প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ২২:৩৪ পিএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ২২:৩৫ পিএম
নন-ব্যাংক লিজিং প্রতিষ্ঠান হজ্জ ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডর (এইচএফসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মোফাজ্জল হোসাইনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি মসি উদ-দৌলাসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন এমডি। একই সঙ্গে মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি।
জিডি ও বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এমডি মো. মোফাজ্জল হোসাইনকে তার দিলকুশাস্থ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক পদত্যাগের জন্য হুমকি দেন প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি মসি উদ-দৌলাসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পদত্যাগ না করলে প্রাণনাশেরও হুমকিও দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতিকার চেয়ে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, হজ্জ ফাইন্যান্সের প্রধান কার্যালয়ে বুধবার (২৮ আগট) দুপুরে ডিএমডি মসি উদ-দৌলা, ইভিপি ও প্রিন্সিপ্যাল ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. ফারুক হোসেন, ইভিপি ও রিকোভারী হেড মনির হোসেন, ইভিপি ও সিএফও শফিউদ্দিন ফরহাদ, এফএভিপি বৃতি সুন্দর দেবনাথ, এফএভিপি ফারহানা নাসরিন, এফএভিপি নাদিম জাহাঙ্গীর, এসপিও হোসেন আল মাসুদসহ আরও কয়েকজন এমডির কক্ষে উচ্ছৃংখলভাবে প্রবেশ করে।
তারমধ্যে ইভিপি মো. ফারুক হোসেন ও ইভিপি মনির হোসেন এমডির ফোন কেড়ে নেয় এবং ডিএমডি মসি উদ-দৌলাসহ অন্যান্যরা একটি লিখিত পদত্যাগপত্র সামনে দিয়ে পদত্যাগের জন্য স্বাক্ষর করতে চাপ দেয়। পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে এমডি মোফাজ্জল হোসাইনকে অবরুদ্ধ করা হয়। এক পর্যায়ে এমডিকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে মতিঝিল থানা পুলিশের কয়েকজন সদস্যের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা এমডির কক্ষ ত্যাগ করলে মোফাজ্জল হোসাইন মুক্ত হন। পরে তিনি বুধবার সন্ধ্যায় মতিঝিল থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জিডি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত ডিএমডি মসি উদ-দৌলা বলেন, ‘অফিসে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে এমডি স্যারের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। কেউ একজন পুলিশে খবর দিয়েছে। পুলিশ এসে আলোচনা করে চলে গেছে।’ কেন পুলিশ এসেছিল, পদত্যাগের দাবি কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করব না।’
কোম্পানির সিএফও শফিউদ্দিন ফরহাদ বলেন, ‘আমরা পদত্যাগের দাবি করিনি। হুমকিও দেইনি। এমডির আচরণগত কিছু সমস্যা ছিল সেগুলো নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে।’
এমডির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না দিয়ে নিজেরাই এমডিকে অবরুদ্ধ করতে পারেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের বোর্ড দেখবে।’
জিডি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডিএমডি মসি উদ-দৌলাসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিপি গোলাম সওগাতুল করিমকে প্রদান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির রিপোর্ট শিগগিরই প্রকাশ করার কথা রয়েছে। তাই বিবাদীরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে এমডিকে জোর পূবর্ক পদত্যাগ করানোর চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগী এমডি মো. মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, ‘আমাকে হুমকি দেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকে বিষয়টি অবহিত করেছি। মতিঝিল থানায় জিডি করেছি। এখনো জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
কেন হুমকি দেওয়া হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত হচ্ছে। সেখানে তারা দোষী সাব্যস্ত হতে পারে। তাই তদন্ত বানচাল করতে তারা আমাকে পদত্যাগে চাপ দেয়। আমি রাজি না হওয়ায় আমার কক্ষে ঢুকে জোরজবরদস্তি করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে পুলিশ আসলে তারা সড়ে যায়।’
জানা গেছে, ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাতে বাহির থেকে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। তবে কেউ একজন পুলিশ খবর দিলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
জানতে চাইলে সিকিউরিটি গার্ড মো. খালেদ হোসেন বলেন, ‘বড় স্যারদের নির্দেশে প্রধান কার্যালের শাটার নামিয়ে রাখা হয়েছিল। উপরে এমডি স্যারের সঙ্গে কি হয়েছে তা জানি না। তবে তিনি বিকালে নির্ধারিত সময়ে আগেই অফিস ত্যাগ করেন।’