× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জেলায় জেলায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:৫৩ পিএম

জেলায় জেলায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ

কর্মজীবী নারীদের সন্তানদের জন্য নিরাপদ দিবাযত্ন সেবা নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় জেলা পর্যায়ে ৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সি শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, এবং চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের পঞ্চম একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারপারসন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘ডে-কেয়ার করার উদ্যোগটি একটি ভালো উদ্যোগ। ডে-কেয়ারের অভাবে অনেক চাকরিজীবী নারী কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন, অনেক মা ছোট সন্তানকে নিরাপদে রাখার জায়গার অভাবে কাজ শুরু করতে পারেন না; যা অর্থনীতির জন্য ভালো নয়। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ডে-কেয়ার সহায়ক। কর্মজীবী, শ্রমজীবী মায়েদের সহায়ক সাপোর্ট হলো ডে-কেয়ার। সরকার যেন দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, বাজেটের টাকা যেন সঠিকভাবে খরচ হয় এবং সেন্টারগুলো যেন কার্যক্ষম থাকে, সেটা মনিটর করতে হবে। 

প্রকল্পের খরচ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৭ কোটি টাকা। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এবং জাতীয় মহিলা সংস্থা আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো ভাড়া করা ভবনে স্থাপন করা হবে। তবে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা

প্রতিটি ডে-কেয়ার সেন্টারে ৫০ থেকে ৮০টি শিশু রাখা যাবে। এখানে শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ থাকবে। শিশুদের ইপিআই (EPI) ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার ব্যবস্থাও করা হবে। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্প নারীদের কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ বৃদ্ধি করবে এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সারা দেশে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন

এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ সাভার, ধামরাই, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, মানিকগঞ্জ এবং কালীগঞ্জে মোট ১৬টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং কর্ণফুলী উপজেলায় ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ করা হবে।

বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় এবং খুলনা বিভাগের খুলনা সিটি করপোশন, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহেও ডে-কেয়ার স্থাপন করার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী সিটি করপোরেশন, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া এবং জয়পুরহাট জেলায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। রংপুর বিভাগের রংপুর সিটি করপোরেশন, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর এবং নীলফামারীতে ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মাণ করা হবে।

কর্মী নিয়োগ এবং পরিচালনা ব্যবস্থা

প্রকল্প বাস্তবায়নে ডে-কেয়ার সেন্টারে ডে-কেয়ার অফিসার, শিক্ষিকা, স্বাস্থ্য শিক্ষিকা, আয়া, কুক, সহকারী কুক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গার্ড এবং অফিস সহায়কসহ বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। জনবল বিধিমোতাবেক মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর পদ সৃষ্টি করবে। প্রয়োজনে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

বর্তমান ডে-কেয়ার সেবার অবস্থা

বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১৯টি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। রাজস্ব খাতভুক্ত ৪৩টি সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ২০টি সেন্টারের মাধ্যমে ডে-কেয়ার সেবা দেওয়া হচ্ছে।

কর্মজীবী নারীদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ডে-কেয়ারে শিশুরা পুষ্টিকর খাবার, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং মানসিক বিকাশের সেবা পাবে। এটি কর্মজীবী মায়েদের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া আরও সহজ করে তুলবে।’

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্মজীবী নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে। নারীদের এই অংশগ্রহণ জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডে-কেয়ার প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ডে-কেয়ার সেন্টারগুলো প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হবে। পরবর্তী সময়ে রাজস্ব বাজেটের আওতায় এগুলো পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর পদ সৃষ্টির মাধ্যমে সেন্টারগুলো পরিচালনা করবে।

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, নারীদের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ডে-কেয়ার সেন্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মজীবী নারীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করবে এই প্রকল্প।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা