প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ২২:১৪ পিএম
দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও থেমে থাকেনি মেগা প্রকল্পের কাজ। এ কারণে নানা সংকট সত্ত্বেও আটটি মেগা প্রকল্পের ৯১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ফাস্টট্রাকভুক্ত প্রকল্পের অগ্রগতি সর্বশেষ (জুন) প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ী আওয়ামীলীগ সরকারের অগ্রাধিকার প্রাপ্ত আটটি মেগা প্রকল্পের গড় ভৌত অগ্রগতি ৯১ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ৭৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। গড় অগ্রগতি ৯১ শতাংশের ওপরে হলেও সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রূপপর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র মাত্র ৬৯ শতাংশ। অথচ এই প্রকল্পেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি খরচ করা হয়েছে। বাকিগুলোর অগ্রগতি ৮৭ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে। একটি বাদে অন্য প্রকল্পগুলোর মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বোঝা বাড়িয়েছে এসব মেগা প্রকল্প। যা পরিশোধ করতে গিয়ে দেশের অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সরকার যে পরিমাণ ঋণ পাচ্ছে তার চেয়ে বেশি যাচ্ছে ঋণ পরিশোধ করতে। মেগাপ্রকল্পগুলোকে অর্থনীতিবিদরা সাদা হাতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলেও তারা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব প্রকল্পের অর্থায়ন পুর্নবিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
পদ্মা সেতুর কাজ শতভাগ শেষ
২০০৯ সালে শুরু হওয়া পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক দফা খরচ বাড়িয়ে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বাস্তব অগ্রগতি শতভাগ হলেও আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করা হয় পদ্মা সেতু।
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শেষ ৯৮.৬৮ ভাগ
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৭ সালে। শেষ করার কথা ছিল চলতি বছরের মার্চ মাসে। কিন্তু মেয়াদ শেষে ৭ বছরেও প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ হয়েছে ৯৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ২০ শতাংশ।
৯৮ শতাংশ শেষ দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ
২০১০ সালে নেওয়া দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে গুনদূম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পটি শেষ করার কথা ছিল চলতি বছরের জুনে। কিন্তু ১৪ বছর ধরে চলতে থাকা প্রকল্পটি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ি, প্রকল্পের ভৌত কাজ শেষ হয়েছে ৯৮ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫০ দশমিক ১৮ শতাংশ।
পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ শেষ ৯২.৭৫ শতাংশ
২০১৬ সালের শুরু হয় পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প। চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি। ৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন আলোচ্য প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি ৯২ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে হয়েছে ৮৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগের কাজ হয়েছে প্রায় ৯৪ শতাংশ
২০১৬ সালে শুরু হওয়া পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পটিও চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়নি। ভৌত কাজ শেষ হয়েছে ৯৪ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।
মেট্রোরেলের কাজ শেষ ৯০ শতাংশ
২০১২ সালে শুরু হওয়া মেট্রোরেল লাইন-৬ প্রকল্পটির উত্তরা-আগারগাঁও অংশের কাজ শেষ হলে ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয়। এরপর গত ডিসেম্বরে মতিঝিল পর্যন্তও খুলে দেওয়া হয়। জুন পর্যন্ত ভৌত কাজ শেষ হয়েছে ৯০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
মহেশখালী-মাতারবাড়ীর কাজ শেষ ৮৭.৫০ শতাংশ
মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম (১২টি প্রকল্পযুক্ত) প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ভৌত কাজ হয়েছে ৮৭ দশমিক ৫০ ভাগ। আর্থিক অগ্রগতি ৭৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। মেয়াদ রয়েছে ২০২৬ সাল পর্যন্ত।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি ৬৯.০১ শতাংশ
২০১৬ সালে শুরু হওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটির শুরু থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৯ দশমিক ০১ শতাংশ। ভৌত অগ্রগতিতে ফাস্টট্রাক প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।