আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:১০ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:১৪ পিএম
আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাচ্ছে হিমায়িত মাছ। প্রবা ফটো
বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলা ভাঙচুরের পর থেকে আখাউড়া-আগরতলা সীমান্তে যাত্রী পারাপার কমলেও আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে সবকিছু স্বাভাবিক দেখা গেছে।
এছাড়া স্বাভাবিক রয়েছে আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হচ্ছে হিমায়িত মাছ। তবে বন্দর দিয়ে বাংলাদেশি যাত্রী পারাপার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৬০০-৭০০ যাত্রী ভারত পারাপার হন। তবে ভারতের আগরতলায় উগ্রবাদীদের বিক্ষোভের কারণে মঙ্গলবার থেকে আতঙ্কে যাত্রী পারাপার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে ভারতে পারাপার হয় ২৯৮ জন যাত্রী। আর বুধবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী পারাপার হয়েছেন- যার অধিকাংশই ভারতীয় যাত্রী।
এদিকে বন্দর দিয়ে স্বাভাবিক রয়েছে ভারতে পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম। বুধবার ৮৯ টন হিমায়িত মাছ রপ্তানি হয় দেশটিতে।
ব্যবসায়ীরা জানান, রপ্তানি বাণিজ্যে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ভারতীয় আমদানিকারকরা জানিয়েছেন দু-একদিনের মধ্যেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি কেটে গিয়ে বাণিজ্য আরও বাড়বে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের মাছ রপ্তানি কারক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের রপ্তানিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার আমরা আগরতলা বন্দরে বরফায়ীত মাছসহ অন্য অনেক পণ্যবাহি গাড়ি পাঠিয়েছি। আজকেও মাছসহ অন্যান্য পণ্যবাহি গাড়ি আগরতলা বন্দরে প্রবেশ করছে।
আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খাইরুল আলম জানান, যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। তবে অন্য দিনের তুলনায় দুদিন থেকে যাত্রী অনেক কম। যাত্রীদের আতঙ্কের বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যাত্রী পারাপার বাড়বে বলে আশা করছি।
দেশের অন্যতম বৃহৎ ও রপ্তানিমুখী এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয় উত্তর-পূর্ব ভারতে। রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- বরফায়ীত মাছ, প্লাস্টিক, রড, সিমেন্ট, ভোজ্য তেল, তুলা ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী।