প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৩৬ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২০:১১ পিএম
বিএফআইইউর সঙ্গে বাজুসের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়াল। বাজুসের সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর সেখানে ছিলেন। প্রবা ফটো
অবৈধভাবে স্বর্ণের বার আনা বন্ধ হলে অনেকাংশেই অর্থপাচার কমবে। পাশাপাশি ডলার সংকট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। শিগগিরই কাঁচামাল আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশেই স্বর্ণ উৎপাদন হবে। ফলে চোরাচালান বন্ধ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। চোরাচালানের মতো এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাজুসের সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সঙ্গে বাজুসের এক বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়াল।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি বাজুসের কোনো সদস্য স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকেন তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের ৪০ হাজার সদস্যের মধ্যে এখন পর্যন্ত কেউ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নেই বলে দাবি করে তিনি।
সোনা চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাজুসের সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং সেল গঠনের দাবিও জানিয়েছে বাজুস। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে আরও কঠিন আইন প্রণয়নের প্রস্তাবও জানানো হয় বৈঠকে।
সভায় বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের মতো আন্তর্জাতিক সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে বিএফআইইউর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সভায় মাসুদ বিশ্বাস বলেন, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং (এপিজি)’ কর্তৃক ২০১৫-১৬ মেয়াদে পরিচালিত তৃতীয় পর্বের মিউচ্যুয়াল ইভ্যালুয়েশনে বাংলাদেশকে ‘কমপ্লায়েন্ট কান্ট্রি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। রেটিং অক্ষুণ্ন রাখতে বাজুস ও বিএফআইইউর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও সুদৃঢ়করণ এবং স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানান।
সভায় বাজুসের প্রেসিডেন্ট জুয়েলারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হতে পারে, সে লক্ষ্যে সকল জুয়েলারি ব্যবসায়ী সম্মিলিতভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন বলে অঙ্গীকার করেন। তিনি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর আওতায় তাদের দায়-দায়িত্ব ও নির্দেশনা পালনে বাজুস সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিএফআইইউর সহযোগিতা কামনা করেন। এ ছাড়া সভায় মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন চ্যলেঞ্জ মোকাবিলায় বিএফআইইউ ও বাজুসের যৌথ ভূমিকার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।