সরোয়ার জাহান, ডিমলা (নীলফামারী)
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৪ ০৯:৪৩ এএম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৪ ১১:১৬ এএম
নিজের ক্ষেতে নীলফামারীর ডিমলার শরীফুল ইসলাম ডলার। প্রবা ফটো
উত্তরের জনপদ নীলফামারীর ডিমলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আনারস। ডিমলার সুন্দরখাতা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান ১৯৯০ সালে শখের বসে আনারস চাষ শুরু করেন। সেখানে সফল হলে পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে ৩ একর জমিতে শুরু করেন আনারস চাষ। তার মৃত্যুর পর ছেলে শরীফুল ইসলাম ডলার আনারস চাষে মন দেন। বাবার দেখানো পথে বর্তমানে আনারস চাষ করে সফল তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় ও মধুপুরি আনারসের লম্বা ধারালো সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে রসালো ও স্বাদে ভরপুর আনারস। কোনোটার রঙ গাঢ় সবুজ, কোনোটা লাল খয়েরি রঙ ধারণ করেছে। সিলেট বা টাঙ্গাইলের মতোই রসালো মিষ্টি এই আনারস। আকার এবং স্বাদও এক। প্রায় ২৯ বিঘা জমিতে তিনি চাষ করেছেন আনারস। প্রতিদিন সেখানে কাজ করেন এলাকার ২০ জন শ্রমিক।
এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কেউ আনারস চাষ না করলেও চলতি বছর স্থানীয় ও অন্যান্য উপজেলা থেকে আগ্রহী চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও উৎসাহ দিচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা ডলার।
পাশের গ্রামের কৃষক লিটু ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকে আমরা দেখে আসছি এখানে আনারসের চাষ হয়। এখানে এসে বিভিন্ন পরামর্শ ও চাষাবাদ পদ্ধতি দেখে অভিজ্ঞতা নিচ্ছি। আগামী মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে আনারস চাষ করব।
রামডাঙ্গা গ্রামের শিক্ষক মনোয়ার হোসেন বলেন, আমি নিজ জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষ করি। আমি আগামী মৌসুমে ১ একর জমিতে আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে আনারস চাষ করতে চাই।
স্থানীয় কৃষক হাবিবুর বলেন, অন্যান্য ফসল উৎপাদনে সার ও কীটনাশক দিতে হয়, ফলে খরচ বেশি হয়। আনারসে তেমন কীটনাশক দিতে হয় না, উৎপাদন খরচও কম। কৃষি অফিস আমাদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে। আমাদের চাষ দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও আনারস চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তরুণ উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম ডলার বলেন, আমি বর্তমানে প্রায় ১০ একর জমিতে আনারস চাষ করছি। ১ বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৭ হাজার চারা রোপণ করা যায়। ফল পাকার আগ পর্যন্ত প্রতি বিঘায় খরচ হয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। প্রতি পিস আনারস ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হলে ১ বিঘা জমিতে আনারস বিক্রি হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। এ বছর ৫০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি হতে পারে। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন কৃষক বাগান দেখতে আসে, তারা পরামর্শ নিয়ে যায়। হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় গত মৌসুমে ১২০০ চারা সরবরাহ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, ‘ডিমলায় বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করছেন শরিফুল ইসলাম ডলার। তার উৎপাদিত চারার মাধ্যমে অন্যদের আনারস চাষে আগ্রহী করে তুলবার পরিকল্পনা আছে আমাদের।’