চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৪ ১৭:২৮ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট আমের বাজার । প্রবা ফটো
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের কেনাবেচা কমে গেছে। ঢাকাসহ দূরবতী জেলায় ভোক্তার কাছে আম পৌঁছাতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে দাম কমে যাওয়ায় বাজারে আমের সরবরাহ কম গেছে।
কানসাট আমবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার দেশের বৃহত্তম এই বাজারে প্রতিমণ ফজলি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা, আম্প্রপালি ২ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, বারি-৪ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং আশ্বিনা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে আমের বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি একেবারেই কম। ফলে বাজারটিতে আমের দাম কমে গেছে। অন্যদিকে দাম কমে যাওয়ায় অনেক চাষি গাছ থেকে আম নামানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
শিবগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার আম ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, আন্দোলনের কারণে কানসাট বাজারে আম বেচাকেনা কম হচ্ছে। ঢাকাসহ দূরবর্তী জেলায় আমের গাড়ি না যাওয়ায় দামও কমে গেছে। এ কারণে অনেক চাষি গাছ থেকে আম নামাচ্ছেন না।
লেখাপড়ার পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে অনলাইনে আম বিক্রি করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে তিনি কোন ভোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। ফলে আম বেচাকেনা বন্ধ রেখেছেন তিনি।
সাব্বির হোসেন বলেন, গত মঙ্গলবার ঢাকা, কুমিল্লাসহ দূরবর্তা জেলায় প্রায় ১০০ কেজি আম কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু গত বুধবার থেকে অনলাইনে আমের অর্ডার পাইনি বললেই চলে। আম বেচাকেনা একেবারেই কমে গেছে। ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আম পাঠানো যাচ্ছে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পুরাতন বাজারের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের এজেন্ট সেফার আলী বলেন, প্রায় সব কুরিয়ার সার্ভিসের সার্ভার বন্ধ আছে। তারা কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বুকিং করতে পারছেন না। যার কারণে কোন কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি আম নিয়ে শহর ছেড়ে যায় নি।
এদিকে গোমস্তাপুরের রহনপুর আম বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। আম্রপালিসহ ৪ রকমের আম নেমেছে শুক্রবারের বাজারে। এদিন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ফজলি। প্রতিমণ ফজলি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। এই বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, কুরিয়ার সার্ভিসসহ প্রায় সব ধরণের গাড়িতে আম পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এদিকে আমের দামও কিছুটা কমেছে।
আম বিপননের বিষয়ে জানতে চাইলে কানসাট আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রভাবে বাজারে আম বেচাকেনা কমে গেছে। প্রতিমণ আমে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কম পাচ্ছেন চাষীরা। ট্রাক ও পিকআপের মালিকরা ক্ষতির আশঙ্কায় তাদের যানবাহনগুলো ভাড়া দিচ্ছে না বলেও জানান তিনি।