প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৪ ১৬:২৬ পিএম
ফাইল ফটো
দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে গত শুক্রবার থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে যেসব পণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল, তা কমতে শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সবজি ও মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। তবে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, তেজকুনিপাড়া ও তেজগাঁও রেলওয়ে কো-অপারেটিভ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে মাছ, মুরগি ও সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। তাতে কিছু কিছু সবজির দাম কমতির দিকে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০-২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা, পেঁপে ১০ টাকা কমে ৫০ টাকা, গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫, লম্বা বেগুন ৭০-৮০, ঝিঙা ৭০-৮০, চিচিঙ্গা ৬০-৬৫, কুমড়া ৫০-৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০, পটোল ৫০-৬০, কচুর মুখি ৮০-৯০, শসা ৬০-৭০, কচুর লতি ৮০-৯০, টমেটো ৪০ টাকা কমে ১৬০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তেজকুনিপাড়া কাঁচাবাজারে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিলশাদ কবিরের সঙ্গে। তিনি বেশ কিছু তরকারি কিনেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজের প্রত্যাশা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে, যাতে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ যথাযথভাবে করা যায়। সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে বাজার মনিটরিং বাড়ানো দরকার। শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি মহল্লায় একটি করে মনিটরিং টিম করে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
একই বাজারের ক্রেতা মর্জিনা আক্তার বলেন, আমরা চাই বাজারে সব পণ্যের দাম কমুক। মানুষ পেট ভরে খেতে পাক।
তেজগাঁও রেলওয়ে কো-অপারেটিভ মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, ঢাকায় পাইকাররা মাল আনলে বাজারের কয়েকজন সিন্ডিকেট তা গাড়িতে থাকতেই কিনে নেয়। তারা আবার কয়েক দফা হাত বদল করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। এতে কয়েক দফা দাম বাড়ে। এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। পাইকার বা কৃষকদের মাল তাদের নিজেদের বিক্রি করার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কারওয়ান বাজারে একটি ট্রাক ঢুকলেই ২০০-৫০০ টাকা পুলিশ ও নেতাকর্মীদের চাঁদা দিতে হয়, এসব বন্ধ করতে হবে। মালামাল নিয়ে ভ্যান বাজার থেকে বের হলে তাকে ১০-২০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এ ছাড়া রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। যে সবজি কেনা হয়েছে ৪০ টাকা কেজিতে, এলাকার বাজারে আনতে আনতে তার দাম পড়ে যায় ৪৫ টাকা। দোকান ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মিলে তা ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়।
একই বাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ সবুজ বলেন, আলু ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ এক শ্রেণির লোক ক্ষেতেই আলু কিনে নেয়। সেগুলো স্টক করে পরে দাম বাড়িয়ে দেয়। এসব অবস্থার পরিবর্তন আনা দরকার।
সবজি ও মুরগির দাম কমলেও চালের দামে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। বাজারভেদে ব্রি২৮ চালের কেজি ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও তেমন দাম কমেনি। প্রতি কেজি ছোট চিংড়ি ৮৫০ টাকা, রুই ৩৫০-৪০০, কৈ মাছ ১৮০-২৩০, মলা ৪০০, এক কেজির ওপরে ইলিশের কেজি ১৮০০-২০০০ টাকা।
বাজারভেদে চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা ও মোটা ডাল ১১০ টাকা কেজি। ফার্মের মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা হালিতে ও সাদা ডিম ৪৮ টাকা হালি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের আন্দোলনের জন্য গত শুক্রবার থেকে বাজারে সবজির সরবরাহ কম ছিল। তাতে সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যায়। এখন সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।
বাজারে মুরগির সরবরাহ সংকটের কারণে সম্প্রতি প্রতি কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২০০-২১০ টাকায় এবং সোনালি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়। বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি মানভেদে ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে মুরগির পর্যাপ্ত সরবরাহ বেড়েছে। এতে দাম কমেছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান। গতকাল রাজধানীর শ্যামবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মনিটরিং শেষে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট ভাঙার সময় এখনই। হিডেন চার্জ এখন নেওয়া হচ্ছে না। নতুন করে কেউ যেন চাঁদাবাজিসহ হিডেন চার্জ নিতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এএইচএম সফিকুজ্জামান আরও বলেন, বাজারে পণ্য নেই, অস্থির বাজার, এমন গুজব সুপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করতে চাইছে কেউ কেউ। গুজবে কান দেবেন না। পণ্য আমদানি ও সাপ্লাই চেইন অনেকটাই স্বাভাবিক আছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিবিধ ব্যয় হ্রাস পেয়েছে এবং পণ্যের মজুদ স্বাভাবিক রয়েছে। আশা করা যায় এর ফলে পণ্যের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে আসবে। এ ছাড়া তিনি সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক বাজার মনিটরিং কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিত কাজ করতে হবে কর্মকর্তাদের।