প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:১৪ পিএম
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:২৮ পিএম
বেসরকারি খাতের ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চলতি হিসাবের ঘাটতি ১৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, কমার্স ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক তারল্য সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই ব্যাংকগুলো অন্যান্য সবল ব্যাংক থেকে সহায়তা নিতে পারবে। যেখানে গ্যারান্টার থাকবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া এক্সিম ও ইসলামী ব্যাংক আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে গ্যারান্টি চুক্তি হয়নি। এদিকে পদ্মা ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক এখন পর্যন্ত কোন আবেদন করেনি।
মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা বলেন, হিসাবটি প্রতিদিনই পরিবর্তন হচ্ছে। তাই ব্যাংকভিত্তিক তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এসব ব্যাংকের সমন্বিত ঘাটতি ১৮ হাজার কোটি টাকার মতো। ইতিমধ্যে পাঁচটি ব্যাংক টাকার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। আরো দুইটি ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। ব্যাংক দুটি হচ্ছে, ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এসব ব্যাংক রিসিভার ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টিতে অর্থ নিতে পারবে। এতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে গ্রাহকদের যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে তা কমে আসবে।
তিনি বলেন, আমরা মনেকরি যারা সাময়িকভাবে সমস্যায় পড়েছে তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। আসলে গ্রহকের আস্থা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গ্রাহকরা যখন এসব ব্যাংকের উপর আস্থা রাখতে পারবে তখন ব্যাংকগুলো তাদের ব্যবসায় ফিরে যেতে পারবে। তাদের দীর্ঘ দিনে প্রোটফোলিও আছে। এই ব্যাংকগুলোকে নিয়ে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে গভর্নর মহোদয় পরিকল্পনা করছেন। আমরা তাদের অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ করবো। প্রয়োজনে আমরা তাদের রিক্যাপিটালাইজেশন সুবিধা দিবো। এ বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।
জানা গেছে, চলতি হিসাবে ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলোর আন্তঃব্যাংক লেনদেন বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ আছে সব ধরনের ডিজিটাল সেবা। এটিএম থেকেও টাকা তোলা যাচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গতকাল সোমবার পর্যন্ত যেসব ব্যাংকের চলতি হিসাবে ঘাটতি রয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে শরীয়াহ ভিত্তিক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকের ঘাটতি ৭ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। এর পরের অবস্থানে থাকা স্যোশাল ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি ৩ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইউনিয়ন ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। এছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৩৪২ কোটি, ইসলামী ব্যাংকের ২ হাজার ২০২ কোটি, কমার্স ব্যাংকের ৩৮০ কোটি, পদ্মা ব্যাংক ২৩৪ কোটি, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ কোটি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে ৩৯ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে।