প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪ ২২:৫৭ পিএম
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর চিঠি দিয়েছেন ব্যাংকটির একজন সাবেক চেয়ারম্যান। ব্যাংকটির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যনের সঙ্গে এক যৌথ চিঠিতে তারা জানান, বর্তমান দখলদার পরিচালনা পর্যদ অনতিবিলম্বে বাতিল করে তদস্থলে পূর্ববর্তী ২০১৪ সালের ন্যায় সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও সক্ষম পেশাদার ব্যক্তিবর্গ দিয়ে একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।
ব্যাংকটিতে নামে বেনামে ক্রয় করা ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ার যাতে অন্য কোথাও হস্তান্তর করতে না পারে দ্রুত সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংকের সম্পদ লুটপাটের তথ্য অবিলম্বে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে। গভর্নরের উদ্দেশে দেওয়া চিঠিটি গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রহণ করেছে।
চিঠিতে চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আনোয়ার ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ধীরে ধীরে শেয়ার ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), দুবাই ইসলামী ব্যাংক, আল-রাজি গ্রুপ, সৌদি কোম্পানি আরবসাস ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিস্ট এজেন্সিসহ বেশির ভাগ উদ্যোক্তা ও সাধারণ শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া স্থানীয় অনেক প্রতিষ্ঠানকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ছেড়ে দিতে হয়। এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগে বিদেশীদের শেয়ার ছিল ৫২ শতাংশের মতো যা এখন ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
চিঠিতে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দেশের সর্ববৃহৎ বানিজ্যিক ব্যাংক। দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়ন এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় নিয়ে ইসলামী ব্যাংক ১৯৮৩ সালের ৩০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এ দেশের এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ইসলামী ব্যাংক হিসেবে কাজ শুরু করে। ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ (আইডিবি) সৌদি আরব এবং মধ্যগ্রাচ্যের কয়েকটি মুসলিম রা্রে অবস্থিত প্রসিদ্ধ কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা উদ্যোক্তা হিসেবে মুলধন যোগান দেন। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় দেশী ব্যক্তি ও সংস্থা মিলে মোট মূলধনের ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং বিদেশী উদ্যোক্তাগণ ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ মূলধন প্রদান করেন।
গত চার দশকে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযাোগ্য অবদান রেখেছে। দেশব্যাপী সুনাম, সুখ্যাতি ও আস্থা বৃদ্ধির কারণে বিগত ৩০ বছর ধরে প্রতিবছরই ব্যাংকের ডিপাজিট, এক্সপোর্ট, ইমপোর্ট, রেমিট্যান্স সব বেড়েছে। আইনকানুন পরিপালন, গ্রাহককে উত্তম সেবা দেওয়া ও আর্থিক সূচকে অন্য সব ব্যাংককে ছাড়িয়ে গিয়েছিল এই ব্যাংক।
২০১২ সাল থেকেই যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সসিয়াল ইনটেলিজেন্স ম্যাগাজিন "The Banker' কর্তৃক বিশ্বের সেরা ১০০০ ব্যাংকের মধ্যে এই ব্যাংক অন্তর্ভক্ত যা ধাপে ধাপে ২০২১ সালে ৮৮২তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে যা ২০২৩ সালে ৯২২তম অবস্থান রয়েছে। উপরোক্ত অসাধারণ অর্জনের পর ২০১৬ সালে সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেয় সদ্য বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ট সহচর এস. আলম গ্রপ এবং ২০১৭ সালে ৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় অবৈধভাবে ব্যাংক দখল করে।
চিঠিতে বলা হয়, ২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্যাংকে এস. আলম গ্রুপের কোন শেয়ার ছিলনা। ২০১৬ সালে ৭টি অস্তিত্বহীন শেল কোম্পানি দিয়ে ১৪ দশমিক ০৭ শতাংশ শেয়ার নেয় যা বর্তমানে প্রায় ৮২ শতাংশ হস্তগত করেছে। নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব নির্দিষ্ট পলিসি/সার্কুলার, লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা ছাড়াই প্রায় ৯ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে এস আলম গ্রুপ।
এসব কর্মকর্তার বেশির ভাগই সাইফুল আলমের নিজের এলাকা পটিয়া উপজেলার। ২০১৬ সালে ব্যাংকে কর্মকর্তা ছিল ১৩ হাজার ৫৬৯ জন যা ব্যাংকের নিয়ম-নীতি লংঘন করে ২০২৩ সালে ২০ হাজার ৮০৯-এ তুলে আনা হয়েছে। পাশাপাশি এস.আলম গ্রুপ অস্তীতৃহীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান/ফার্মের নামে /বেনামে অত্যন্ত অনৈতিকতার ভিত্তিতে ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে এবং বিভিন্ন কায়দায় অজস্র বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করেছে। ফলে ব্যাংকের নীতি নৈতিকতা ও আদর্শের পতন ঘটে । তাই ব্যাংকের অভিভাবক হিসাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে জনগণের উত্তম আস্থাভাজন এবং সর্বোত্তম পারফর্মার ও সেরা ব্যাংক হিসাবে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে গ্রাহকদের আস্থা ও স্বার্থ রক্ষার্থে জরুরি বলে জানানো হয় গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে।