প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ০৮:১৩ এএম
ইসাব আয়োজিত সেমিনার। প্রবা ফটো
অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে ফায়ার সেফটির বিষয়ে সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করেছে ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব)।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ফায়ার সেফটির বিষয়ে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে ফায়ার সেফটি ও সিকিউরিটির বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকেও অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ইসাবের ৮ম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো ২০২২-এর সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
ইসাবের যুগ্ম সচিব জাকির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশকে ও দেশের পোশাক খাতকে আগুনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে চাই। প্রতিটা স্কুলে বাচ্চাদের এই বিষয়ে জ্ঞান দিতে চাই, সচেতন করতে চাই। প্রতিটা দেশেই কিন্তু বাচ্চাদের ফায়ার সেফটির বিষয়ে সচেতন করা হয়, কিন্তু আমাদের দেশে শুরু হয়নি। আমি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। আশা করছি এটা আমরা করতে পারব। পাঠ্যপুস্তকেও ফায়ার সেফটির বিষয়টি সংযুক্ত করতে পারব। এই খাতকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরব। সরকার কতটুকু কাজ করবে, এটা নক করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের। বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীতে সেফ অ্যান্ড সিকিউর করতে চাই। সেজন্য নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা জরুরি।’
নগরবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘ফায়ার সেফটির বিষয়ে সতর্কতা জরুরি। সচেতনতার জন্য রেগুলার ট্রেনিং দিতে হবে। সচেতন করার জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি এই বিষয়ে সরকারকে বাধ্য করতে। বর্তমানে ফায়ার সেফটির কোনো বিকল্প নেই। এই বিষয়ে শিল্পকারখানা রেগুলার মনিটরিং করতে হবে। সরকার বিষয়টি অনুধাবন করছে, বিডা (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) উদ্যোগ নিচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে কাজ করবে। সচেতনতার জন্য ইনফোর্স করতে হবে।’
‘আমাদের সোচ্চার হতে হবে ফায়ার সেফটির বিষয়ে। আমরা সবাই জানি আগুন ধরার অন্যতম কারণ গ্যাস লাইন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। এই বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রতিবছর ইলেকট্রিক ও লিফট মেইনটেন করতে হয়। এটা আমাদের জন্য নতুন মনে হতে পারে, কিন্তু পাশের দেশ ভারত-শ্রীলঙ্কা এগুলো রেগুলার করে থাকে। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। বারবার কেন আগুন লাগার মতো ঘটনা ঘটবে। এটা বারবার মেনে নেওয়া যায় না। দরকার হয় আমাদের ফোর্স করতে হবে ফায়ার সেফটির নিয়মকানুন মানতে।’
সেমিনারে দর্শক সারি থেকে নানা ধরনের প্রশ্ন নেওয়া হয়। সবার একটাই চাওয়া অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহতা থেকে বাংলাদেশ ও দেশের পোশাক খাতকে বাঁচাতে হবে। বারবার অগ্নিকাণ্ড থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে যাতে করে একটা পোশাক শ্রমিকের প্রাণ আর না যায়। পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন সরানোরও দাবি জানানো হয়।
গাজীপুর থেকে আসা এক পোশাকশ্রমিক রবিন হোসেন বলেন, ‘বারবার পোশাক কারখানায় আগুন লাগে। আর বিনিময়ে আমাদের নিহতদের লাশ বাবদ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। একটি জীবনের মূল্য ১০ হাজার হতে পারে না। পোশাক কারখানার আগুন বন্ধ করতে হবে। আমাদের কাজের জায়গা যেকোনো মূল্যে নিরাপদ করতে হবে। আমরা মানুষ, আমাদেরও জীবনের মূল্য আছে।’
এক ফায়ার সার্ভিস কর্মীর দাবি, অধিকাংশ পোশাক কারখানায় ফায়ার সেফটির কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি নন টেকনিশিয়ান। এখানে টেকনিশিয়ান লোক নিয়োগ দিতে হবে। দরকার হয় এদের যথাযথভাবে ট্রেনিং দিতে হবে।
পুরান ঢাকা থেকে আসা কবির হোসেন বলেন, ‘পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন এখনও সরেনি। ফলে আমরা শঙ্কা নিয়ে রাতে ঘুমাতে যাই। যত্রতত্র যাতে করে ভবন না নির্মাণ করা হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
ইসাবের পরিদর্শক ইঞ্জিনিয়ার মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো ভবন, শিল্পকারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউন আছে এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি। এ ছাড়া অনেক পোশাক কারখানাও ভিজিট করেছি। তবে আমরা সরেজমিন ঘুরে দেখেছি নানা ঘাত-প্রতিঘাতের ফলে পোশাক কারখানাগুলো এখন ফায়ার সেফটি নিরাপত্তার বিষয়ে অনেক সচেতন। এই বিষয়ে তারা কাজও করছে। তবে এসব পোশাক কারখানার তুলনায় আবাসিক এলাকার ভবনগুলো পিছিয়ে। আবাসিক এলাকা ফায়ার সেফটি নিয়ে উদাসীন।'
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ফায়ার সেফটি ও নিরাপত্তায় নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি। ফায়ার সেফটি ও সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে ছয় মাস মেয়াদি ও এক বছর মেয়াদি কিছু কোর্স পরিচালনা করি। যারা কারখানায় ফায়ার সেফটির কাজে কর্মরত আছেন, তারা এটাতে অংশ নিতে পারবেন। এর ফলে তারা ফায়ার সেফটির বিষয়ে জানতে পারবেন। এতে করে আমাদের পোশাক খাত ও দেশ আরও নিরাপদ হবে।‘
ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকংসহ ৩০টিরও বেশি দেশের ১৬০টিরও বেশি ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছে।