প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৫৯ পিএম
আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৪৮ পিএম
রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৮-১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উপস্থিত ছিলেন। প্রবা ফটো
রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি খাত থেকে ৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ। মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৮-১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ দাবি জানান।
এ কে আজাদ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মন্দা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ২০২৩ সালের জন্য পোশাক খাতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ক্রয়াদেশ কম এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের সর্বোচ্চ রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপের বাজারে ভোক্তারা খরচ কমিয়েছেন ৭১ শতাংশ। ইউরোপের মানুষ এখন খাদ্যপণ্যের ওপর মনোযোগী হওয়ায় পোশাক শিল্প কিছুটা সংকটের সম্মুখীন হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শুধু ইউরোপ নয় আমেরিকার বাজারেও ভোক্তারা বিলাসী পণ্য কেনা কমিয়ে ভোগ্যপণ্যের ওপর জোর দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় বিদেশি ক্রেতাদের ওপর ন্যায্যমূল্যের জন্য চাপ প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। টিকে থাকতে এবং ক্রেতা ধরে রাখতে ন্যায্যমূল্য ছাড়াই অর্ডার নিতে হচ্ছে। আর এই ক্রেতা ধরে রেখে সময়মতো পণ্য সরবরাহে কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন রপ্তানি আয় বাড়াতে কারখানাগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত দাম পরিশোধেও রাজি আছেন ব্যবসায়ীরা।’
এফবিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের ৫ বিলিয়ন ডলারের গ্যাস সরবরাহ কওে তাহলে আমরা ১৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানিতে বদ্ধ পরিকর থাকবো। রপ্তানির ধারা ইতিবাচক ও আয় বৃদ্ধিতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও মনোযোগী হতে হবে। তবেই ২০৪১ সালের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বাংলাদেশ।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ রাখতে প্রতিনিয়ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। আগামী মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে সংকট সমাধানে বৈঠক করা হবে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২০৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড। রিফাত গার্মেন্টস পণ্য খাতে সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অর্জন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৯টি খাতের ৭১টি প্রতিষ্ঠান রপ্তানি ট্রফি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ২৯টি প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ, ২৪টি প্রতিষ্ঠান রৌপ্য এবং ১৮টি প্রতিষ্ঠান ব্রোঞ্জ ট্রফি লাভ করে।
ট্রফি পেল যেসব প্রতিষ্ঠান :
শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি পেয়েছে রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড ঢাকা।
স্বর্ণ ট্রফি :
তৈরি পোশাক (ওভেন)- রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড ঢাকা। তৈরি পোশাক (নিটওয়্যার)-জি. এম. এস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ঢাকা। সকল ধরণের সুতা- বাদশা টেক্সটাইলস লিমিটেড। টেক্সটাইল ফেব্রিক্স- এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড। হোম ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইল- জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড। টেরিটাওয়েল- নোমান টেরিটাওয়েল মিলস লিমিটেড। হিমায়িত পণ্য- জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডস লিমিটেড। কাঁচাপাট-ইন্টারন্যাশনাল জুট ট্রেডার্স লিমিটেড। পাটজাত দ্রব্য- আকিজ জুট মিলস লিমিটেড। চামড়া (ক্রাস্ট/ ফিনিশড)- এপেক্স ট্যানারি লিমিটেড। চামড়াজাত পণ্য-পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড। ফুটওয়্যার- বে ফুটওয়্যার লিমিটেড। কৃষিজ পণ্য- মনসুর জেনারেল ট্রেডিং কোং লিমিটেড। অ্যাগ্রোপ্রসেসিং পণ্য- প্রাণ ডেইরি লিমিটেড। ফুল-ফলিয়েজ-মেসার্স রাজধানী এন্টারপ্রাইজ। হস্তশিল্পজাত পণ্য-কারুপণ্য রঙপুরলিমিটেড। প্লাস্টিক পণ্য- বেঙ্গল প্ল্যাস্টিকস লিমিটেড। সিরামিক সামগ্রী-শাইন পুকুর সিরামিকস লিমিটেড। ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য- এনার্জিপ্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য- মেসার্স ইউনিগ্লোরী সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য- তাসনিম কেমিক্যালস লিমিটেড। ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য- বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস
কম্পিউটার সফটওয়্যার-সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেড। ইপিজেডভুক্ত ১০০ শতাংশ বাংলাদেশী মালিকানাধীন (সি ক্যাটাগরি) তৈরি পোশাক পণ্য- ইউনিভার্সেল জিন্স লিমিটেড। ইপিজেডভুক্ত ১০০ শতাংশ বাংলাদেশী মালিকানাধীন (সি ক্যাটাগরি) অন্যান্য পণ্য ও সেবা- ফারদিন এক্সসরিজ লিমিটেড
প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ পণ্য- এন অ্যান্ড ইউ প্যাকেজিং লিমিটেড। অন্যান্য প্রাথমিক পণ্য- অর্কিড ট্রেডিং করপোরেশন। অন্যান্য সেবা খাত- মীর টেলিকম লিমিটেড। নারী উদ্যোক্তা/রপ্তানিকারকদের জন্য সংরক্ষিরত (উৎপাদিত পণ্য ও সেবা)-স্কয়ার টেক্সটাইলস লিমিটেড।
রৌপ্য ট্রফি:
তৈরি পোশাক (ওভেন)- এ কে এম নিটওয়্যার লিমিটেড। তৈরি পোশাক (নিটওয়্যার)- স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড। সকল ধরণের সুতা- কামাল ইয়ার্ণ লিমিটেড
টেক্সটাইল ফেব্রিক্স- আকিজ টেক্সটাইলস মিলস লিমিটেড। হিমায়িত পণ্য- এপেক্স ফুড লিমিটেড। পাটজাত দ্রব্য- করিম জুট স্পিনার্স লিমিটেড। চামড়া (ক্রাস্ট/ ফিনিশড)- এস এ এফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। চামড়াজাত পণ্য- এবিসি ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ফুটওয়্যার- রয়েল ফুটওয়্যার লিমিটেড। কৃষিজ পণ্য- ইনডিগো করপোরেশন। অ্যাগ্রোপ্রসেসিং পণ্য- প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেড। ফুল-ফলিয়েজ- এলিন ফুড ট্রেড। হস্তশিল্পজাত পণ্য-বিডি ক্রিয়েশন। প্লাস্টিক পণ্য- ডিউরেবল প্ল্যাস্টিক লিমিটেড। সিরামিক সামগ্রী-আর্টিসান সিরামিকস লিমিটেড। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং- মেসার্স ইউনিগ্লোরী সাইকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য- কনফিডেন্স স্টিল লিমিটেড। অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য-মেরিন সেফটি সিস্টেম লিমিটেড। ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য- স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। ইপিজেডভুক্ত ১০০ শতাংশ বাংলাদেশী মালিকানাধীন (সি ক্যাটাগরি) তৈরি পোশাক পণ্য- প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড। ইপিজেডভুক্ত ১০০ শতাংশ বাংলাদেশী মালিকানাধীন (সি ক্যাটাগরি) অন্যান্য পণ্য ও সেবা- আর. এম ইন্টারলিংস লিমিটেড। প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ পণ্য-মনট্রিমস লিমিটেড। অন্যান্য প্রাথমিক পণ্য-ইকো ফ্রেশ ইন্টারন্যাশনাল। নারী উদ্যোক্তা/রপ্তানিকারকদের জন্য সংরক্ষিরত (উৎপাদিত পণ্য ও সেবা)-আল সালাম ফেব্রিক্স প্রাঃ লিমিটেড।
ব্রোঞ্জ ট্রফি:
তৈরি পোশাক (ওভেন)- অনন্ত এপারেলস লিমিটেড। তৈরি পোশাক (নিটওয়্যার)-ফোর এইচ ফ্যাশনস লিমিটেড। সকল ধরণের সুতা- নাইস কটন লিমিটেড। টেক্সটাইল ফেব্রিক্স-নাইস ডেনিম মিলস লিমিটেড। হিমায়িত পণ্য- এমইউ সী ফুডস লিমিটেড। কাঁচাপাট- ওহাব জুট মিলস লিমিটেড। চামড়াজাত পণ্য- বিবিজে লেদা গুডস লিমিটেড। ফুটওয়্যার- এফবি ফুটওয়্যার লিমিটেড। অ্যাগ্রোপ্রসেসিং পণ্য- প্রাণ ফুডস লিমিটেড। হস্তশিল্পজাত পণ্য- ক্ল্যাসিকাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি। প্লাস্টিক পণ্য-বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। সিরামিক সামগ্রী-প্যারাগন সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং- রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ইউনিট। ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য-রহিম আফিরোজ ব্যাটারিজ লিমিটেড। অন্যান্য শিল্পজাত পণ্য-মূমানু পলিয়েস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য-ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস। প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ পণ্য-মেসার্স ইউনিগ্লোরী পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড। অন্যান্য প্রাথমিক পণ্য- দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ড কোম্পানি।