প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৪ ২১:৫৫ পিএম
আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৪ ২২:২৯ পিএম
ফাইল ফটো
শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়েছে ডলার বাজারে। কারফিউ পরিস্থিতে জনসাধারণের চলাচল সীমিত হওয়ার মধ্যেই ধস নেমেছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। ফলে সরবরাহ সংকটে ডলারের দর লাফিয়ে বাড়ছে। খোলাবাজারে ডলারের দর সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত ৫ টাকা বেড়ে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) ১২৫ টাকায় উঠেছে।
এতদিন নগদ ডলার ১২০ টাকা বিক্রি হলেও গতকাল থেকে ডলারের দর অল্প অল্প করে বেড়ে মঙ্গলবার ১২৫ টাকায় উঠেছে। অথচ এক দিন আগেও এর দাম ছিল ১২১-১২২ টাকা।
খোলা বাজারের ডলার পরিস্থিতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো.
মেজবাউল হক বলেন, খোলাবাজারের ডলারের দরের বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। মার্কেটের দাম কখনও কম, কখনও বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। মার্কেট সারাজীবন এক রকম থাকবে এটা কেউ গ্যারান্টি দিতে পারবে না। মার্কেট তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল ও ফকিরেরপুল এলাকার মানিচেঞ্জারগুলোতে মঙ্গলবার ১২৪ থেকে ১২৫ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি হয়েছে। কেনা হয়েছে ১২৩ থেকে ১২৪ টাকা দরে। নাম প্রকাশ না করে মতিঝিল দিলকুশার একটি মানিচেঞ্জারের কর্মকর্তা বলেন, ১২৫ টাকায় ডলার বিক্রি করেছি কারণ কেনা দর বেশি। আগের দিন সোমবার ১২১ টাকা ৬০ থেকে ৭০ পয়সায় ডলার কিনে বিক্রি করেছি ১২২ টাকা। সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
টানা ৫ দিন পর গতকাল অফিস খোলার পর ডলারের বাড়তি চাহিদার কারণে দর বাড়তে শুরু করে। ওই দিন মানিচেঞ্জারগুলো ১২১ টাকা থেকে ১২১ টাকা ১০ পয়সায় কিনে বিক্রি করে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে গতকাল ১২৫ টাকায় উঠেছে।
এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতিই সংকট তৈরি করছে। মূলত. বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এটি আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এক্সপোর্ট কমে গেছে, আবার রেমিট্যান্সও কম আসছে। এ ছাড়াও এ পরিস্থিতিতে অনেকেই এখন ক্যাশ ডলার হাতে রাখতে চাইবে। সব মিলে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। অবস্থা স্বাভাবিক না হলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলে মত দেন এ অর্থনীতিবিদ।