প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯:৫২ পিএম
আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২০:২৭ পিএম
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাফর আলম পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে ব্যাংকটির দুই উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হাবিবুর রহমান ও খোরশেদ আলমও পদ ছেড়েছেন।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির এই তিন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর গ্রুপটির অনুগত কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদত্যাগ করা এমডি জাফর আলম বলেন, ‘আমি একটু অসুস্থ, তাই পদত্যাগ করেছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসআইবিএলের নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। আশা করছি, তারা ভালো কাজ করবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ২০১৭ সালে দুটি ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপ। এর মধ্যে একটি এসআইবিএল। এরপরই এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যাংকটির দায়িত্বে আসেন। তাদের মধ্যে দুজন এসেছিলেন ইসলামী ব্যাংক থেকে। আরেকজন এসেছিলেন অন্য আরেকটি ব্যাংক থেকে।
ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে টানা ১৬ বছরের আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটে। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে গত ২৫ আগস্ট সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়। আদেশে বলা হয়, আমানতকারী ও ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলো।
এসআইবিএলের নতুন পর্ষদে পরিচালক হয়েছেন উদ্যোক্তা শেয়ার হোল্ডার মেজর (অব.) মো. রেজাউল হক, স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাকসুদা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এম সাদিকুল ইসলাম, রূপালী ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোরশেদ আলম খন্দকার এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. আনোয়ার হোসেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৯ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে দেখিয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির পরিদর্শন টিম ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে এসআইবিএলের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ পেয়েছে ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকটি দেখিয়েছে মাত্র ৬৪ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ৮ হাজার ৬৩ কোটি টাকা গোপন করেছে।
প্রসঙ্গত, এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।