প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৫৯ পিএম
ফাইল ফটো
অর্থনৈতিক মন্দায় ঘুরপাক খাচ্ছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতির প্রভাবে প্রয়োজনীয় খরচ কমাচ্ছে দেশটির জনগণ। থ্যাংকস গিভিং ডের পরের দিন ব্ল্যাক ফ্রাইডের মতো মূল্য ছাড়ের উৎসবেও বাজারগুলোতে বিক্রি হার তুলনামূলক কম। কভিড মহামারি শুরুর আগে যেখানে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে বিক্রি বাড়ত গড়ে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশের মতো, সেখানে এবছর বিক্রি বেড়েছে ৫ শতাংশের কাছাকাছি। একইসঙ্গে ই-কমার্সেও পণ্য বিক্রি কমেছে। গত বছরের তুলনায় এবছর অনলাইন অর্ডারে পণ্য বিক্রি কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ।
ব্ল্যাক ফ্রাইডে উপলক্ষে শুক্রবার ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য কোন কালো দিন নয়। বরং বছরের সেরা মূল্য হ্রাসের দিন হিসেবে এটি বিবেচিক। দিনটি ক্রেতাদের কাছে যেমন রঙিন তেমনি ব্যবসায়ীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। কম দামে ভালো একটা কিছু কিনতে এ দিনটির জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন ক্রেতারা। তবে এ বছরের চিত্রটা বেশ ভিন্ন।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের তুলনায় এবছর ক্রেতারা দর কষাকষি করে পণ্য কেনার দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনলাইন পেমেন্টস শপিং প্ল্যাটফর্ম বার্কলেকার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হোম ডেলিভারির সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ কমে গেছে। দ্রুত বিক্রি বাড়ার সম্ভবনাও নেই। একই তথ্য ওঠে আসছে ডেলিভারি প্রযুক্তি গ্রুপ মেটাপ্যাকের প্রতিবেদনে। এ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটিও বলছে, ঐতিহ্যগতভাবে ব্ল্যাক ফ্রাইডের শুরুর দিন বছরের সবচেয়ে ব্যস্ততম কেনাকাটার দিনগুলোর মধ্যে একটি। তবে এবছর পণ্য ডেলিভারি চাহিদা ছিল ৫ শতাংশের কম।
যুক্তরাজ্যের বাজার গবেষণা সংস্থা স্প্রিংবোর্ডের মতে, কভিড শুরুর আগে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে যেখানে গড়ে ক্রেতা সংখ্যা বাড়ত ১৫ শতাংশ এবং লন্ডনে প্রায় ৩০ শতাংশ। সেখানে মহামারির পর গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা সংখ্যা বেড়েছে ৫ শতাংশ। বিক্রি কমার বিষয়ে স্প্রিংবোর্ডের অন্যতম পরিচালক ডায়ান ওয়েহরেল বলেন, ক্রেতা সংখ্যা যেভাবে কমছে তা আশঙ্কার বাইরে নয়, এটি একটি বিপর্যয়ও নয়। ক্রেতারা তাদের ব্যয় সম্পর্কে আরও সতর্ক হচ্ছে। তাই ব্যক্তিগত কেনাকাটার বিষয়গুলোও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে সামগ্রিক বাণিজ্যের গতি আশঙ্কার চেয়েও অনেক বেশি কমে যেতে পারে। এটি আমাদের জন্য কঠিন ক্রিসমাস হতে চলেছে। খুচরা বিক্রেতাদের জন্য খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।
এদিকে বার্কলেকার্ড পেমেন্টের প্রধান মার্ক পেটিকান বলেন, ‘আমরা যে পরিসংখ্যান দেখছি তাতে ধারণা করা যায় চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট সত্ত্বেও এ বছর ব্ল্যাক ফ্রাইডে স্থিরভাবে শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহের সোমবার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিক্রি বাড়তে পারে।’
বার্কলেকার্ড জানিয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্ল্যাক ফ্রাইডের আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বিল্ডিং সোসাইটি বলছে ২০২১ সালের তুলনায় এবছর ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে তাদের গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ৮ শতাংশ। ২০২০ সালের তুলনায় গ্রাহক বাড়ার অনুপাত ১ তৃতীয়াংশ।
দেশের অনেক অংশে ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে জ্বালানি খরচ বাড়ায় অতিরিক্ত নগদ অর্থ সঞ্চয়ের দিকে মনোযোগী জনগণ। তবে গ্লোবালডেটার বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই সপ্তাহের ব্ল্যাক ফ্রাইডে সময়ে ব্রিটিশরা ২ দশমিক ১ শতাংশ খরচ বাড়াবে। ২২ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর সময় পর্যন্ত ব্রিটিশরা ২ হাজার ২৬২ কোটি ইউরো খরচ করবে।
সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের গবেষণা বলছে, এ বছর ব্যয় করার মতো অর্থ জনগণের হাতে নেই। ফলে অনেক পরিবার খরচ কমাবে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আসবাবপত্রের মতো বড় ব্যয়ের খাতগুলোতে নাটকীয়ভাবে ব্যয় কমে গেছে। তবে শীত নামার সঙ্গে সঙ্গে কাপড়ের বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করেছে।