সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:১৫ পিএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:৫৫ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি : সংগৃহীত
দেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনতে প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকার্স সভা’ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন গভর্নর। পাচারকারীদের একটি পরিবারের ব্রিটেনে ৫০০ থেকে ৬০০ বাড়ি আছে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর। এ সময় ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের কনফারেন্স রুমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
গভর্নর বলেন, ‘দেশের সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি বিদেশে পাচার করা অর্থও ফিরিয়ে আনা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাচারকারীদের দেশের মধ্যে থাকা সম্পদ উদ্ধার করব। প্রথমে আমরা এ উদ্যোগটি নেব। পাশাপাশি বাইরের দেশের পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনার বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সহায়তা চেয়েছি কয়েকটি দেশের কাছে। বাইরের টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উচ্চ আশা করব না, তবে শক্তভাবেই আমরা ধরব।’
তিনি বলেন, ‘পাচারকারীরা মূলত দুবাই, সিঙ্গাপুর ও আমেরিকায় অর্থ পাচার করেছে। বিদেশি সম্পদ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইতোমধ্যে আমেরিকার সঙ্গে কথা হয়েছে। পাচারকারীদের একটি পরিবারের ব্রিটেনে ৫০০ থেকে ৬০০ বাড়ি আছে। আমরা শুরুতে দেশের সম্পদ পরে বিদেশি সম্পদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।’
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দেশ থেকে আট ব্যাংকের মাধ্যমে প্রচুর টাকা পাচার হয়েছে। এতে এসব ব্যাংকগুলোয় তারল্যসংকট দেখা দিয়েছে। আমরা সীমিত পরিসরে তারল্য সাপোর্ট দিতে চাই। সরকার আমানতকারীর কথা ভেবে তাদের পাশে দাঁড়াবে। তবে তারল্য পুরো সাপোর্ট দিতে হলে ২ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে বহুগুণে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু সীমিত তারল্য সাপোর্ট দিতে চাই ব্যাংকগুলোকে। এটা আন্তঃব্যাংকের মাধ্যমে এ সাপোর্ট দেওয়া হবে, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্যারান্টার হিসেবে কাজ করবে। এ ব্যাংকে সমস্যা বহুদিন ধরে ছিল, আমানতকারীরাও জানত। আমরা আমানতকারীর স্বার্থটা দেখব, যাতে তারা অর্থ ফিরে পান। তবে নতুন করে টাকা ছাপিয়ে আর কোনো ব্যাংকে তারল্য সাপোর্ট দেওয়া হবে না।’
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দেশের ৮ ব্যাংকের কারণে সব ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আন্তঃব্যাংকের মাধ্যমে সমস্যায় থাকা ব্যাংকগুলোকে তারল্য সাপোর্ট দেওয়া হবে। যেখানে গ্যারান্টার হিসেবে কাজ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আমানতকারীদের অনুরোধ করব আপনারা একসঙ্গে টাকা উত্তোলন করবেন না। আপনাদের প্রয়োজন মতো টাকা উত্তোলন করুন। আমাদের কিছুটা সময় দেন। আমরা আশা করি ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়াবে।’