প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ২২:২১ পিএম
অবশেষে ভাঙল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দীর্ঘ দিনের সিন্ডিকেট। এ বিভাগের দায়িত্বরত দুই অতিরিক্ত সচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া অপর একজন অতিরিক্ত সচিবকে পরিকল্পনা বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
বুধবার (২০ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
উপসচিব জামিলা শবনম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুই অতিরিক্ত সচিবকে ওএসডি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন, অমল কৃষ্ণ মন্ডল এবং ড. নাহিদ হোসেন। তাছাড়া অতিরিক্ত সচিব বদরে মুনির ফেরদৌসকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছেন। অমল কৃষ্ণ সর্বশেষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া বদরে মুনির ব্যাংকিং অনুবিভাগ এবং নাহিদ হোসেন পুজিবাজার বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব হিসেবে যোগদান করেন নাজমা মোবারেক।
এই অতিরিক্ত সচিবের জায়গায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাকে সংযুক্ত হয়েছেন আরো তিনজন অতিরিক্ত সচিব। তারা হলেন- ডঃ মোঃ মাহমুদ হাসান, ইতোপূর্বে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। আর মো. আহসান কবীরকে আনা হয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে। এতদিন তিনি বিসিকের পরিচালক ছিলেন। এছাড়া কপিরাইট নিবন্ধক মো. দাউদ মিয়াকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী সরকারের পতন হলেও দাপট দেখিয়ে যাচ্ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তারা সরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে আওয়ামী দোসরদের পদায়ন ও পদোন্নতি দিয়ে আসছিল। নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ থাকা সত্তেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছিলেন না অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এতদিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা বিতর্কিত উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুদার এবং অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারের দাপটে কোনঠাসা ছিলেন সবাই। আলী ইমাম মজুমদাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সড়ানোর পর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে সরকার। যদিও অর্থসচিবসহ আরও বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা এখনো বহাল আছেন।
সবশেষ ভুয়া অভিযোগের ভিত্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগ বন্ধ রাখার অভিযোগ আসে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি অভিভাবক শূণ্য রয়েছে। অর্থ উপদেষ্টাসহ সরকারের সর্বোচ্চ মহলের অনুমোদনের পরও শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কবিতা লিখার ভুয়া অভিযোগে রূপালী ব্যাংরে এমডি পদে আব্দুর রহিমের যোগদান বন্ধ করে রেখেছে তারা। অমল কৃষ্ণ মন্ডলের নির্দেশে তার নিয়োগ বন্ধ আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে কবিতা লিখার অভিযোগটি ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।
রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভিযোগ আব্দুর রহিমের মতো সৎ কর্মকর্তার নিয়োগ আটকে দেওয়ার পেছনে ঋণ খেলাপিদের যোগসাজশ রয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে অভিভাবকশূণ্য থাকার কারণে ব্যাংকটি নানামূখী সমস্যা মোকাবিলা করছে। অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের সুপরিশকৃত আব্দুর রহিমকে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করা দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।