রাখছেন। গত রবিবার দুপুরে তিনি অফিসে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি ভাল না। তিনি আসলে সমস্যা হতে পারে। এ সংবাদ পেয়ে মনিরুল মওলা ব্যাংকে না আসার সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) খবর বের হয় মনিরুল মওলা পদত্যাগ করেছেন। দিনভর বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জনের ডালপালা ছড়ায়। তবে সন্ধ্যায় মনিরুল মওলা নিজে গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। শারিরীক অসুস্থতার কারনে বাসায় বসে অফিস করছেন। বৃহস্পতিবার ব্যাংকে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তবে ব্যাংকের অভ্যন্তরে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হওয়ায় তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান।

মনিরুল মওলার ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি আপাতত পদত্যাগের বিকল্প কিছু দেখছেন না। তবে সিদ্ধান্ত নিতে আরও একদিন সময় নেবেন। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। ব্যাংকে তার পক্ষের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, মনিরুল মওলার পদত্যাগের বিষয়ে তিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তিনি এস আলমের সিগনালের অপেক্ষায় আছেন। এর আগেও পদত্যাগ করতে চেয়ে এস আলমের সম্মতি না থাকায় পদত্যাগ করতে পারেননি। গ্রুপটি চাইছে যেকোন মূল্যে মনিরুল মওলাকে টিকিয়ে রাখতে। কারণ মনিরুল মওলা গ্রেপ্তার হয়ে গেলে এস আলমের ঋণ জালিয়াতির সব তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরেই মনিরুল মওলার উপর ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। চাকরিচ্যুত হওয়ার ভয়ে তারা এতদিন কিছু বলতে পারেনি। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা এস আলমের লুটপাটে সহায়তাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেন। এমনকি এস আলমের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে তারা ব্যাংক ছাড়তেও বাধ্য করেন। কিন্তু ব্যাংকের মধ্যে এস আলমের প্রধান সহায়তাকারী হিসেবে পরিচিত এমডি মনিরুল মওলা তার পদে এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই আছেন। তবে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা তার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্নভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।  

গত ১৯ ডিসেম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে এক হাজার ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও আলোচিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম, ব্যাংকটির এমডি ও সিইও মনিরুল মওলাসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ বাদী হয়ে মামলাটি করেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক ইয়াছিন আরাফাত। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে মুরাদ এন্টারপ্রাইজের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেন।

দুদকের এই মামলার পরই মনিরুল মওলার বিরুদ্ধে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ব্যাংকের কর্মকর্তারা। মনিরুল মওলাকে আর ব্যাংকে প্রবেশ করতে দিবে না বলে তারা সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, মনিরুল মওলা হলেন লুটপাটকারীদের প্রধান এজেন্ট। শক্তিশালী এই ব্যাংকটা ধ্বংসের পেছনে তার হাত রয়েছে। তিনি এখন আর কোনো ফাইলে সই করেন এটা আমরা চাই না। তিনি আবার এস আলম ও নাবিল গ্রুপকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে। ইসলামী ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এমন ব্যক্তি আর ব্যাংকে থাকতে পারেন না। তার মতো একজন দুর্নীতিবাজকে আমরা এখন আর ব্যাংকে প্রবেশ করতে দিবো না।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত রবিবার আমরা চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা জোর দাবি জানিয়েছি, তাকে যেন আর আসতে না দেয়া হয়। তিনি আমাদেরকে আশ্বস্ত করে বলেছেন,  আগামী ২৯ ডিসেম্বর তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, অস্ত্রের মুখে ইসলামি ব্যাংক দখলে নিয়ে ব্যাংকটি থেকে নামে বেনামে প্রায় ১ লাখ কোাটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিতর্কিত শিল্পগ্রুপ এস আলম। গ্রুপটির বেনামি ঋণ অনুমোদনে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেছেন মনিরুল মওলাসহ ব্যাংকটির বেশ কিছু কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটিকে এস আলমের দখলমুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন এস আলমের ছত্রছাঁয়ায় গড়ে ওঠা বিতর্কিত নাবিল গ্রুপের মাধ্যমে ফের ব্যাংকটিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে এস আলম। আর এতে মনিরুল মওলা সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা