মহসিন আলী, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ১১:২২ এএম
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ১১:২৩ এএম
বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ পথে পণ্যবোঝাই ট্রাক । প্রবা ফটো
দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমে অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। ফলে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ধ্বস নেমেছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে এ বন্দরে আমদানি হয়েছিল ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন। পরের অর্থবছরে হয়েছিল ২০ লাখ ৩ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন। আর গেল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ১৭ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ মেট্রিক টন। এক বছরে পণ্য আমদানি কমেছে ২ লাখ ৮২ হাজার ২২৯ মেট্রিক টন।
কাস্টম কর্তৃপক্ষ বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুইমাস জুলাই-আগস্টে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেনাপোল দিয়ে পণ্য আমদানি কমেছে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার ২২৯ হাজার মেট্রিক টন। আর রপ্তানি কমেছে ১০ হাজার মেট্রিক টন। তাছাড়া উচ্চ রাজস্ব আয়ের পন্য গাড়ির চেসিস আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ডলার সংকটের কারণে খাদ্যপণ্য ছাড়া অন্য পণ্য আমদানিতে ব্যাংক এলসি খুলতে অনীহা দেখাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতে পারেননি।
বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ২ লাখ ৫ হাজার ৫৬৪ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে। রপ্তানি হয়েছে ৫৬ হাজার ৫২৭ মেট্রিক টন। এ ছাড়া গাড়ির চেসিস আমদানি হয়েছে ৭৮১টি। গত অর্থ বছরের একই সময়ে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি হয় প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। রপ্তানি হয়েছিল ৬৫ হাজার ৬৪৯ মেট্রিক টন পণ্য। সেই হিসাবে গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছরের একই সময়ে পণ্য আমদানি কমেছে প্রায় দুই লাখ টন। রপ্তানির পরিমান কমেছে ৯ হাজার ১২২ টন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুর রহমান জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ও বর্তমানে ডলার সংকটের কারণে সরকার এলসিতে শতভাগ মার্জিন শর্ত দিয়েছে। আবার ব্যাংকগুলো ডলার সংকট দেখিয়ে এলসি খুলছে না। যে কারণে গেল অর্থবছরে আমদানি কমে গেছে।
বেনাপোল আমাদানি রফতানিকারক সমিতির সহ সভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, চাহিদা মত ডলার না পাওয়ায় আমরা ব্যাংকে এলসি কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। আবার বাজারেও বিক্রি কমেছে। সম্প্রতি ব্যাংকগুলো সুদহার অনেক বাড়িয়েছে। এতে আমদানিকারকরা ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। যেকারণে অনেক ব্যবসায়ী পণ্য আমদানি করছে না।
ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, এলসি করতে না পারায় ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি করতে পারছেন না। যেকারণে আগের তুলনায় পণ্য আমদানি কমেছে। তবে আশা করছি চলতি অর্থবছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, সরকার এলসি করতে শতভাগ মার্জিন দেবার নিয়ম করেছে। গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকগুলো এলসি খুলছেনা। এতে আমদানির সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার ব্যবসায়ী অর্থনৈতিকভাবে দুরবস্থায় রয়েছেন। আমদানিকারকরা রয়েছে চরম বিপাকে। আমদানি বানিজ্য যেমন ভালো নেই, তার ওপর পণ্য আমদানি করতে না পারলে আমদানিরকারকরা আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাবে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার সাফায়েত হোসেন বলেন, দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি ও ডলার সংকটে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে এলসি খুলতে পারছেন না। যেকারণে গত বছর পণ্য আমদানি কমে গেছে। রাজস্ব আয়ও কমে গেছে। উচ্চ মার্জিনের কারণে সব ব্যাংকে এলসি কমেছে। ডলার সংকট কেটে গেলে আমদানি সহজ হয়ে আসবে।