আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৩ পিএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:০৫ পিএম
ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আশুলিয়ায় ছুটির দিনেও ১৫০ কারখানা চালু হয়েছে। প্রবা ফটো
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের জেরে বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা। শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ১৫০টিরও বেশি তৈরি পোশাক কারখানা চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক রপ্তানি কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসব কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সারোয়ার আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, হাজিরা বোনাস বাড়ানোসহ শ্রমিকদের ১৮ দফা দাবি পূরণের যৌথ ঘোষণার পর উৎপাদনে ফিরেছে সিংহভাগ কারখানা। তবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, পর্যালোচনায় থাকা ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ১৫ ভাগ ইনক্রিমেন্টের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুটি কারখানায় অসন্তোষ ছিল।
কারখানার ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, যথাসময়ে পণ্য রপ্তানির চাপ বাড়ছে। তাই উৎপাদন বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই ছুটির দিনেও কারখানা খোলা রাখা হয়েছে।
বিজিএমইএর সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশের সবচেয়ে শ্রমিকঘন শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানায় কাজ করেন ৯ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক। দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ায় এখন সবাই একযোগে দেশের উন্নয়নে কাজ করবেন। শ্রমিক আন্দোলনসহ নানা কারণে শিল্পাঞ্চলে আটটি কারখানা এখনও বন্ধ রয়েছে। কাজ নেই মজুরিও নেই ভিত্তিতে এসব কারখানার শ্রমিকরা কোনো বেতন-ভাতা পাবেন না। এ ছাড়াও সাধারণ ছুটি ঘোষণায় রয়েছে ৯টি তৈরি পোশাক কারখানা। এই ১৭টি শিল্প কারখানা নিয়ে শিল্পাঞ্চলে বন্ধ রয়েছে ১৮৬টি কারখানা। এসব কারখানার সিংহভাগ দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমালিকরা।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম জানান, আজ (শুক্রবার) ছুটির দিনেও দেড় শতাধিক কারখানার শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে উৎপাদনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই কারখানাগুলো খোলা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চল ঘিরে রয়েছে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ, শিল্প পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাসদস্যদের তৎপরতা। বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা নিয়ে মাঠে রয়েছেন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও।