ফারুক আহমাদ আরিফ
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:০৪ এএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:৫৪ পিএম
‘বেশি করে আলু খান, ভাতের ওপর চাপ কমান’- একসময় জনগণকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হতো; যার সূত্রপাত হয় এরশাদ সরকারের আমলে। বহুল আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উদ্দিন আহমেদকেও দেখা গেছে সবাইকে আলু খাওয়ায় উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে নানান উদ্যোগ নিতে। চাল (ভাত), গম ও আলুতে প্রায় একই ধরনের খাদ্যগুণ থাকায় ওই সময় আলু খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। কিন্তু সেই কম দামের আলু এখন চালের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আকাশছোঁয়া দামে পৌঁছে গেছে। বেশ কয়েক ধরনের চালের দামের চেয়েও আলুর দাম এখন বেশি বা প্রায় সমান। আটা তো অনেক আগেই গরিবের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এ অবস্থায় আর কোনো বিকল্প খাদ্য আছে কি না- তা জানতে দেশের খাদ্যবিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদদের সঙ্গে কথা হয়।
তারা বলছেন, পরিবেশ, আবহাওয়া ও উৎপাদন অনুযায়ী মানুষের খাদ্যাভ্যাস নির্ভর করে। বিশ্বের একেক অঞ্চলে একেক ধরনের খাদ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ভারতের কিছু অঞ্চল, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, জাপান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ায় প্রধান খাদ্য হিসেবে ভাতের প্রচলন বেশি। আবার ভারতের কাশ্মির, বিহার, হরিয়ানার মতো কিছু রাজ্য এবং পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় আটা খাওয়ার প্রচলন বেশি। ইউরোপে আলু ও আফ্রিকা মহাদেশে কাসাভা (মিষ্টি আলুজাতীয়) প্রধান খাদ্য। তাই এ মূহূর্তে এসব খাবারের বিকল্প কিছু দেখা যাচ্ছে না।
লাগামহীন চালের বাজার
চালের বাজারে লাগাম নেই অনেক দিন থেকেই। গত জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে রাজধানীর বাজারগুলোতে চালের দাম বেড়েছে। শুধু রাজধানী নয়, জেলা পর্যায়েও দামে সেই ঢেউ আছড়ে পড়ে। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছিল, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চাল উৎপাদন বিগত বছরগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ। এ মৌসুমে চাল উৎপাদন হয়েছে ৪ কোটি ৬ লাখ টন। এটি ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় চার দশমিক এক শতাংশ বেশি। বোরোর ফলনও ভালো হয়েছে। এতে কৃষকরা প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টন ধান বেশি পেয়েছেন। আমন ধান কাটা শুরু হলেও চালের চড়া দর এখনও নামেনি।
রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারের চাল ব্যবসায়ী মেসার্স সেলিম রাইস ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এ বছর প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ১৫ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রি-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৪, মিনিকেট ৭০-৭৫, নাজিরশাইল ৭৩-৭৫ ও স্বর্ণা ৫৫ টাকায়। কাটারি নাজির ৭৬-৮০ ও পাইজাম ৬৩-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি বছর প্রায় সব ধরনের চালই বস্তায় ৪৫০-৫০০ টাকা বেড়েছে।
মিলগেটের দাম লেখা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন জানিয়ে আব্দুল কুদ্দুস বলেন, মিলগেট ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য দুটি থাকতে হবে। এজন্য মিলগেট, আড়তদার ও খুচরা মূল্য লিখে সমন্বয় করতে হবে। এখন বস্তায় মিলগেটের দাম লেখা থাকে। এতে ক্রেতাদের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
চালের দাম বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, আমাদের পাইকারি বাজারেও চলতি বছর চালের দাম বেড়েছে। চলতি বছর ২৫টি জেলা নানান সময়ে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে চালের বাজারে। তিনি জানান, পুরোনো স্বর্ণা চাল ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়, মিনিকেট ৩ হাজার ২৫০ থেকে ৩ হাজার ৩৫০ টাকা, কাটারি ৩ হাজার ২৫০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ এবং নাজিরশাইল ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকায়।
চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১-১২ লাখ টন চাল কম উৎপাদন হবে বলে ধারণা করছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, এবার আমন ধানের আবাদ ছিল ৫০ দশমিক ৮১ লাখ হেক্টরে জমিতে। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৬১ দশমিক ৬২ লাখ টন। কয়েক দফা বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১-১২ লাখ টন চাল কম উৎপাদন হতে পারে। তবে এই দুর্যোগের ভেতরেও দেশের উত্তরাঞ্চলে ফলন বেশি হয়েছে।
চাল আমদানিতে সকল শুল্ক প্রত্যাহার
খাদ্যের মজুদ বাড়ানো ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৩১ অক্টোবর সরকার চাল আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক তুলে নিয়েছে। ২০ অক্টোবর চালের ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ, বিদ্যমান রেগুলেটরি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং বিদ্যমান ৫ শতাংশ আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এদিকে গত নভেম্বরে ৪ দফায় ২৭৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ লাখ ৮১ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এসবের মধ্যে সিদ্ধ চালের পরিমাণ ১০ লাখ ৬৫ হাজার ও আতপ চাল ৪ লাখ ১৬ হাজার টন। ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব চাল আমদানির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বর্তমানে চাল ও গমসহ মোট খাদ্য মজুদ আছে ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪৪ টন।
চাল আমদানি শুরু
গত ১৮ নভেম্বর ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ১০৫ টন চাল আমদানি করেছে যশোরের মাহাবুবুল আলম ফুড প্রোডাক্ট। ১০০ টন চালের আমদানিতে দাম পড়েছে ৪৫ হাজার ১৫০ ডলার। তাতে আমদানি করা চালের কেজিপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ টাকা। এর সঙ্গে এলসি, পরিবহন, বন্দরের ভাড়া, ব্যাংকসহ অন্যান্য খরচ যোগ করে প্রতি কেজি চালের দাম দাঁড়াচ্ছে ৫৫ টাকা।
স্বস্তি নেই আলু, আটাতেও
চলতি বছরজুড়েই আলোচনায় আছে আলুর বাড়তি দাম। এটি শুরু হয়েছিল গত বছর। রাজধানীর বাজারগুলোতে বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে। এমনকি গ্রামীণ বাজারগুলোতেও আলুর দাম ৭৫ টাকার মতো। অন্যদিকে গম আমদানিনির্ভর পণ্য হওয়ায় এর দামও বেশি। শুধু রুটি খাওয়া নয়, নানা ধরনের বেকারি আইটেমে আটার ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রতি বছর দেশে গমের চাহিদা রয়েছে ৭২ থেকে ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপন্ন হয় মাত্র ১২ লাখ টন। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ৬৯ লাখ টন গম আমদানি করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা। খোলা আটা সাধারণ মানুষ বেশি কিনে থাকে। আবার মিষ্টি আলুর দাম ৯০-১০০ টাকা কেজি। কাসাভা নামের আলুর কেজি ১৪০-১৫০ টাকা।
চলতি বছর গম চাষের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিডব্লিউএমআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, দেশে এবার সারা বছর আলুর দাম বেশি থাকায় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ ও রাজশাহীতে আলুর আবাদ বাড়ছে। যেসব জমি আলুর উপযোগী না, সেখানেও আলু চাষ হচ্ছে। এতে করে গমের চাষ কমে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বছরে ৭২-৭৫ লাখ টন গমের প্রয়োজন হয়। রুটি-বেকারি আইটেম ছাড়াও পোল্ট্রির খাদ্য তৈরিতে ভুট্টার সঙ্গে গম দিতে হয়। যেমন- পোল্ট্রি খাদ্যে ৫৫ ভাগ ভুট্টা থাকলে ৫ ভাগ গম দিতে হয়। এতে খাদ্যটি দানা বাঁধতে সুবিধা হয়। ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, গত বছর দেশে গমের আবাদ হয়েছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে। তার আগের বছর ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে। এই জমির পরিমাণ কম-বেশি হয়ে থাকে। গত বছর ১১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১২ লাখ টন গম উৎপাদন হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত গমের ৩৮টি জাত উদ্ভাবন হয়েছে। তার মধ্যে সোনালিকা, কাঞ্চন ও শতাব্দি জাতের গমের ফলন খুবই ভালো হয়েছিল। বর্তমানে বারি গম ৩৩, বিডব্লিউএমআরআই ২, ৩, ৪ ও ৫ জাতের গম অধিক ফলন হচ্ছে। প্রতিবিঘা জমিতে গমের ফলন হয় ১৫-১৬ মণ। তা ছাড়া গত জানুয়ারিতে অবমুক্ত হওয়া বিডব্লিউএমআরআই ৫ জাতের গমের ফলন হয় বিঘায় ১৭-১৮ মণ। তা ছাড়া বিডব্লিউএমআরআই গম ৪ লবণাক্ততা সহিষ্ণু জমিতেও চাষ করা যায়। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে এই জাতের ফলন ভালো হবে।
উৎপাদন বৃদ্ধির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
চাল, আটা ও আলুর বিকল্প খাদ্য কী হতে পারেÑ তা জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাইট টু ফুড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ভাতের বিকল্প বাংলাদেশে কিছু নেই। যদিও গম ও আলুর কথা সব সময় বলা হয়। এখন মূল কাজ হচ্ছে, যেভাবেই হোক ধান ও গমের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আলুর উৎপাদন বাড়লেও এ বছর প্রচুর দাম। দাম কমানোর জন্য সরকার ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো সেভাবে কাজ করতে পারেনি। আমদানিকারকরা নানান ফন্দিফিকির করে দাম বাড়ায়। সরকারের আরও কঠোর হওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। আর কীভাবে উৎপাদন ব্যয় কমানো যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।
অতীতেও অনেকেই ভাতের বদলে আলু খাওয়ার কথা বলেছেন; কিন্তু সেটি কখনোই তেমন কাজে আসেনি। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ভাতের কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, এমনিতেই দেশে নানান কারণে গমের বা আটার ব্যবহার বেড়েছে। গমের দাম আন্তর্জাতিকভাবে বেড়েছে, তার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়েছে। চালের দাম কিছুদিন হলো বেড়েছে। এটি হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার আলুর দাম তুলনামূলক বেশি যাচ্ছেÑ এটি হয়তো জলবায়ুর কারণে। চাল, ডাল, আটা, সবজির দাম গত কয়েক মাস ধরে অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাতের বদলে রুটি খাবেন, সেই সুযোগও নেই। আবার রুটির বদলে আলু খাবেন, সেটি তো আরও নেই। কেননা আলুর দাম চালের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে।
কয়েকটি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রথমত, চালের উৎপাদন বেশি হচ্ছে- তা অব্যাহত রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, খাদ্যপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় যেমন- যাতায়াত, রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি কমিয়ে আনতে হবে; যাতে করে ক্রেতাদের ওপর বেশি বোঝা না পড়ে। তৃতীয়ত, ধান সংগ্রহের জন্য সরকারকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। সরকার কৃষকের কাছ থেকে বেশি করে ধান সংগ্রহ করে কম দামে চাল বিক্রি করবে। চতুর্থত, সরকারকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকেই বেশি পরিমাণে গম সংগ্রহ করতে হবে। সরকার ট্রাক সেল, ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে অল্প দামে চাল ও আটা বিক্রি করে, যা নিম্ন আয়ের মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয়।
খাদ্য ও পুষ্টিবিদরা যা বলছেন-
খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভিন্ন কিছুর সন্ধান আপাতত পুষ্টি ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা পাচ্ছেন না। তারা ভাত, গম ও আলুকেই প্রধান খাদ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেন। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড রুরাল ইন্ডাস্ট্রিজের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এসব খাবার একেক দেশে একেকটা খায়। যেমনÑ ইউরোপিয়ানরা আলু খায়। তারা আলুকে নানানভাবে প্রসেসিং করে, নানান পদ বানিয়ে খায়। ভারতের হরিয়ানা ও কাশ্মির এবং পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরানের মানুষ আটা বেশি খায়। এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, জাপান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ায় ভাতের প্রচলন বেশি। যে দেশে বা অঞ্চলে যে খাবার বেশি উৎপাদন হয় সেটাই হয়ে ওঠে সেখানকার প্রধান খাবার। আফ্রিকার দেশগুলোর মানুষ কাসাভা খায়। ভাতের বিকল্প হিসেবে তারা দিনে কয়েকবার সেটি খায়। আমাদের কিছু অঞ্চলের (গারো পাহাড়, টাঙ্গাইলের মধুপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম) মানুষ কাসাভা খায়। ভাত, আটা, আলু, কাসাভাÑ এর যে কোনোটা খেয়েই মানুষ বাঁচতে পারে। আলু আমাদের অভ্যাস না, বরং তা আমরা সবজি হিসেবে খাই। চালের দামের চেয়ে আলুর দাম বেশি হলে তো মানুষ তা খাবে না।
তিনি আরও বলেন, আগে দেখতাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ আটা খেত। এখন দাম বেড়ে যাওয়ায় আটা বড় লোকদের খাবারে পরিণত হয়েছে। বিকল্প থাকলেও দাম কম না থাকলে মানুষ তা খাবে না। খাবারে কার্বোহাইড্রেড বেশি দরকার। আর ভাত, গম ও আলুতে কার্বোহাইড্রেড বেশি থাকে। ভুট্টা ও মিষ্টি আলুও কোথাও কোথাও খাওয়া হয়। তবে চারটি ছাড়া পৃথিবীতে বর্তমানে বিকল্প খাদ্য কিছু নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুল আরেফিন বলেন, খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়ায় মানুষ কম কিনছে ও খাচ্ছে। এতে পুষ্টিহীনতা তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের মানুষ সব ধরনের পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। কারণ হচ্ছে- তারা পর্যাপ্ত আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন পাচ্ছে না। খাদ্যদ্রব্যের দাম নাগালের বাইরে থাকায় প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও পুষ্টিগুণও কমে যাচ্ছে।
এতে বেশ কিছু সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, মানুষের ওজন কমে যাবে। দ্বিতীয়ত, ভিটামিন ঘাটতিজনিত কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। তিনি মনে করেন, শর্করাজাতীয় খাবার হিসেবে ভাত, আটা ও আলুর বিকল্প নেই।