আবুল হাসান, মোংলা
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৪ ০০:৩৬ এএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১০:৫৩ এএম
খালাস বন্ধ থাকায় মোংলা বন্দরে জমছে আমদানি করা গাড়ির স্তূপ। প্রবা ফটো
দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ও কারফিউ জারি রয়েছে। এতে করে সমুদ্র বন্দরগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে পণ্য খালাস। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি খালাস করতে পারছেন না আমদানিকারকরা। ফলে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিকারকদের প্রতিদিন ৪০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইনে শুল্কায়ন করা সম্ভব না হওয়ায় পণ্য খালাসের পাশাপাশি দৈনিক ১৬ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে মোংলা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।
আমদানি-রপ্তানিকারকরা বলছেন, মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস আটকে যাওয়ার কারণ হলো পণ্যের শুল্কায়ন না হওয়া। ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইনে শুল্কায়ন হচ্ছে না। ইন্টারনেট সেবা বন্ধের আগে যেসব পণ্যের শুল্কায়ন শেষ হয়েছিল, এমন পণ্যই এখন খালাস হচ্ছে। নতুন করে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় বন্দরে পণ্যের স্তূপ জমছে, যার মধ্যে নিত্যপণ্যও রয়েছে। তবে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান। তিনি জানান, আমদানি-রপ্তানিকারকরা বন্দরে এলে তাদের পণ্য ডেলিভারি নিতে পারবেন এজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সব রকমের প্রস্তুতি রেখেছে।
মোংলা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষের কমিশনার কেএম মাহাবুবুর রহমান জানান, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তাদের প্রতি মাসে রাজস্ব আয় হয় ৩০০ কোটি টাকা। আর প্রতিদিন রাজস্ব আদায় হয় ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা। তবে চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গত রবি, সোম, মঙ্গলবার ও বুধবার এই তিন দিনে মোংলা কাস্টম হাউস ৬৬ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নয়, এই পরিস্থিতিতে আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরাও চরম বিপাকে পড়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইনে শুল্কায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পচনশীল পণ্য যাতে খালাস করা যায়, সেজন্য সনাতন পদ্ধতি ‘লোকাল এরিয়া ইন্টারনেট’ চালু রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা চাইলে তাদের পচনশীল পণ্য খালাস করতে পারবেন। কিন্তু এই তিন দিনে আমদানি-রপ্তানিকারকদের কেউ আসেননি বলেও জানান তিনি।
মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় কাস্টমসে ‘বিল অব এন্ট্রি’ করা যাচ্ছে না। ব্যাংক ট্যাক্সের টাকা জমা দেওয়া যাচ্ছে না। মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। ট্রাকে বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া করা যাচ্ছে না।
এ ছাড়া মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস আটকে যাওয়ার কারণ আমদানি করা পণ্যের শুল্কায়ন না হওয়া। মূলত ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইনে শুল্কায়ন হচ্ছে না। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার আগে যেসব পণ্যের শুল্কায়ন শেষ হয়েছিল, এমন পণ্যই এখন খালাস করা যাচ্ছে। নতুন করে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় বন্দরে পণ্যের স্তূপ জমছে, যার মধ্যে নিত্যপণ্যও রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে কারফিউ এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন গাড়ি আমদানিকারকরা। বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিক্যাল ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বারবিডা) সভাপতি হাবিবুল্লা ডন বলেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিদিন মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়ি খালাস করতে ১২০ থেকে ১৫০টি রেজিস্ট্রেশন হয়। সে হিসেবে তাদের প্রতিদিন ৪০ কোটি টাকা আয় হয়। কিন্তু দেশের চলমান পরিস্থিতিতে গত বুধবার থেকে ঝুঁকি নিয়ে এই দুই বন্দর থেকে একটি গাড়িও খালাস করতে না পারায় চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে মোংলা বন্দরকে ঘিরে নাশকতা এড়াতে নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। স্বাভাবিক রয়েছে বন্দরে অবস্থান করা দেশি-বিদেশি জাহাজের কার্যক্রম। গাড়ি আমদানিকারকরা চাইলে মোংলা বন্দর থেকে গাড়ি খালাস করতে পারত। সেক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষ সড়ক-মহাসড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বেষ্টনী দিয়ে তাদের সহযোগিতা করত।’