প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ২১:৩৫ পিএম
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় মঙ্গলবার জাতীয় ফার্নিচার মেলার ১৯তম আসর উদ্বোধন করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। প্রবা ফটো
জাতীয় ফার্নিচার মেলার ১৯তম আসর। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় চলবে এ মেলা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কোনো টিকিট ছাড়াই মেলা পরিদর্শন করতে পারবে দর্শনার্থীরা।
বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতি (বিএফইএ) আয়োজিত জাতীয় ফার্নিচার মেলা ২০২৪-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র ফার্নিচার খাত। এর সঙ্গে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ জড়িত। আমরা এই শিল্পের পরিধি আরও বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ খাতে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ অন্যান্য জটিলতা নিরসনেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মধ্যবিত্তদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে যেন ফার্নিচারের দাম থাকে সেদিকে নজর রাখবেন।’
বিএফইএর চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও সিইও মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও এফবিসিসিআই পরিচালক ড. কেএম আখতারুজ্জামান।
মেলায় ৩০টি আসবাবপত্র তৈরি প্রতিষ্ঠানের মোট ১৮৫টি স্টল রয়েছে। যেখানে রয়েছে হাতিল, আখতার, ওমেগা ফার্নিচার, নাভানা, রিগ্যাল, নাদিয়া, ব্রাদার্স ফার্নিচারের মতো নামিদামি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। এ ছাড়া মেলায় ফার্নিচারের পাশাপাশি ঘরের আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রও বিক্রি হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ফার্নিচারের বাজার রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বে ফার্নিচার খাতের বাজার হতে পারে ৬৫ হাজার ৪৬০ কোটি ডলারের। বাংলাদেশ একসময় শতভাগ ফার্নিচার আমদানি করত। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও ফার্নিচার রপ্তানি করছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশে এ খাতে আরও ভালো করতে পারে।
তারা বলেন, দেশে আসবাবপত্র বা ফার্নিচার খাতের বাজার ২৫ হাজার কোটি টাকার। তবে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা, উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা, আলাদা ফার্নিচার শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠা, ভ্যাট কাঠামো সহজ করা এবং এ খাতের উদ্যোক্তা ও কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক ফার্নিচার বাজারের একটা বড় অংশ দখলে নিতে পারে বাংলাদেশ।
ফার্নিচার শিল্পের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশের ফার্নিচার খাত শ্রম, পুঁজি ও প্রযুক্তিঘন। বাংলাদেশে এসব পণ্যের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও রপ্তানি খুব একটা সম্প্রসারিত হচ্ছে না। ফার্নিচারের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশসমূহে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ০.১০%। শ্রমমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চীন এ খাত থেকে ক্রমশ সরে যাচ্ছে। সরকারের নীতিসহায়তা পেলে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ। তাই সরকার যদি এ শিল্প খাতে একটু সুনজর দেয় তাহলে এ খাতে আরও অনেক মানুষ কাজ করার সুযোগ পাবে। বছরে গার্মেন্টস খাত থেকে যেমন একটা বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে, তেমনি এ খাতে সরকার সুনজর দিলে এখান থেকেও একইভাবে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।