প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ১৬:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪ ১৯:২৪ পিএম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান। ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আলোচিত সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ১১৫টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এসব হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। সবশেষ ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ছেলের ‘ছাগলকাণ্ড’ আলোচনায় আসার পরপরই এসব হিসাব থেকে মোট ৮ কোটি টাকা সরিয়ে ফেলেন তিনি। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ১১৫টি হিসাবের মধ্যে বেশকিছু হিসাব ২ থেকে ৫ বার লেনদেনের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোন খাতে টাকা আদান-প্রদানের জন্য একেকটি ব্যাংক হিসাব খোলা হতো। মতিউরের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এসব তথ্য জানিয়েছে বিএফআইইউ।
তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়,
১০ জুন আলোচিত মতিউর রহমানের ব্যাংক হিসাবগুলোতে মোট ১২ কোটি টাকা ছিল। ছেলের ‘ছাগলকাণ্ড’
আলোচনায় আসার পর ঈদের আগে ও পরে মিলিয়ে তিনি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি টাকা তুলে নেন। এরই
মধ্যে বিএফআইইউ থেকে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হলে বাকি অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ পাননি।
এতে তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৪ কোটি টাকা রয়ে যায়।
গত ২৫ জুন দুদকের অনুরোধে মতিউর
রহমান ওরফে পিন্টু, তার দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে আর্থিক
গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে
তাদের মুঠোফোনে আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসাব ও শেয়ারবাজারের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও)
হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ওই আটজনের ব্যাংক,
এমএফএস ও বিও হিসাবের যাবতীয় তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ। তথ্য চাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে
তাদের ব্যাংক হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে। পরে ব্যাংকগুলো থেকে তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়া হয় বিএফআইইউর কাছে। তথ্য
পেয়ে সংস্থাটি দুদককে ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে বিএসইসি সূত্রে জানা
গেছে, মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে এখন পর্যন্ত ১৬টি বিও হিসাবের সন্ধান
পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মতিউর রহমানের নামে চারটি, তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে
দুটি, প্রথম পক্ষের ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের নামে দুটি, প্রথম পক্ষের মেয়ে
ফারজানা রহমান ঈপ্সিতার নামে তিনটি ও দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীর নামে পাঁচটি
বিও হিসাব রয়েছে। তবে তার তিন সন্তানের নামে এখন পর্যন্ত কোনো বিও হিসাবের হদিস মেলেনি।
পুঁজিবাজারে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে
বিও হিসাব ও শেয়ার ধারণসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড
(সিডিবিএল)। দুদকের চিঠি পাওয়ার পর বিএসইসি এই প্রতিষ্ঠানকে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের
সদস্যদের নামে থাকা বিও হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয়। এর ফলে এসব বিও হিসাব ব্যবহার করে
এখন আর কোনো লেনদেন করা যাবে না। এসব বিষয়ে মতিউর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে
তিনি আত্মগোপনে আছেন।
প্রসঙ্গত, গত ঈদুল আজহার আগে
ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাতের ১৫ লাখ টাকায় ছাগল কেনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মতিউর রহমান
দেশজুড়ে আলোচিত হন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মতিউর ও তার পরিবারের দেশে-বিদেশে বিপুল
সম্পদের তথ্য প্রকাশ শুরু করে। এরপর তাদের সম্পদের খোঁজে নামে দুদক।