× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সরবরাহ ঘাটতিতে অস্থির ভোজ্য তেলের বাজার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:২৭ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা নূরে আলম মহল্লার যে মুদি দোকানটি থেকে সব সময় কেনাকাটা করেন সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেই দোকানি সয়াবিন তেল বিক্রি করতে পারছেন না। কারণ সাপ্লাই আসছে না। ডিলাররা অর্ডার কেটে আবার টাকা ফেরত দিয়ে গেছে। একইভাবে উত্তর আদাবরের মুদি দোকানি মো. আলম জানান, তার দোকানে আগের কেনা এক ও দুই লিটারের বোতল থাকলেও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই কয়েকদিন ধরে। ঠিকমতো সরবরাহ না থাকার কথা জানালেন তিনিও। তবে দুয়েক দিনের মধ্যে পাঁচ লিটারের তেল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন। সরবরাহজনিত সংকট ছাড়াও ভোজ্য তেলের দাম বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

শেওড়াপাড়া বা আদাবরের মতো তেজগাঁও এলাকার মুদি দোকানগুলোতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। পশ্চিম নাখালপাড়ার মুদি দোকানি রফিকুল ইসলাম ও সোহেল রানা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তারা এক বা আধা লিটারের তেল পাচ্ছেন না। অল্পকিছু দুই লিটারের তেল পেয়েছেন। অনেক ক্রেতা এক লিটারের তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার দুই লিটার তেলও দোকানিরা তাদের চাহিদামতো পাচ্ছেন না। ২০ লিটারের অর্ডার দিলে ৫ লিটার দিচ্ছে ডিলাররা।

ভোজ্য তেলের সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে ভিন্ন অভিযোগ করেছেন মহাখালী, কলমিলতা বাজারের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বাজারে গত তিন সপ্তাহ যাবৎ খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার বোতলজাত সয়াবিনেরও সংকট চলছে অনেকদিন ধরে। তারা অভিযোগ করেন, সিটি গ্রুপের তীর, টিকে গ্রুপের পুষ্টি ও রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের তেল দেওয়ার আগে শর্ত জুড়ে দিচ্ছে ডিলাররা।

মহাখালী কাঁচাবাজারে তিনজন দোকানির সঙ্গে কথা হয়। তাদের মধ্যে মনির ট্রেডার্সের মামুনুর রশিদ, লুৎফর ট্রেডার্সের লুৎফর রহমান ও অপর দোকানি কামাল হোসেন জানান, গত ১০ থেকে ১৫ দিন যাবৎ তারা অর্ডার দিয়ে তেল পাচ্ছেন না। বেশিরভাগ কোম্পানিই তেল সরবরাহ করছে না। আবার তীর, পুষ্টি ও রূপচাঁদা সয়াবিন তেল পেতে হলে ওইসব কোম্পানির অন্য কোনো পণ্য কিনতে হবেÑ এমন শর্ত মেনে নিতে হচ্ছে।

লুৎফর রহমান বলেন, শর্ত মেনে পণ্য কিনতে ও বেচতে পারব না। তাই এখন দোকানে তেল রাখছি না। ক্রেতাদের কাছে তো শর্ত দিয়ে আমরা পণ্য বিক্রি করতে পারি না। মামুনুর রশিদ বলেন, তীরের এক বা দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনলে তাদের পোলাওয়ের চাল, আটা, লবণ বা অন্য কোনো পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাদের শর্তমতো পণ্য কিনে আমরা বেচতে পারি না।

কামাল হোসেন বলেন, এক কার্টন তেল (৫ লিটারের ৪টি, ১ লিটারের ১৬টি) কিনলে পোলাও চাল, আটা, চা পাতা, লবণ বা অন্য কোনো পণ্য নেওয়ার শর্তে তারা তেল বিক্রি করছে। গত কয়েকদিন দিন ধরে এই অবস্থা চলছে। গত এক সপ্তাহ যাবৎ বাজারে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানান কলমিলতা বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফুল হক। 

বাজারে তেলের সংকট নিয়ে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আমরা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) কাছে ১০ দিন আগে দাম বাড়ানোর জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। তারা আজ (বৃহস্পতিবার) ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত এলে আমরা এ ব্যাপারে কথা বলতে পারব।

তেল সরবরাহের সময় একই কোম্পানির চাল, লবণ ও চা-পাতা নেওয়ার শর্তের যে অভিযোগ সে বিষয়ে তিনি বলেন, এটি দোকানদারদের একটা কৌশল হতে পারে, আমাদের না। কেননা তারা এক কেজি পোলাওয়ের চাল থেকে ২০ টাকা আর এক লিটার সয়াবিন তেল থেকে লাভ করে চার টাকা। এখন দুটো একসঙ্গে বিক্রি করে ২৪ টাকা লাভ করার চিন্তা তাদের থাকতে পারে। আমরা এ-রকম কোনো শর্ত দিচ্ছি না।

তেলের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে বিটিসির বাণিজ্য নীতি বিভাগের যুগ্ম প্রধান (যুগ্ম সচিব) এ কে এম মকসুদুল আরেফীন বলেন, আমি একটি প্রশিক্ষণে আছি। এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।

ভোজ্য তেল সরবরাহ করার সময় শর্ত আরোপের বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেন, আমাদের কাছে এমন অভিযোগ এখনও আসেনি। তবে শুক্রবার ও শনিবার বিভিন্ন বাজারে আমরা টিম পাঠাব। এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হলে বলব, বিষয়টা খুব খারাপ। ঢাকাতেই ২৫ হাজারের বেশি দোকান আছে। আমরা অল্প কিছু দোকানে অভিযান চালাতে পারি। মানুষের মধ্যে নৈতিকতা তৈরি না হলে সমস্যার সমাধান করা কঠিন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা