× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম চেম্বার

ভোটে নির্বাচিত নেতৃত্ব চান ব্যবসায়ীরা

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:২৪ এএম

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১:৫০ এএম

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। ছবি : সংগৃহীত

এক দশকের বেশি সময় ভোট হয়নি চট্টগ্রাম চেম্বারে। বিনা ভোটে চট্টগ্রাম চেম্বার দখলে রেখেছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ লতিফের পরিবারের সদস্য ও তার ঘনিষ্ঠজনরা। তাই এই সময়ের আগে যারা প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ডিরেক্টর পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাদের কেউ চেম্বারে যেতে পারেননি। একই সময়ে নানাভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাই এখন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে চেম্বারে নতুন নেতৃত্ব চান চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। যাতে চেম্বার হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীদের সমস্ত কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ভালো ও খারাপ সময়ে যাতে নেতাদের কাছে পান ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে চেম্বারে কেউ যেতে পারেননি। এই ১৫ বছরের আগে যারা প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ডিরেক্টর পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা কেউ চেম্বারে যেতে পারেননি। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় চেম্বারের গণতান্ত্রিক সকল নিয়ম হারিয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে এগুলো কিছুই ফিরে আসবে। তাই আমরা চাই চেম্বারে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক।’

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বৈষম্যের শিকার চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা চেম্বারের বর্তমান পরিষদ ভেঙে নতুন কমিটি দেওয়ার দাবি জানায়। একই দাবিতে ব্যবসায়ীরা চেম্বার কার্যালয়ের সামনে কয়েক দফায় মানববন্ধন করে। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে গত ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি তরফদার রুহুল আমিন এবং পরিচালক জহিরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করেন। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর অন্য পরিচালকরাও পদত্যাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে ১ সেপ্টেম্বর ৫ পরিচালক পদত্যাগ করার পর ২ সেপ্টেম্বর বাকি ১৭ জন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পরিচালকদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর একই দিন সভাপতি ওমর হাজ্জাজও পদত্যাগ করেন। 

পরিচালনা পর্ষদের সবাই একযোগে পদত্যাগ করায় নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম চেম্বার। এ ঘটনায় চেম্বারের ধারাবাহিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৯ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ আনোয়ার পাশাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। তাকে ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আর তাতে চেম্বারের নির্বাচন নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই সময়ে সবাই একটি বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় তাদের প্রত্যাশা, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলেই ঐতিহ্যবাহী এই ব্যবসায়ী সংগঠন ফিরে পাবে প্রাণ। চেম্বারের নেতৃত্বে আসবেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা।

নির্বাচন আয়োজনের আগে দুটি বিষয় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর একটি হলো, যারা বঞ্চিত ছিলেন তাদের সদস্যপদ দেওয়া। আর যেসব ফেক ভোটার আছে, তাদের যেন ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। 

আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চেম্বারের কার্যক্রম পরিবারতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায় এখানে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা নানাভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। তাই এই মুহূর্তে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমাদের প্রথম চাওয়া হচ্ছে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের চেম্বারের সদস্য করা হোক। বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে নির্বাচনের আয়োজন করা হোক।’ 

প্রিমিয়ার সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রথম চাওয়া হচ্ছে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক। তবে যারা নির্বাচিত হবেন, তারা যাতে যোগ্যতাসম্পন্ন হন। গুড গভর্ন্যান্স থাকুক, সেটি চাই। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে অবশ্যই যোগ্যতাসম্পন্ন লোকই নির্বাচিত হবে। চেম্বার ব্যবসায়ীদের সংগঠন, এখানে ব্যবসায়ীদের স্বার্থটাই সবার আগে দেখা হবে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমাস শিমুল। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ী হিসেবে চেম্বারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। চেম্বার হবে ব্যবসায়ীদের সমস্ত কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আমরা আমাদের সব ভালো-মন্দ, পরিকল্পনাগুলো নেতৃবৃন্দকে শেয়ার করতে পারব। যারা হবে আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি। এর জন্য সর্বপ্রথম যেটি দরকার সেটি হলো নেতৃবৃন্দকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে এটাই আশা করি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা