প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১৬:২৪ পিএম
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসাব আয়োজিত ৮ম আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ অন্য অতিথিরা। প্রবা ফটো
শিল্পায়নের জন্য অগ্নি নিরাপত্তা খুবই জরুরী। দেশ উন্নত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ভেতরে বাড়ছে শিল্পকারখানা। তাই শিল্পকারখানার নিরাপত্তার জন্য অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) আয়োজিত ৮ম আন্তর্জাতিক ফায়ার, সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো ২০২২ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মইন উদ্দিন বিএসপি ( বার) এনডিসি, পিএসসি, জি, এম ফিল ও বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসাবের সভাপতি জহির উদ্দিন বাবর।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের ৩২টি উপজেলায় নতুন করে ফায়ার সার্ভিসের ডিপো স্থাপন করা হয়েছে এটা দেশের বড় অর্জন। আমাদের সবকিছুতেই অর্জন আছে, এ অর্জন আরো বাড়াতে হবে। শিল্পের জন্য এসব যন্ত্রপাতি খুবই প্রয়োজন। সরকার প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। প্রদর্শনী হওয়া ভালো এ সরকারের বড় পরিবর্তন আনছে।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পথে আছি। বাজারে ইলেকট্রনিক্স সেফটি পণ্য খাতে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পায়নের জন্য এগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফ্রিজ উৎপাদন হবে এটা কেউ কল্পনাও করেনি। এখন বাংলাদেশ থেকে টিভিও রপ্তানি হচ্ছে। আপনাদের শিল্পের অনেক সম্ভাবনা আছে। আপনারা এটাকে কাজে লাগান।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মইন উদ্দিন বলেন, আমরা প্রত্যেকদিনই কোন না কোন দুর্ঘটনাকে মোকাবেলা করছি। বিএমডিপো সর্বশেষ উদাহরণ। যারা সেখানে জীবন দিয়েছেন তাদেরকে আমরা অগ্নিবীর হিসেবে ঘোষণা করেছি। আমি বিল্ডিংয়ের মালিক ও ফ্যাক্টরি মালিকদের অনুরোধ করেছি অগ্নি নির্বাপক রাখার জন্য।
বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, শিল্পায়নের এ সময়ে নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়ানো দরকার। আমাদের ১০০টি সবুজশিল্পের মধ্যে ৪৮টি বাংলাদেশের, এটা নিয়ে আমরা গর্বিত। এখন আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে আমরা আরো এগিয়ে যাব। এসব লোকাল সেফটি নিশ্চিতের জন্য ইসাব জমি চেয়েছে, আমিও সরকারকে অনুরোধ করব তাদেরকে জমি দেওয়ার জন্য।
এই এক্সপোতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড, মধ্যপ্রাচ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকংসহ ৩০টির বেশি দেশের ১৬০টিরও বেশি স্বনামধন্য এবং নেতৃস্থানীয় ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছে। এই ট্রেড এক্সপোজিশনটিতে ২৫টি প্যাভিলিয়ন এবং ৫০টি বুথে সারাবিশ্ব থেকে অগ্নি নিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
আইএফএসএসইর এই ৮তম সংস্করণ চারটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা প্রযুক্তিগত সেমিনার আয়োজন করছে, যার মধ্যে দুটি বৃহস্পতিবার এবং বাকি দুটি অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় দিন শুক্রবার। এছাড়া শেষ দিনে একটি আকর্ষণীয় গোলটেবিল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, ইসাব এক্সপোর দ্বিতীয় দিনে 'ইসাব সেফটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২২'-এর আয়োজন করেছে।
মেলাটি ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নিবন্ধিত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। বিনামূল্যে নিবন্ধনের জন্য ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও, অংশগ্রহণকারীরা ইভেন্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও নিবন্ধন করতে পারেন: https://www.ifsse.com/registration