প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৪ ২১:৩৪ পিএম
ঢাকায় উন্নয়ন সমন্বয়ের আয়োজনে বাজেট ২০২৪-২৫ বিষয়ে তরুণদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। প্রবা ফটো
দেশের সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের বিকল্প নেই। এজন্য জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ঢাকায় উন্নয়ন সমন্বয়ের আয়োজনে বাজেট ২০২৪-২৫ বিষয়ে তরুণদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান এ কথা বলেন।
তরুণদের সঙ্গে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক এশিয়া পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাফিউজ্জামান এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী। সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন অংশীজনকে বাজেট বিষয়ে তথ্য ও গবেষণায় সহযোগিতা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি ও উন্নয়ন সমন্বয় যৌথভাবে যে ‘আমাদের সংসদ’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, তারই অংশ হিসেবে এই মতবিনিময় সভা আয়োজিত হয়।
ড. আতিউর রহমান বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিচারে একটি কঠিন সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট তৈরি করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষাই এ বাজেটের প্রধানতম অগ্রাধিকার। প্রবৃদ্ধির হারের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও এদিকগুলোতে নীতি-মনোযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামষ্টিক-অর্থনৈতিক চ্যালেজ্ঞের মুখে মোট বাজেট কিছুটা সঙ্কোচনমুখী করতে হয়েছে এবং এর প্রভাব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও সামাজিক সুরক্ষার বরাদ্দের ক্ষেত্রেও পড়েছে। তাই এসব খাতের বাজেট বাস্তবায়নে তাই অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায বেশি সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে সরকার দেশজ ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোয় ব্যক্তি খাতের ঋণ সরবরাহ সঙ্কুচিত হবে বলে মত প্রকাশ করেন শাফিউজ্জামান। তবে রাজস্ব আহরণে যথাযথ সংস্কার করার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো গেলে দেশজ ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরতা কমানো যাবে বলে তিনি মনে করেন। সংলাপ সঞ্চালক এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের হেড অফ প্রোগ্রামস- শাহীন উল আলম ‘আমাদের সংসদ’ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য ব্যাংক এশিয়া পিএলসি-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান।