× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গলাচিপা সেতু নির্মাণ প্রকল্প

অনুমোদনের আগেই খরচ বেড়েছে ৩১৭ কোটি টাকা

এম আর মাসফি

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২২ ১৯:০২ পিএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বরিশালের লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কের রাবনাবাদ নদীর উপর গলাচিপা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভা-একনেকে অনুমোদনের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫২১ কোটি টাকা। যদিও এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) যখন প্রথম পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয় তখন প্রকল্পটির থরচ ধরা হয়েছিল ২০৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ফলে অনুমোদনের আগেই প্রকল্পটির খরচ বেড়েছে ৩১৭ কোটি টাকা। 

প্রকল্পের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রথমবার পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রস্তাবে ২০৪ কোটি ৩৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিরি (পিইসি) সভা শেষে প্রকল্পটি ফেরত পাঠালে সংশোধিত ডিপিপিতে ব্যয় দাঁড়ায় ৩২৯ কোটি ৮৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এক দফাতেই প্রথম প্রস্তাবের চেয়ে ১২৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেড়ে যায়। এরপর আবারও বিভিন্ন সংশোধনী দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় প্রকল্পটি। এরপর আরও ১৯১ কোটি টাকা খরচ বাড়িয়ে পাঠনো হয়। যা পিইসি সভা শেষে একনেকের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্পটি আগামীকাল মঙ্গলবার একনেকে উপস্থাপনের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।  

প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ডিপিপি সংশোধন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে প্রায় দুই বছর সময় লেগে যায়। সর্বশেষ সংশোধিত ডিপিপিতে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ২৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এ পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য খরচ বৃদ্ধির খাতগুলো হলো-নদীশাসন কাজে ১৭১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, আরসিসি ফেল্ডার পাইল নির্মাণে বেড়ে গেছে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এছাড়া নৌ-ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে বেড়েছে ১৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা, পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা বেড়েছে।

প্রকল্পের মেয়াদও বেড়েছে। প্রথম প্রস্তাবে ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের জুনে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এক বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে-পটুয়াখালী জেলার সদর ও বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, আমতলী উপজেলা নদীবেষ্টিত। লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কটি ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের পাগলা থেকে শুরু হয়েছে। এরপর বাউফল উপজেলার মধ্যে দিয়ে দশমিনা, গলাচিপা হয়ে পটুয়াখালী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। সড়কটি বাউফল, দশমিনা উপজেলার সঙ্গে পটুয়াখালী জেলা সদরে যাওয়ার জন্য সংক্ষিপ্ত পথ। বর্তমানে রাবনাবাদ নদীতে ফেরি সার্ভিস রয়েছে। নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে রাবনাবাদ চ্যানেলে দুই লেন বিশিষ্ট ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর ৮ শতাংশ হারে সড়কটির যান চলাচল বৃদ্ধি পাবে। এ সেতু নির্মাণ হলে বছরে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার সাশ্রয় হবে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে, লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কের ৭০তম কিলোমিটারে রাবনাবাদ নদীর উপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগীয় সদর ও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ স্থাপন।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৮৮২.৮১ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, ৭.৫৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ১৬০০ মিটার নদী শাসন, ১.৪ কিলোমিটার নতুন পেডমেন্ট নির্মাণ এবং ১টি ব্রীজ টোল প্লাজা নির্মাণ।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, পটুয়াখালী জেলার সদর ও বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, আমতলী উপজেলা নদী দ্বারা বেষ্টিত। লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া (জেড-৮৮০৬) সড়কটি ঢাকা (যাত্রাবাড়ী)-মাওয়া-ভাগ বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের ((এন-৬) পাগলা নমের স্থান হতে শুরু হয়ে বাউফল উপজেলার মধ্যে দিয়ে দশমিনা, গলাচিপা হয়ে পটুয়াখালী স্থাপন করেছে। সড়কটি বাউফল ও দশমিনা উপজেলার সঙ্গে পটুয়াখালী জেলা সদরের যাতায়াতের সংক্ষিপ্ততম পথ। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখার স্বার্থে সড়কটির ৭০তম কিলোমিটারে অবস্থিত রাবনাবাদ নদীর উপর ফেরী সার্ভিস পরিচালিত হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে রাবনাবাদ চ্যানেলে ১০.২৫ মিঃ প্রশস্ত ২-পেন ৮৮২.৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। 

অনুমোদনের আগেই ব্যয় বাড়ার বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ বলেন, ‘প্রকল্পটি বেশ কিছু কারণে সংশোধন করতে হয়েছে। না হলে দেখা যেত অনুমোদনের পরেই আবার ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে। এছাড়া রেটশিডিউলের কারনেও কিছুটা ব্যয় বেড়েছে। তবে প্রকল্প গ্রহণের সময় অবশ্যই ফিজিবিলিটি যথাযথভাবে করা উচিত। প্রথমে ফিজিবিলিটি স্টাডি সঠিকভাবে করে ডিপিপি পাঠালে এতবার সংশোধন করতে হতো না। প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির সময় বারবার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অদূরদর্শিতার পরিচায়ক।’

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘শুরুতে এ অবস্থা হলে ভবিষ্যতে ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির শঙ্কা থেকে যায়। রেট শিডিউল পরিবর্তন, নতুন অঙ্গ যুক্ত করাসহ বেশকিছু কারণে খরচ বাড়তে পারে। তবে ঢালাওভাবে এমন ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি গভীরভাবে দেখা উচিত। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব অবহেলা এবং যেনতেনভাবে প্রকল্প তৈরির ফল হচ্ছে এটি।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা