প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ২২:৪৩ পিএম
জিআই বা ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বুধবার সিপিডি এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। প্রবা ফটো
বাংলাদেশের যে ৩১ টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। সেখানে সুন্দর বনের মধু নাই। সুন্দরবনের মধুর জিআই পণ্যে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আলোচনা নেই। দক্ষতা, সক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে জবাবদিহিতার জায়গাও দুর্বল। প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে সুন্দরবনের মধু জিআই পণ্যের মর্যাদা হারিয়েছে বাংলাদেশ বলে মনে করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
বুধবার (২৬ জুন) সিপিডির ধানমন্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সুন্দরবনের মধু এখন ভারতের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য’ শীর্ষক একটি মিডিয়া ব্রিফিং এ কথা বলা হয়।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘জিআই পণ্যের তালিকাভুক্ত করা জন্য ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট বাঘেরহাটের জেলা প্রশাসক সুন্দরবনের মধুকে ভৌগলিক পণ্য হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করেন। এরপর সাত বছর চলে যায়। কিন্তু এ আবেদনকে কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে ভারত ২০২১ সালের ১২ জুলাই সুন্দরবনের মধুরকে ভৌগলিক পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য ভারতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারিতে জিআই পণ্য হিসেবে সনদ পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেইড ইন বাংলাদেশে যেতে হলে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে মেধাসত্ত্বে সুরক্ষা দিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আসে না তার অন্যতম একটি বড় কারণ হলো মেধাস্বত্ব আইনের প্রয়োগ না থাকা। অর্থনীতির জন্য মেধাস্বত্ব অধিকার (আইপিআর) সুরক্ষা ও এ-সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টিতে এটি ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বিশ্বের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব আইনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।’
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় সংলাপে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা কর্মকর্তা নাইমা হক।
মূল প্রবন্ধে সিপিডি বলেছে, সুন্দরবনের মধুর দুই-তৃতীয়াংশ বাংলাদেশের অংশ থেকে সংগৃহীত হয়। অন্যদিকে ভারত সুন্দরবন থেকে তুলনামূলক কম মধু সংগ্রহ করে থাকে। এ হিসেবে বাংলাদেশ সুন্দরবনের মধু ভৌগোলিক পণ্যের দাবিদার। ভারত এবং বাংলাদেশের একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোতে যেতে হবে, যাতে উভয় দেশের ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যগুলি সুরুক্ষা পেতে পারে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সিপিডি ২০১৩-১৪ সাল থেকে টানগাইল শাড়ি এবং জামদানি শাড়ির জি আই পণ্যের স্বকৃতি নিয়ে কাজ করছে। জিআই পণ্য নিয়ে পাবলিকেশন ছিল তাছাড়া বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটা নীতিমালা ও পথ নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নীতি নির্ধারক পর্যায়ে জিআই পণ্যের স্বীকৃতির ব্যাপারে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যার ফলে ভারত টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই পণ্য হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এখন আবার সুন্দরবনের মধুও ভারত জিআই পণ্য হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাই বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে যে সকল ঐতিহ্যবাহী পণ্য রয়েছে সেগুলোকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেতে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় আমরা কোনদিনই বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোকে নিজেদের বলে দাবি করতে পারবে না। পণ্যগুলো জিআই তালিকাভুক্ত না করলে, অন্যরা নিয়ে নেবে।’