× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডিম-মুরগির যৌক্তিক মূল্য শুধু কাগজেই

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০৮:৫৫ এএম

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১০:৫৭ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

সরকারের পক্ষ থেকে ডিম এবং ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম বেঁধে দেওয়ার পাঁচ দিন পরও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ডিম ও মুরগির দাম উল্টো আরও বেড়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারিভাবে ডিম ও মুরগির যে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয় তাকে বলা হচ্ছে যৌক্তিক মূল্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, বাজারে দুটি পণ্যই বিক্রি হচ্ছে পুরোপুরি ‘অযৌক্তিক’ মূল্যে। যেমন- খুচরা পর্যায়ে ফার্মের মুরগির প্রতিটি ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ১১ টাকা ৮৭ পয়সা। সেই হিসেবে প্রতি হালি ৪৭ টাকা ৪৮ পয়সা এবং এক ডজনের দাম পড়ে ১৪২ টাকা ৪৪ পয়সা। কিন্তু কোথাও এই দামে ডিম মিলছে না। 

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, লাল ডিম এক হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা, ডজন ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়। তাতে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ে ১৩ টাকা ৭৫ পয়সা। সাদা ডিমের হালি ৫২ টাকা ও ডজন ১৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে অনেক এলাকায় এক ডজন ডিম ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে, সরকারের যৌক্তিক মূল্য শুধু খাতা-কলমেই বিদ্যমান রয়েছে, বাস্তবে তা কার্যকর নেই। বরং ডিম প্রতি হালিতে ৭ টাকা ৫২ পয়সা ও ডজনে ২২ টাকা ৫৬ পয়সা থেকে ২৩ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ডজনে ২৭ টাকা ৫৬ পয়সা থেকে ২৮ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী মো. আমান উল্লাহ বলেন, সরকার ডিমের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের পরে একশ ডিমে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। ঢাকায় বেশির ভাগ ডিম আসে টাঙ্গাইল থেকে। সেখানে বৃহস্পতিবার একশ ডিমের দাম ছিল ১ হাজার ২০৫ টাকা। পরিবহন বাবদ খরচ হয় ২০ টাকা। তখন ১২ টাকার বেশি দরে প্রতিটি ডিম বিক্রি করতে হয়। 

তিনি আরও বলেন, দাম বেঁধে দেওয়ার সময় উৎপাদন ও অন্যান্য ব্যয়ের দিকটাও তো দেখতে হবে। খামারিরা বেশি দামে উৎপাদন করে কম দামে বিক্রি করবে কীভাবে। বাজারে দাম কমাতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমাতে হবে অথবা আমদানি করতে হবে। নোয়াখালী অঞ্চল থেকেও কিছু ডিম আসত ঢাকায়। বন্যার কারণে সেখানে অনেক খামার শেষ হয়ে গেছে। তবে ওই অঞ্চলে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির খামার সবচেয়ে বেশি। 

কারওয়ান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী রিফাত হাসান গতকাল বলেন, গত পাঁচ দিনে ডিমের দাম কমেনি। আমরা কম দামে কিনতে পারছি না, তাহলে কীভাবে কম দামে বিক্রি করব? 

এদিকে ঢাকার বাজারগুলোতে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। সরকার ব্রয়লার মুরগির কেজি নির্ধারণ করে দিয়েছে ১৭৯ টাকা ৫৯ পয়সা। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫-১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম নির্ধারণ করা হয় খুচরায় ২৬৯ টাকা ৬৪ পয়সা। বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৭৫ থেকে ২৮০ টাকায়, যা আগে ছিল ২৬০ টাকা কেজি। সরকারিভাবে কেজিপ্রতি সোনালি মুরগি খুচরা পর্যায়ে ২৬৯ টাকা ৬৪ পয়সা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় সরকারি দামের চেয়ে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের বাজারে বাঁধা দামের কোনো প্রভাব নেই

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, সরকার ডিম ও মুরগির যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দিলেও চট্টগ্রামের বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। গতকাল সকালে নগরীর ব্যাটারিগলি এলাকায় কথা হয় মোহাম্মদ মাহবুব নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ডিম, মুরগির দামে তেমন কোনো তারতম্য নেই বললেই চলে। তবে গত সপ্তাহ থেকে মাছের দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু চালের দাম বস্তাপ্রতি দেড়শ থেকে দুইশ টাকা বেড়েছে।

নগরীর কাজীর দেউড়ি, চকবাজার, বহদ্দারহট বাজার ঘুরে জানা যায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর খুচরা পর্যায়ে ডিমের দর নির্ধারণ করে দেওয়ার পর প্রায় ১০ টাকা বাড়িয়ে এখন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। একই অবস্থা ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির ক্ষেত্রেও। বাজারে যখন প্রতি কেজি ব্রয়লারের দাম ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছিল, তখন সরকার দাম বেঁধে দেয় কেজিপ্রতি ১৭৯ টাকা ৫৯ পয়সা ও ২৬৯ টাকা ৬৪ পয়সা। এরপর থেকে কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা বেড়েছে এসব মুরগির দাম। 

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার সংযোগ অধিশাখার উপপরিচালক (উপসচিব) মো. কামরুজ্জামান বলেন, বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সবার দায়িত্ব। এখানে এককভাবে কিছু করা যাবে না। আর দাম নির্ধারণ করে দিলেও হঠাৎ করে দেশের মানুষের স্বভাব বদলে যাবে না। দেখা গেছে, কোনো পণ্যের দাম বাড়লে বাজারে সেটি দ্রুত বাড়িয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু কমলে সহজে আর কমাতে চায় না।

বাঁধা দরে ডিম-মুরগি মিলছে না চাঁপাইনবাবগঞ্জে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক জানান, এ জেলার কোথাও সরকারের বেঁধে দেওয়া দরে ডিম-মুরগি মিলছে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরসহ উপজেলার বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০, সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার তদারকিতে গাফিলতির কারণেই ডিম-মুরগির দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। তারা বলছেন, ভোগ্যপণ্যের মূল্য বেঁধে দেওয়া পর্যন্তই সরকারি সংস্থাগুলোর কাজ সীমাবদ্ধ। বাজার মনিটরিংয়ে তাদের খুব একটা দেখা যায় না। যে কারণে দাম বেঁধে দেওয়ার পরও তা কেউ মানে না। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যার প্রভাবে বাজারে ডিম-মুরগির সরবরাহ পর্যাপ্ত নেই। একই সঙ্গে পণ্য দুটির উৎপাদন খরচও বেশি।

শিবগঞ্জ বাজারে আব্দুল আওয়াল নামে এক স্কুলশিক্ষক বেঁধে দেওয়া দরে ডিম চাইলে দোকানির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় তার। পরে তিনি অন্য একটি দোকান থেকে বাড়তি দামেই প্রতিটি ১৩ টাকা করে এক ডজন ডিম কেনেন। আব্দুল আওয়াল ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এখনও অনেক মানুষ জানেই না ডিম আর মুরগির দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার। সচেতনতার অভাবেই জানতে পারছে না। এ ছাড়া বাজার মনিটরিংও নেই। 

ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচ কমালেই বাজারে এই পণ্যদুটির দাম এমনিতেই কমে যাবে বলে জানিয়েছেন এই অঞ্চলের খামারি রেজাউল করিম। তিনি বলেন, দিনদিন মুরগির উৎপাদন খচরসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বাড়ছেই। এ অবস্থায় সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে এগুলো বিক্রি করা অসম্ভব।

মুরগি ব্যবসায়ী দুলাল বলেন, বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যায় খামারিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারে মুরগি ও ডিমের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। যে কারণে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে ডিম-মুরগি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা