× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সাক্ষাৎকার

রাজনৈতিক প্রকল্প পকেট ভারী করতে সহায়তা করে

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:৪৮ পিএম

মোস্তফা কে মুজেরী

মোস্তফা কে মুজেরী

রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়। এসব প্রকল্প জনগণের কল্যাণে না এলেও কিছু মানুষের পকেট ভারী করতে সহায়তা করে। আবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অনেক প্রকল্প নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়। এগুলো দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে। প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী।

রাজনৈতিক বিবেচনার প্রকল্প নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। এগুলো কীভাবে দেখছেন? 

মোস্তফা কে মুজেরী :  প্রতিবছর এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করে নানা প্রকল্প নেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে অনেকগুলোই রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়ে থাকে। এসব প্রকল্প জনগণের উপকারে আসে না। তবে কিছু মানুষের পকেট ভরতে সহায়তা করে। এগুলো অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় যেন কোনো প্রকল্প নেওয়া না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন করে যেসব প্রকল্প নেওয়া হবে, সেগুলোর আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, এগুলো থেকে কীভাবে ফিডব্যাক পাওয়া যাবে, সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। অযথা এত প্রকল্প নিয়ে কোনো লাভ নেই।

এডিপিভুক্ত অনেক প্রকল্প নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন?

মোস্তফা কে মুজেরী : এডিপিতে শত শত প্রকল্প রয়েছে। যেগুলোতে শূন্য বরাদ্দ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। এসব প্রকল্পের তো কোনো দরকার নেই। কার স্বার্থে মাত্র এক লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে? সেগুলো খতিয়ে দেখা দরকার। এসব প্রকল্প দুর্নীতির সুযোগ দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। এগুলোতে অনিয়ম হচ্ছে। আমাদের জনবান্ধব প্রকল্প দরকার যেগুলো জনগণের উপকার করতে পারবে। নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এমন প্রকল্পের দরকার নেই।

প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। শাস্তির ব্যবস্থা না থাকার কারণেই কি এটি হচ্ছে? 

মোস্তফা কে মুজেরী : প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি একটি বড় সমস্যা। বাস্তবায়নের দুর্বলতার কারণে অর্থের অপচয় হয়। যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে সেটি যেন বছরের পর বছর পড়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে পরিকল্পনা কমিশনকে। আবার অনেক প্রকল্প বছরের বছর বছর ধরে চলছে। সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় মেয়াদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রেট শিডিউল পরিবর্তনের অজুহাতে ব্যয় বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। অর্থের অপচয় হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলে তো আর জিনিসপত্রের দাম বাড়ত না, প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ানো প্রয়োজন হতো না। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফলও পাওয়া যায় না। এজন্য বাস্তবায়ন দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। যারা প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢিলেমি করবে বা পিছিয়ে থাকবে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

প্রকল্পের দুর্নীতি-অনিয়ম ধরতে আইএমইডির কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন? 

মোস্তফা কে মুজেরী : আইএমইডির ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। সংস্থাটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। জনবল বাড়াতে হবে, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রকল্পগুলোর অনিয়ম, দুর্নীতি ধরে থাকে আইএমইডি। কিন্তু ক্ষমতার অভাবে তারা ব্যবস্থা নিতে পারে না। নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে প্রতিবেদন পাল্টিয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে দুর্নীতি ধরা সম্ভব নয়। সংস্থাটি প্রতিবেদন তৈরি করতে যেন কোনো ধরনের চাপ অনুভব না করে এবং কেউ প্রভাব বিস্তার করে প্রতিবেদন পরিবর্তন করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। 

বিবিএসের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভুল তথ্যের কারণে কী ধরনের ক্ষতি হয়?

মোস্তফা কে মুজেরী : বিবিএস মূল্যস্ফীতি, জিডিপি, জনসংখ্যাসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে থাকে। এ তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কোথায় ঘাটতি আছে এবং গুরুত্ব দিতে হবে সেসব বিষয় পরিসংখ্যান থেকেই উঠে আসে। তাদের দেওয়া তথ্য-উপাত্তের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন আছে। যেমন প্রকৃত মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি হলেও বিবিএস ১০ শতাংশের নিচেই দেখাত। অথচ সরকার পতনের পর জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ১১.৬৬ শতাংশ দেখানো হয়েছে। এতদিন তারা মূল্যস্ফীতির তথ্য চেপে রেখেছিল। তথ্য-উপাত্ত যদি সঠিক না থাকে তাহলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তথ্য-উপাত্তের বিশ্বস্ততা প্রয়োজন এবং এটি সঠিকভাবে দেখানো প্রয়োজন। কিন্তু বিবিএস এক্ষেত্রে পিছিয়ে। আগামীতে যেন বিবিএস সঠিক তথ্য-উপাত্ত দেয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

আপনি দীর্ঘদিন বিআইডিএসের দায়িত্বে ছিলেন। এই সংস্থাটির কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে কি?

মোস্তফা কে মুজেরী :  বিআইডিএস দেশের উন্নয়নের কাঠামো কেমন হবে এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নে পথরেখা তৈরি করে দেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে দিকনির্দেশনা দিতে পারে বিআইডিএস। এছাড়া উন্নয়ন কীভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়, বিশেষ করে বৈষম্য নিরসন করে সমস্যাগুলো কীভাবে কাটিয়ে উঠতে পারি সেটি নিয়ে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে বিআইডিএসের। জনবান্ধব উন্নয়ন এবং নীতিমালার ক্ষেত্রে তারা সহায়তা করতে পারে। ১৫ বছর ধরে চলা একটি সিস্টেম এক দিনেই তো আর পরিবর্তন সম্ভব না। সময় লাগবে। গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংস্কার করতে হবে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা