প্রান্তিক উদ্যোগ
হাসিব আল আমিন
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ১২:৪৯ পিএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪ ২২:৫৬ পিএম
ব্যাংকিং পেশা ছেড়ে খামার করে সফল হয়েছেনে বিলকিছ আক্তার
গ্রামীণ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে ১৮ বছর চাকরি করেছেন। একদিন হঠাৎ চাকরি ছেড়েও দেন বিলকিছ আক্তার। ২০২১ সালে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে ২ লাখ টাকায় দুটি গাভি কেনেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে ১৭টি গরুর বিশাল খামার বিলকিছের। খামার ঘিরেই তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা। বিলকিছের এ সাফল্যে পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরার পাশাপাশি এখন ব্যবসা বড় ও নতুন কিছু করার স্বপ্নও মাথা চাড়া দিয়েছে।
বিলকিছ আক্তার নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষবাগ গ্রামের বাসিন্দা। স্বামী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার।
সম্প্রতি সরেজমিনে বিলকিছের খামারে গিয়ে দেখা যায়, বসতঘরের পাশেই খামার। ভেতরে মেয়ে সায়মা ও ছেলে সিয়াম কাজ করছেন। কেউ গাভির পরিচর্যা করছেন, কেউ খাবার দিচ্ছেন। পাশে দাঁড়িয়ে বিলকিছ দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
বিলকিছ আক্তারের ছেলে সিয়াম ও মেয়ে সায়মা বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি আমরা আমার মাকে সহযোগিতা করি। খামারে সময় দিতে আমাদের ভালো লাগে। আমার মা সফল হয়েছেন, আমরা এ সফলতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।’
বিলকিছ আক্তার বলেন, ‘ফেনীর সোনাগাজীতে গ্রামীণ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ছিলাম। আমার স্বামীও ব্যাংকার। প্রায় ১৮ বছর চাকরি করেছি। চাকরি আরও ১৭ বছর ছিল। চাকরি ছেড়ে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে ২ লাখ টাকায় বাছুরসহ দুটি গাভি কিনি। তার পর থেকে আমার খামারে গরু বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে খামারে ১৭টি গরু ও বাছুর আছে। যাদের আনুমানিক দাম ২৫ লাখ টাকার ওপরে। এ বছর কোরবানিতে পাঁচটি গরু ৭ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। ভালো টাকা লাভ হয়েছে।’

তবে নারী উদ্যোক্তা হওয়া, বিশেষত খামারি হওয়ার পথটা সহজ ছিল না বিলকিছ আক্তারের। তিনি বলেন, ‘আমি শুরুর দিকে দুধ বিক্রি করতাম। আস্তে আস্তে দ্রুত বড় হতে থাকে খামার। দুধের পাশাপাশি গরুও বিক্রি করতে শুরু করি। আয় বাড়লে নতুন গরু কিনি। শুরুতে অনেকেই ভালোভাবে নিয়েছেন, আবার অনেকে নেননি। তবে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমির হোসেন আমাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন। আমার খামার শুরুর সময় তিনি এ উপজেলায় আসেন। চার বছরে তিনি আমাকে অভিভাবকের মতো সহযোগিতা করেছেন।’
বিলকিছ আক্তার আরও বলেন, ‘খামারে শ্রমিক আছে। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি আমাকে সময় দেয়। আমি চাই সবাই প্রতিষ্ঠিত হোক-সে পুরুষ বা মহিলা। কারও ওপর যেন নির্ভরশীল হতে না হয়। আমি মহিলা হয়েও আত্মনির্ভরশীল হয়েছি। এটাই আমার ভালো লাগা। আমার দেখাদেখি অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আমির হোসেন বলেন, ‘বিলকিছ আক্তার একজন সফল খামারি। তাকে দেখে এলাকার অনেকেই খামার করতে উৎসাহী হচ্ছেন। শুরুতে বেশ কিছু সমস্যা হয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি সহযোগিতার। তিনি আমাকে ফোন দিলে আমি শত ব্যস্ততার ভেতরেও ফোন ব্যাক করেছি, খবর নিয়েছি। আমার চোখের সামনে তার খামারের বেড়ে ওঠা। তিনি চেষ্টা করেছেন এবং সফল হয়েছেন। নারীরা পারে না এমনটা বলার সুযোগ নেই। এভাবে আত্মনির্ভরশীল হলে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রাণিসম্পদে দেশ সমৃদ্ধিশালী করতে নারীরা পিছিয়ে নেই। একটা-দুইটা গাভি দিয়ে তারা বিশাল খামার করে ফেলছেন। এতে অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয়। বিলকিছ আক্তার তেমনই একজন। আমরা তার সফলতা কামনা করি। এমন খামারিদের পাশে আমাদের প্রাণিসম্পদ বিভাগ রয়েছে।
লেখক : প্রতিবেদক, নোয়াখালী