প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৫৯ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২ ২০:০৪ পিএম
ফাইল ছবি
দেশে সবুজ কারখানার তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরো দুটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হল: নারায়ণগঞ্জের হাজারিবাগে স্থাপিত বর্ণালী কালেকশন এবং গাজিপুরে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। এ দুটি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ায় ১৭৮টি কারখানা নিয়ে বিশে^র শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) স্বীকৃতি পাওয়া বর্ণালী কালেকশন গোল্ড ক্যাটাগরিতে পয়েন্ট পেয়েছে ৬৪ এবং বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে পেয়েছে ৮৫ পয়েন্ট। বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ইউএসজিবিসির স্বীকৃতি পায় চলতি মাসের ১৭ নভেম্বরে আর বর্ণালী কালেকশনের স্বীকৃতি মেলে গত ২৮ অক্টোবর।
এ ফলাফলের ভিত্তিতে সবুজ কারখানা নির্মাণে এখন অনেকটাই শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ। এর আগে ময়মনসিংয়ের মেহেরাবারির সুলতানা স্যুটওয়্যারস লিমিটেড, গাজীপুরের বানিয়াচালার সিলিকন স্যুয়িং লিমিটেড এবং গাজীপুরের ভবানিপুরের সি এ নিটওয়্যার লিমিটেড এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউএসজিবিসি।
২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর টনক নড়ে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যেক্তাদের। তারা এই দুর্ঘটনার পর কারখানা নির্মাণে সতর্ক অবস্থানে চলে যান। উদ্যেক্তারা ক্রেতা বা বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সব ধরণের সুযোগ সুবিধা নিয়ে সবুজ কারখানা তৈরিতে আরো বেশি মনযোগী হয়ে উঠেন। পরিবেশবান্ধব কারখানা নির্মাণে বাংলাদেশের পরেই অবস্থান করছে ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়া।
ইউএসজিবিসি গত ১২ অক্টোবর স্বীকৃতি দেয় সুলতানা স্যুটওয়্যারস লিমিটেডকে। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠানটিকে ৮১ পয়েন্ট দেয়। আর গত ১১ অক্টোবর স্বীকৃতি পায় সুলতানা স্যুটওয়্যারস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ইউএসজিবিসির কাছ থেকে পায় ৯২ পয়েন্ট। একইসঙ্গে ১০ অক্টোবর ৮৭ পয়েন্ট নিয়ে ইউএসজিবিসির স্বীকৃতি পায় সি এ নিটওয়্যার লিমিটেড। বর্তমানে রেমি হোল্ডিংস ও ফতুল্লাহ ৯৭ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। ২০০১ সাল থেকে লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিজাইন (লিড) সনদ পাচ্ছে বাংলাদেশ। জ্বালানি, পানি, ব্যবস্থাপনাসহ কয়েকটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে কারখানাগুলোকে সবুজ কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউএসজিবিসি।
প্রতিষ্ঠানটি চারটি ক্যাটাগরিতে লিড সনদ দিয়ে থাকে। এগুলো হল: প্লাটিনাম, গোল্ড, সিলভার এবং সার্টিফাইড। আর এই চার ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে প্লাটিনাম ৫৮টি, গোল্ড ১০৬টি, সিলভার ১০টি এবং সার্টিফাইড ৪টি কারখানা রয়েছে। এছাড়াও ৫৫০ টিরও বেশি কারখানা রেজিস্ট্রেশন বা পাইপলাইনের আওতায় রয়েছে।
কোন কারখানা ১১০ পয়েন্টের মধ্যে ৮০ পয়েন্টের বেশি পেলেই ওই প্রতিষ্ঠানকে প্লাটিনাম সনদ দেয় ইউএসজিবিসি। একইসঙ্গে কারখানা ১১০ পয়েন্টের মধ্যে যদি পয়েন্ট ৬০ পায় তবে ইউএসজিবিসি ওই প্রতিষ্ঠানকে দিচ্ছে গোল্ড সনদ। এছাড়া ৫০ পয়েন্ট পেলে সিলভার সনদ ও ৪০ পয়েন্ট পেলে সার্টিফাইড সনদ দেয় ইউএসজিবিসি।
সবুজ কারখানা নির্মাণে সফলতার জন্য ২০২১ সালে বিশে^র ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বিজিএমইএ) লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে ইউএসজিবিসি। ২০২২ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ২৫ টি কারখানা এ স্বীকৃতি পায়। যেখানে ১৩ টি কারখানা রয়েছে প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে আর ১২টি কারখানা রয়েছে গোল্ড ক্যাটাগরিতে।
আর ২০২১ সালে ২৩টি কারখানা স্বীকৃতি পায় ইউএসজিবিসির। এরমধ্যে ১০ টি কারখানা রয়েছে প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে, ১০ টি রয়েছে গোল্ড ক্যাটাগরিতে, ১ টি রয়েছে সিলভার ক্যাটাগরিতে এবং ২ টি আছে সার্টিফাইড ক্যাটাগরিতে।
সবুজ কারখানা নির্মাণ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে বিজিএমইএর পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘এটা খুবই আনন্দের খবর যে আমাদের আরো দুটি কারখানা লিড সার্টিফাইড হয়েছে। আমাদের উদ্যোক্তারা বেশ আগ্রহ নিয়ে ক্রমাগত সবুজ কারখানা নির্মাণ করে যাচ্ছেন। এতে আমাদের ব্যান্ডিং হচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে নিরাপত্তা এবং সাস্টেইনএবিলিটি রক্ষা করা। কেননা সবুজ কারখানা নির্মাণ ছাড়া ভবিষ্যতে টিকে থাকতে বিকল্প কোন পথ নেই।’
মহিউদ্দিন রুবেল আরো বলেন, ‘সবুজ কারখানা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আর্কষণ বাড়ছে। আমাদের প্রতি বায়ারদের আত্নবিশ^াস বাড়ছে, আমরা সেই প্যাকেজটা তাদের দিতে পারছি। যদিও এখন আমাদের ক্রয়াদেশ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম আছে। আশা করি সকল সংকট কাটিয়ে দারুণ গতিতে এগিয়ে যাবে পোশাক শিল্প।’