নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:২৯ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তারল্য সহায়তা চেয়েছে তীব্র সংকটে থাকা গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য গ্রাহকের জমানো টাকা ফেরত দিতে পারছে না ব্যাংকটি। তাই ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা তারল্য সহায়তা চেয়ে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
শুধু গ্লোবাল ইসালামী ব্যাংক নয়, ইসলামী ধারার অধিকাংশ ব্যাংক দৈনিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। তারল্য সংকট ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদ সহায়তা বন্ধের কারণে চাহিদা মতো গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না ডজন খানেক বাণিজ্যিক ব্যাংক। তাই ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করে চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপোতে ধার নিতে হলে বন্ড অথবা যে কোনো সম্পদ জামানত রাখতে হয়। কিন্তু তাদের জামানত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এখন বিশেষ সুবিধা চাচ্ছে ব্যাংকটি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকের তারল্য সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরসহ হাতে গোনা কিছু মানুষের ভুলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যাংক খাত। অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে এত দিন নগদ সহায়তা দিয়ে আসছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এখন বিল বন্ড জামানত রেখে স্বল্পমেয়াদি (এক দিন) ধার করছে দুর্বল ব্যাংকগুলো। এরপরও আমানতকারীদের টাকা তোলার চাপ সামাল দিতে পারছে না তারা। এই সুযোগে তুলনামূলক সবল ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে বহুগুণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ১ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৭ দিন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে রেপোতে ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগে নিয়মিত ধার নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন সপ্তাহে দুই দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে ধার নিতে পারে ব্যাংকগুলো। এই ১৭ দিনে এক লাখ ৭৪ হাজার ৩৫২ কোটি টাকার ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ধারের মেয়াদ এক থেকে সাত, ১৪, ২৮ ও ১৮০ দিন পর্যন্ত। মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হারও ছিল ভিন্ন।