নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১০:৩২ এএম
নওগাঁর বিভিন্ন পুকুরে চাষ হচ্ছে রঙিন মাছ। প্রবা ফটো
নওগাঁ জেলার বিভিন্ন পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে অর্নামেন্টাল ফিশ বা রঙিন মাছের চাষ। পুকুরে সাধারণ মাছের সঙ্গে রঙিন মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন খামারিরা। রঙিন মাছ পিস হিসেবে বিক্রি হয় এবং বাজারে এসব মাছের দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারছে জেলার শিক্ষিত বেকার যুবসমাজ। বর্তমানে তারা রঙিন মাছ চাষের দিকে এগিয়ে আসছেন। এতে জেলার বেকারত্বের হার কমছে এবং নতুন উদ্যোক্তারার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিশেষ প্রজাতির রঙিন মাছগুলো পরিবহনে সুষম ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়তই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে খামারিদের। চাহিদাসম্পন্ন ও সম্ভাবনাময় এই মাছ চাষের দিকে সরকারের সুদৃষ্টি চেয়েছেন খামারিরা।
সাধারণত বাসাবাড়ি, পাঁচতারকা হোটেল এমনকি অফিসের অ্যাকুরিয়ামে শোভা পায় হরেক রকমের রঙিন মাছ। বর্তমানে শৌখিন মানুষদের শখের অন্যতম স্থান দখল করে নিয়েছে এই অর্নামেন্টাল ফিশ। নওগাঁয় দিন দিন এই মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা সদর, আত্রাই, বদলগাছী, পত্নীতলা, ধামইরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে পুকুরে সাধারণ মাছের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে রঙিন মাছ। স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমী পিকেএসএফের অর্থায়নে সমন্বিত কৃষি ইউনিটের মৎস্য খাতের আওতায় ২২-২৩ অর্থবছরে ‘অর্নামেন্টাল বা রঙিন মাছ চাষ’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে উৎসাহী চাষিদের দিয়ে রঙিন মাছ চাষ শুরু করেছেন।
জেলার বদলগাছী উপজেলার কামারবাড়ি গ্রামের রঙিন মাছ চাষি আবু রায়হান সিদ্দিক বলেন, ৫টি পুকুরে বাহারি রঙিন মাছ চাষ করেছেন। তিনি সিল্কি কৈ কার্প ও কমেট মাছের রেণু সফলভাবে উৎপাদন করেছেন। বর্তমানে তার পুকুরে রঙিন কৈ কার্প, কমেট, বাটারফ্লাই, অরেন্টা ফিশ, মলি ও গাপ্পি মাছ চাষ হচ্ছে। প্রতিটি মাছ পিস হিসেবে বিক্রি হওয়ায় বাজারে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে তিনি যেমন লাভবান হচ্ছেন, তার দেখাদেখি অনেক উদ্যোক্তাও রঙিন মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. বায়েজিদ আলম বলেন, স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থার পাশাপাশি সরকারিভাবেও জেলার কয়েকটি উপজেলায় রঙিন মাছের চাষ শুরু হয়েছে। রঙিন মাছ সাধারণ মাছের মতো নয়, তবে এই মাছের ক্রেতা সারা দেশেই রয়েছে। এই মাছের বিশেষায়িত পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টি করা গেলেই খুব দ্রুতই দেশের বিভিন্ন স্থানে এই রঙিন মাছ চাষ রপ্তানি করা যাবে। এতে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে।