প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৪ ২১:৩০ পিএম
দেশে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এজেন্ট ব্যাংকিং। ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন তথা টাকা জমা দেওয়া ও উত্তোলন করার জন্য সাধারণ মানুষকে এখন আর জেলা কিংবা উপজেলা শহরে যেতে হয় না। হাতের নাগালেই পাচ্ছে ব্যাংকিং সুবিধা। সহজেই ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে ও উত্তোলন করতে পারছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের এজেন্ট ও আউটলুট থেকে ঋণ সুবিধাও পাচ্ছে। তাই দিন দিন বাড়ছে এজেন্টের সংখ্যা। বাড়ছে আমানতও। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে আগের মাস মার্চের তুলনায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ কমেছে ১৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এমনকি কমেছে লেনদেনও। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে এজেন্টগুলোর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল ৮৮৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আর পরের মাস এপ্রিলে এজেন্টগুলোর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৭২২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সেই হিসেবে এপ্রিলে ঋণ বিতরণ কম হয়েছে ১৬২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
আর এসব ঋণ বিতরণের মধ্যে শহরের চেয়ে গ্রামে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ বেশি। তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে শহরের এজেন্টগুলো বিতরণ করেছে ২৪৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আর গ্রামের এজেন্টগুলো বিতরণ করেছে ৪৭৮ কোটি শূন্য ৪ লাখ টাকা। সেই হিসেবে এপ্রিলে শহরের চেয়ে গ্রামে ঋণ বিতরণ বেশি হয়েছে ২৩৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ৭২ হাজার ৯৫৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আর পরের মাস এপ্রিলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৬৭ হাজার ৪৫৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এপ্রিলে লেনদেন কমেছে ৫ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
এসব লেনদের মধ্যে শহরের তুলনায় গ্রামে লেনদেন অনেক বেশি হয়েছে। তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে শহরের এজেন্টগুলোতে লেনদেন হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আর গ্রামের এজেন্টগুলোতে লেনদেন হয়েছে ৫১ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এপ্রিলে শহরের চেয়ে গ্রামে লেনদেন বেশি হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৯৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। পরের মাস এপ্রিল শেষে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৯৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সেই হিসেবে এপ্রিলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ৮৫০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ৩১টি ব্যাংকে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম সেবা চালু রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে এজেন্টের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৮৩৫টি। আর পরের মাস এপ্রিল শেষে এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮৪০টিতে। এর মধ্যে শহরের এজেন্ট রয়েছে ২ হাজার ৫০৫টি এবং গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা রয়েছে ১৩ হাজার ৩৩৫টি ।
অপরদিকে মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ছিল ২১ হাজার ৬১৩টি। আর এপ্রিল শেষে আউটলেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫১৭টিতে। এসব এজেন্ট ও আউটলেটের প্রায় অধিকাংশই গ্রামে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট বা হিসাব ছিল ২ কোটি ২২ লাখ ৪৯ হাজার ৩৩টি। আর পরের মাস এপ্রিল শেষে হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৩২ হাজার ১৪৭টিতে। অর্থাৎ এপ্রিলে হিসাব সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার ১১৪টি। হিসাবগুলোর মধ্যে শহরের হিসাবের সংখ্যা ৩১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪টি এবং গ্রামে রয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩টি হিসাব।