× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এটিএম বন্ধ, নগদ টাকার তীব্র সংকট

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৪ ১৩:৪০ পিএম

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪ ১৩:৪২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে দেশে ব্যাহত হচ্ছে ব্যাংকিং সেবা। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নগদ টাকার অভাবে অনেকে জরুরি প্রয়োজনীয় কাজ সারতে পারছে না। ব্যাংকের অধিকাংশ এটিএম বুথ বন্ধ রয়েছে। সিআরএম (যেখানে টাকা জমা দেওয়া যায়) মেশিনেও খুব কম পরিমাণে লেনদেন হচ্ছে। তবে ফাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কিছু এটিএম বুথ চালু রয়েছে। আর কিছু চলছে ঢাকা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এতদিন যেসব এটিএম বুথ চলছিল তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আর অ্যাপভিত্তিক লেনদেন পুরো বন্ধ আছে। মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেমনÑ নগদ, বিকাশ নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে পারছে না। 

বিকাশের কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম জানান, ‘আমাদের সার্ভারে সমস্যা হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে।’ 

জানা গেছে, বর্তমানে অনেকেই কার্ডে লেনদেন করে। আর বেশিরভাগ মানুষ হাতে নগদ টাকা রাখে অনেক কম। অনেকেই এটিএম বুথ থেকে অল্প অল্প করে টাকা তোলে। আবার অনেকে অ্যাপ ও সিআরএম মেশিনের মাধ্যমে অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে। বর্তমানে এ ধরনের প্রায় সব সেবা বন্ধ আছে। 

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, যেসব এটিএম বুথ ইন্টারনেটের আওতায় সেগুলো বন্ধ আছে। আর যেগুলো ফাইভারের মাধ্যমে চলে সেগুলো খোলা। ঢাকা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলছে অনেক ব্যাংকের এটিএম বুথ। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অধিকাংশ এটিএম বুথ বন্ধ রাখা হয়েছে। আর সিআরএমগুলোতেও তেমন লেনদেন হচ্ছে না। কারণ সিআরএমে সাধারণত অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা কিংবা নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা লোড করে ট্রান্সফার করে গ্রাহকরা। 

বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় লেনেদেনের চাহিদা কম, তাই সিআরএমে লেনেদেনে ভাটা পড়েছে। তবে অল্প পরিমাণে যারা টাকা উত্তোলন করে তারা চরম বিপাকে। 

রবিবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ এটিএম বুথ বন্ধ। আবার খোলা থাকলেও টাকা নেই। কিছু বুথে নেটওয়ার্ক না থাকায় সেবা বন্ধ আছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। 

কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী হারুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সপ্তাহে এক দিন শুক্রবার বাজার করি। একসঙ্গে অনেক বাজার করতে হয় বলে টাকাও বেশি লাগে। আবার বিভিন্ন দোকানে সপ্তাহের বকেয়া টাকাও পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু টাকা তুলতে পারছি না। কয়েকটি এটিএমে ঘুরেছি কিন্তু সেগুলো বন্ধ পেয়েছি। আবার বেশি দূরে যাওয়াও যাচ্ছে না। চারদিকে সংঘর্ষ চলছে। 

বাসের চালক মেহেদী হাসান বলেন, স্ত্রীকে টাকা পাঠাব, কিন্তু অ্যাপ কাজ করছে না। আমি অন্য কোনো পদ্ধতিও জানি না। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। বাড়িতে ওষুধ ও খাবার কিনতে হবে। মোবাইলে রিচার্জও দিতে পারছি না। দোকানদার বলছেন তিনি অ্যাপে অভ্যস্ত, তাই পারছেন না। তবে ব্যাংকাররা দাবি করেছেন, তাদের অধিকাংশ এটিএম সেবা চালু রয়েছে। শুধু ইন্টারনেটের আওতায় যেসব এটিএম আছে, সেগুলো বন্ধ। নিরাপত্তার কারণে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এটিএম সেবা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বুথেও টাকা পাঠানো হচ্ছে না। 

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তাদের এটিএমগুলো ডেটা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চালু আছে। তবে নিরাপত্তার কারণে কিছু এটিএম বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার যে কোম্পানি এটিএমে টাকা সরবরাহ করে তারাও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে টাকা পাঠাচ্ছে না। 

বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের অধিকাংশ এটিএম ফাইভার নেটওয়ার্কের আওতায় চালু আছে। তবে নিরাপত্তা কিংবা টাকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কারণে সেবা বিঘ্নিত হতে পারে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি এটিএম বুথ আছে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের। এসব ব্যাংকের এটিএমে গত বুধবার টাকা লোড হয়েছে। গত তিন দিন কোনো টাকা লোড করা হয়নি। টাকা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত বুধবার টাকা লোড করেছি। এরপর আর টাকা দেওয়া হয়নি। বলা হচ্ছে নেটওয়ার্ক সমস্যা। সিআরএম খোলা আছে, কিন্তু সেগুলোতে কোনো টাকা লোড করা হচ্ছে না। সিআরএমে টাকা জমা করলে অন্যরা এসে তুলতে পারছেন। 

পুরো ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ায় চরম অর্থসংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ আটকে আছে। দ্রুততম সময়ে নেটওয়ার্ক সেবা চালু না হলে দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলোÑ অনেকে টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় বাজার করতে পারছেন না। নগদ টাকা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তা ছাড়া ব্যাংক খোলা হলে তখন ইন্টারনেট না থাকলে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে যেহেতু ব্যাংক খোলা থাকবে তাই ইন্টারনেট সংযোগ অবশ্যই চালু করতে হবে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা