প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ২২:৫১ পিএম
পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবসা করে ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছে দেশের অনেক নারী। প্রথাগত চাকরির পেছনে না ছুটে অল্প পরিমাণ বিনিয়োগ করে সফল উদ্যোক্তা হয়েছে অনেকেই। এ খাতের নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্যের বিপণন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ৩১ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পাটজাত পণ্য বহুমুখীকরণে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ’। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর।
উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর। এ সপ্তাহের শেষের দিকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটির মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এর পর প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের প্রায় ১৩৫টি দেশে ২৮২টি পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। বিগত ১২ বছরে বার্ষিক পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে চারবার। বিগত বছরের তুলনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ। পাটের ব্যাগ, থলে ইত্যাদির রপ্তানি বেড়েছে ৩০ শতাংশ, অন্যান্য পণ্য ৫ শতাংশ এবং হাতে বাছাই করা পাটের আঁশ ও স্ট্যাপল ফাইবার রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশ।
প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা ও কার্যক্রমের বিষয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। নারীর এই অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজন অধিক হারে নারীদের সময়োপযোগী আয় বর্ধকমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। আমাদের দেশে নারী সমাজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘর-গৃহস্থালির কাজে দিনাতিপাত করে থাকে। যেখান থেকে সরাসরি কোনো অর্থ উপার্জন হয় না। ফলে পুরুষ শাষিত সমাজে পুরুষের তুলনায় নারীর সামাজিক মর্যাদা কম। তারা আত্মনির্ভরশীল না হওয়ার কারণে সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ কম। বিষয়টি উপলব্ধি করে নারীরা এখন গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন জুলাই ২০১৯-জুন ২০২২ পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে ‘নতুন নারী উদ্যোক্তা সৃজন ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্য বহুমুখী পাটজাত পণ্য উত্পাদন’ শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। কর্মসূচির আওতায় বহুমুখী পাটজাত পণ্য উত্পাদনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি জেলা (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণা) এবং ঢাকা বিভাগের একটি জেলাসহ (ফরিদপুর) মোট পাঁচটি জেলায় প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়েছে। উক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে ১৬৫টি ব্যাচে ৪ হাজার ৯৫০ জন নারীকে বেসিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কর্মসূচিটি অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে উক্ত পাঁচটি জেলা ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা ও ফরিদপুর জেলার ১ হাজার ৮৭৫ জন এবং পাট অধ্যুষিত ও উত্পাদনকারী অন্যতম জেলা গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, খুলনা ও ঝিনাইদহ জেলার ১ হাজার ৫৭৫ জনসহ মোট ৩ হাজার ৭৫০ জন নারীকে আন্তর্জাতিক মানের পাটজাত পণ্য উত্পাদনবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রকল্প মেয়াদে প্রতি জেলায় ৩৭৫ জন নারী উদ্যোক্তা পাটজাত পণ্যবিষয়ক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা; বহুমুখী পাটজাত পণ্য উত্পাদন ও বাজারজাতকরণের সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ; দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্য বিপণন বৃদ্ধি করা; জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবুজ পরিবেশ রক্ষার্থে নারী উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা; ১৩ হাজার ৭৫০ জন নারী উদ্যোক্তাকে পাটপণ্য-বিষয়ক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা; ৩ হাজার ৭৫০ জন নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করার কার্যক্রম গ্রহণ করার লক্ষ্যে আলোচ্য প্রকল্পটি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটি জুলাই ২০২৩ হতে জুন ২০২৬ মেয়াদে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছর আরম্ভ হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের অঙ্গভিত্তিক ব্যয় বিভাজন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ডেটাবেজ (ডিজিটাল পোর্টাল/অনলাইন মার্কেটিং) খাতে কী কী অন্তর্ভুক্ত করা হবে সেটিও জানতে চাওয়া হবে।
কমিশন বলছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ১০ জনের বেতন বাবদ ৭২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আবার ১৩ জনের আউটসোর্সিং ব্যয় বাবদ ২৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। যা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৭৫০ জন নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে এসব নারী উদ্যোক্তা কীভাবে নির্বাচন করা হবে এর ভিত্তি, যৌক্তিকতাসহ প্রশিক্ষণ অঙ্গের ব্যয় বিভাজন নিয়ে জানতে চাওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।