প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৩২ পিএম
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীল জ্বালানি তেলের দাম। সরবারহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় কখনো বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, আবার চাহিদা কমায় হয়েছে দরপতন। তবে রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল করতে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। এবার রাশিয়ান জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাবনা আনল সমৃদ্ধ অর্থনীতির ৭ টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন জি-৭। তবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা কোন দেশকে জ্বালানি তেল সরবারহ করা হবে না বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। খবর রয়টার্স।
গ্রুপ অব সেভেন- জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো রাশিয়ান তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ ইউএস ডলার নির্ধারণের প্রস্তাবনা দিয়েছে। রাশিয়া যেন ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে অর্থায়ন বাড়াতে না পারে তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ২০২১ সালে রাশিয়া জ্বালানি তেল রপ্তানি থেকে তাদের মোট রাজস্বের ৩৬ শতাংশ অর্জন করেছিল, যার পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ২০০ কোটি ডলার। তবে চলতি বছরে দেশটি তাঁর মোট আয়ের ৪২ শতাংশ অর্জন করবে জ্বালানি তেল বিক্রির খাত থেকে যার মূল্যমান দাঁড়াবে ১৯ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। তবে রাশিয়া যেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে বাড়তি সুবিধা নিতে না পারে তাই নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণের পথে হাঁটছে জি-৭। আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে রাশিয়ান জ্বালানি তেলের সমুদ্র-বাহিত রপ্তানির মূল্যসীমা কার্যকর করবে সংস্থাটি।
এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে রাশিয়ান জ্বালানির ক্রেতা হিসেবে চীনের পরেই অবস্থান করছে ভারত। বিভিন্ন দেশের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এড়াতে ভারতের জ্বালানি তেলের বাজার দখল করছে রাশিয়া। একইসঙ্গে ভারতকে বড় ধরণের ছাড় দিচ্ছে দেশটি। দুটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়ান ইউরাল ক্রুড ভারতে ব্যারেল প্রতি ২৫ থেকে ৩৫ ডলার কম দামে সরবারহ করছে মস্কো। বুধবার যেখানে রাশিয়ান অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ছিল ৮৫ ডলার সেখানে তারা ভারতকে তা সরবারহ করেছে ৫০ থেকে ৬০ ডলারে। যা জি-৭ এর নির্ধারণ করে দেওয়া মূল্যমানের চেয়েও কম।
তবে জ্বালানি তেলের নির্ধারিত মূল্যমান রাশিয়াকে চাপে ফেলতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নির্ধারিত মূল্যমান মেনে রাশিয়া জ্বালানি তেল সরবারহ করতে পারবে না এমনটা ভাবার কারণ নেই। কারণ রাশিয়া এমনিতেও কম দামে তার ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি তেল সরবারহ করছে। তাই রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা দেশগুলোতেও কোন সমস্যা ছাড়াই অশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে সক্ষম হবে রাশিয়া।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ইউএস ট্রেজারি নির্দেশিকা বলছে , যে ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) মূল্যমান কার্যকর করতে যাচ্ছে সেখানে বীমা এবং শিপিংয়ের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। এটি সেরকম মূল্যমান হবে যেখানে ক্রেতাকে রাশিয়ান টার্মিনাল থেকে জ্বালানি তেল তুলে নিতে হবে। রাশিয়ার বিক্রিত জ্বালানি সরবারহ খরচ বা বীমাভার গ্রহণ করতে হবে না । এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যেসকল দেশ রাশিয়ার তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা মূল্যমানের অধীনেও জ্বালানি তেল কেনার অনুমতি পাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে অনেক ট্রেডিং সূত্র বলছে, অন্যান্য ইউরাল ক্রুড ক্রেতাদের কাছে ব্যারেল প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ ডলার ছাড়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করছে রাশিয়া। এমনকি ভারত -রাশিয়া থেকে যে কম দামে পরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনে তাতেও বীমা এবং সরবারহয়ের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে।
জি-৭ এর পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় জোটের দেশগুলোর কাছে তেল বিক্রি করবে না রাশিয়া। যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানি তেলের দাম বেঁধে দিতে চায় তাদের কাছে তেল বিক্রি করবে না বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। মূল্যসীমা বেঁধে দেওয়ার এ পদক্ষেপ বিশ্বের তেলের বাজারকে উল্লেখযোগ্যভাবে অস্থিতিশীল করে তুলবে বলে মন্তব্য করেছে মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যেসব কোম্পানি মূল্যসীমা আরোপ করবে তারা আর রাশিয়ার তেল পাবে না।