প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
এস আলম গ্রুপের দখলে থাকা বেসরকারি খাতের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের (এফএসআইবি) পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে ৫ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। রবিবার (১সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো আদেশে বলা হয়, আমানতকারী ও ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
নতুন পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য চার স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. আজিজুর রহমান, উত্তরা ব্যাংকের সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল কুদ্দুছ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুল আলম এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট মো. রাগিব আহসান।
এস আলম গ্রুপ ২০০৪ সালে সিকদার গ্রুপের কাছ থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম নিজেই। তিনি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যাংকটি শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকে রূপান্তর করেন। ব্যাংকটির ঋণ প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এস আলম গ্রুপ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের দখলে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার কিনেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে তাঁর পরিবারের এক সদস্যকে ওই ব্যাংকের পরিচালক করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর সেই শেয়ার হস্তান্তর হয়েছে, কিন্তু ঋণ শোধ হয়নি। বছরের পর বছর এসব ঋণ আদায় না হলেও খেলাপি দেখানো হয়নি। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে থাকা চলতি হিসাবে সিআরআরসহ ৭ আগস্ট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। ব্যাংকটির অনিয়ম প্রকট হওয়ায় গত বছর ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতেও কাজ না হওয়ায় অবশেষ পর্ষদ ভেঙে দিয়ে এস আলমমুক্ত করা হলো।
ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে আত্মগোপনে গিয়ে গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেন আব্দুর রউফ তালুকদার। নতুন গভর্নর হিসেবে যোগ দেন ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি এসে ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন শুরু করে। বিশেষ করে ব্যাংক দখলমুক্ত উদ্যোগ নেন।
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও সাতটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দিয়েছে। এগুলো হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউসিবি এবং এক্সিম ব্যাংক। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ এস আলমের দখলে থাকা ছয়টি ব্যাংক মুক্ত হলো।