প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২২ ১৮:১২ পিএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২২ ১৮:২৭ পিএম
সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির অ্যাম্বাসেডর এনরিকো নানজিয়াতার সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। প্রবা ফটো
ইতালির ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আরো বেশি ব্যবসা ও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির অ্যাম্বাসেডর এনরিকো নানজিয়াতার সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
টিপু মুনশি বলেন, ‘ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইতালি বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের বড় বাজার। ইতালিতে অনেক বাংলাদেশী সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। ইতালির তৈরী শিল্প কল-কারখানার যন্ত্রপাতি এবং মেডিকেল মেশিনারিজ বাংলাদেশে প্রচুর ব্যবহার করা হয়। উভয় দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগকে কাজ লাগাতে হবে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। অনেকগুলোর কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো কারখানা উদ্বোধন করা হয়েছে। ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টের (এফডিআই) ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশে কম খরচে দক্ষ জনশক্তি ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। এখানে কম খরচে বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। ইতালি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবে। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা পারস্পরিক দেশ সফর করে বিনিয়োগের ক্ষেত্র নির্বাচন করতে পরেন। বাংলাদেশ সরকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সবধরনের সুবিধা প্রদান করবে।
ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির অ্যাম্বাসেডর এনরিকো নানজিয়াতা বলেন, বাংলাদেশ তৈরী পোশাক উৎপাদনে বেশ সফল হয়েছে। বিশ^বাজারে মেড ইন বাংলাদেশ ভালো ব্রান্ড। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক ইতালিতে বেশ জনপ্রিয়। বাংলাদেশ ইতালির অনেক পণ্য আমদানি করে। উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উভয় দেশের পর্যটক বিনিময় হতে পারে। ইতালি সরকার পর্যটনের বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, এখন উভয় দেশের চলমান বাণিজ্যের পরিমান ২২৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরী পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন পণ্য ইতালিতে রপ্তানি করে ১৭০ কোটি ৮২ লাখ ডলার আয় করেছে, একই সময়ে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য। বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর জিএসপি ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে ইতালির সমর্থন প্রত্যাশা করেন।