× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন

জনগণের ঘাড়ে সাড়ে ১২ লাখ কোটি টাকা বিদেশি ‍ঋণ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪০ পিএম

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৪৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কোনো বাছবিচার ছাড়া বিদেশি উৎস থেকে ধার করে ঋণের সাগরে ভাসিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন শেষে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ১০৩ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ  ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা (১২০ টাকা দরে)। তবে সুদের হার বাড়ার ফলে ক্রমেই বিদেশি ঋণ থেকে ফিরে আসছেন বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্য বলছে, ২০০৮-০৯ সাল শেষে সরকারের বিদেশি ঋণ ছিল ২১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে ১৫ বছরে বেড়েছে ৮২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। যা দেশীয় মুদ্রা টাকার অঙ্কে প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ৩৮ বছরে যে পরিমাণ ঋণ করেছে বিগত সরকারগুলো। আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র ১৫ বছরে তার চারগুণ ঋণ করেছে।  

চলতি বছরের জুন শেষে বিদেশি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৪ বিলিয়ন বা ১০ হাজার ৩৭৯ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরের শেষে সরকার ও বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণে স্থিতি ছিল ১০০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন বা ১০ হাজার ৬৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ৩ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক সরকারের যথাযথ ঋণ ব্যবস্থাপনা না থাকায় দেশি উৎস থেকে বেশি পরিমাণে ঋণ নেওয়া হয়েছে। যদিও বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেওয়াকে সব সময় স্বাগত জানান অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। গত ১৫ বছরে অনেক বিদেশি ঋণও নেওয়া হয়েছে। তবে এসব ঋণের বেশির ভাগই নেওয়া হয়েছে দর-কষাকষি ও বাছবিচারহীনভাবে; যা সরকারের দায়দেনা পরিস্থিতিতে চাপ বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ১০৩ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার ঋণের মধ্যে ৮৩ দশমিক ২১ বিলিয়ন সরকারের ও বাকি ২০ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি খাতের দায়। বেসরকারি খাতের ১১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন স্বল্পমেয়াদি ও ৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন দীর্ঘমেয়াদি ঋণ।

গত ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে বিদেশী ঋণ ছিল ২০ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের অক্টোবর শেষে ২১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন। অর্থাৎ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত আগের ৯ মাসে বেসরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ কমেছে ৭০৬ মিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত মার্চে দেশের মোট বিদেশি ঋণ কিছুটা কমেছিলো। কিন্তু ডলার সংকটসহ নানা কারণে বিদেশি সংস্থাগুলো থেকে নেওয়া ঋণের ফলে বিদেশি ঋণ ফের বেড়েছে। গত মার্চে বিদেশি ঋণ কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছিলো ৯৯ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু মাত্র ৩ মাসের ব্যবধানে ঋণ আবার বেড়ে ১০৪ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপি আর্থিক সংকট তৈরি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বেড়ে যায়। এতে বিদেশি ঋণে সুদের হার বেড়ে যায়। পাশাপাশি দেশের টাকার বড় ধরণের অবমূল্যায়ণের ফলে বিপাকে পড়ে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ নেওয়া ব্যবসায়ীরা। এজন্য বিদেশি ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধে মনোযোগী হয় তারা। কিন্তু ডলারের দর স্থিতিশীল হওয়া ও দেশে ঋণের সুদের হার বাড়তে থাকায় ব্যবসায়ীরা ফের বিদেশি ঋণ নিতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ৩ মাসের ব্যবধানে দেশের সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ বেড়েছে ৪ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। গত মার্চে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ছিলো ৭৯ বিলিয়ন ডলার। জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ঋণ বেড়েছে ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ।

জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, দেশের প্রয়োজন তাই বিদেশি ঋণ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই ঋণ নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগেরও পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যাতে রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে। এর সঙ্গে রেমিট্যান্সের দিকেও নজর দিতে হবে। অর্থাৎ ঋণ বাড়লেও পরিশোধ করার সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে সরকারকে। তাহলেই এই ঋণ কোন শঙ্কা তৈরি করবে না। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমানে যেই ঋণ আছে তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ব্যয়বহুল প্রকল্প, সাবেক সরকারের ঋণের স্ফীতি ও পুঁজি পাচার নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত করেছে কিংবা বাস্তবায়ন করছে তার অন্যতম: পদ্মা বহুমুখী সেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর। কিন্তু এসব করতে গিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দুঃখজনক হলো, এসব ঋণের অর্থে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন যখন সম্পন্ন হবে তখন প্রকল্পগুলোর আয় থেকে ঋণের কিস্তির অতি সামান্য অংশই পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ কিংবা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এখনো সফট লোন পাওয়া গেলে আমরা নিতে আগ্রহী হই। কিন্তু আমাদের বৈদেশিক ঋণের সিংহভাগই এখন সাপ্লায়ারস ক্রেডিট। সাপ্লায়ারস ক্রেডিটের অসুবিধে হলো জোগানদাতারা প্রকল্পের প্ল্যান্ট, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ঋণ হিসেবে দেওয়ার সময় প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজার দামের চাইতে অনেক বেশি দাম ধরে ঋণের পরিমাণকে বাড়িয়ে দেয়। উপরন্তু, সাপ্লায়ারস ক্রেডিটের সুদের হারও সফট লোনের সুদের হারের চাইতে বেশি, ঋণ পরিশোধের সময়সীমাও কম থাকে। আরও গুরুতর হলো, সাপ্লায়ারস ক্রেডিটে রাজনীতিবিদ, ঠিকাদার ব্যবসায়ী ও আমলাদের মার্জিনের হার অনেক বেশি হয়ে থাকে। সে জন্য বাংলাদেশের মেগা-প্রজেক্টগুলোর ব্যয় বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক হয়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে সাপ্লায়ারস ক্রেডিটের প্রতি অতিমাত্রায় ঝুঁকে পড়েছে বাংলাদেশ।

এসব সমস্যার সমাধনে সরকারকে দুর্নীতি, পুঁজি-লুণ্ঠন এবং পুঁজিপাচারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর দমননীতি গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করেন মইনুল ইসলাম। এ জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অবিলম্বে কঠোরভাবে হুন্ডি ব্যবস্থাকে দমন। কারণ, হুন্ডি পদ্ধতিতে বিদেশে থেকে যাওয়া ডলার বা অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা কেনার ক্ষেত্রে চাহিদার প্রধান অংশটাই আসছে দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিবিদ এবং ব্যাংকঋণ লুটেরাদের পক্ষ থেকে। কঠোরভাবে দুর্নীতি দমন না করলে পুঁজিপাচার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা